টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য গোদারবিলের জামালিদা ও নাইট্যংপাড়ার ফয়েজ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার পরীমনির কান্না অথবা নিখোঁজ ইসলামি বক্তা এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে : শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ট্রাজেডি আজ পড়ে আছে বিলাসবহুল বাড়ি,নেই দাবিদার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লম্বাবিলে বাস—সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত

টেকনাফ সীমান্তের ৪৩ পয়েন্ট দিয়ে আসে ইয়াবা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৪৩ পয়েন্ট দিয়ে আসে ইয়াবা


মায়ানমারের সীমান্ত এলাকায় সেখানকার আটটি সংগঠন গড়ে তুলেছে ৩৭ ইয়াবা কারখানা। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে মায়ানমারের ওই এলাকা খুবই কাছে। সেখান থেকেই প্রতিদিন পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসে ৩০ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট। চোরাচালানীদের মাধ্যমে এই জীবনঘাতী মাদক ইয়াবা পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সর্বনাশা ইয়াবার ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে এদেশের যুব সমাজ। বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।তাই ইয়াবার শেকড় সন্ধানে নামে বাংলানিউজ। দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা অজানা চাঞ্চল্যকার তথ্য। আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব।
মায়ানমার সীমান্ত থেকে (টেকনাফ, কক্সবাজার): মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪৩ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসে ইয়াবা। এ পয়েন্টগুলো দিয়েই প্রতিদিন প্রবেশ করছে ৩০ লাখ ইয়াবা। পাচারের সময় সামান্য পরিমাণ ইয়াবা ধরা পড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। বড় অংশই গড ফাদারদের হাত ঘুরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
মায়ানমারে উৎপাদিত ইয়াবা বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের পয়েন্টগুলো দিয়ে নানা কৌশলে পৌঁছে দেওয়া হয় নির্ধারিত স্থানে। টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রায় ১৪ কিলোমিটার নাফ নদীর চ্যানেল এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট হিসেবে।
ইয়াবা চোরাচালানে ব্যবহার করা হয় ছোট নৌকা, ট্রলার ও মালবাহী ছোট জাহাজ। রোহিঙ্গা নারীর গোপনাঙ্গ এবং শিশুদের মলদ্বারে বিশেষ পদ্ধতিতে পনেরশ’ থেকে দুই হাজার ইয়াবা পাচার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৯০ ভাগ ইয়াবা নাফ নদী ও সাগর পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে মায়ানমার থেকে আমদানি করা কাঠ, মাছ ও অন্যান্য আমদানি পণ্যের মাধ্যমে বেশির ভাগ ইয়াবা বাংলাদেশে আসছে। আমদানি করা গাছে খোড়ল কেটে ও মাছের প্যাকেটের মধ্যে ইয়াবা আনা হয়। তবে এখন গড ফাদাররা সরাসরি বস্তাবন্দী করে ইয়াবা আনা শুরু করেছে।
টেকনাফ থানাধীন মায়ানমারের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর চ্যানেল ও বঙ্গোপসাগর, উখিয়া থানার ঘুনধুম, বটতলী, বালুখালী ও কুতুপালং হয়েও ইয়াবা আসে বাংলাদেশে।
মায়ানমারের মংডু এবং টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন এলাকা ইয়াবা পাচারের প্রধান পয়েন্ট হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের শাহপরীর দ্বীপ বিওপি এলাকার শাহপরী দ্বীপের জেটি ঘাট, জালিয়াপাড়া, ঘোনাপাড়ার বিপরীতে মায়ানমারের মংডু এলাকার শিকদার পাড়া, হাড়ি পাড়া ও ফরায়েজী পাড়া, সাবরাং বিওপি এলাকার সাবরাং নয়াপাড়া, ৩ ও ৪ নম্বর স্লুইচ গেট এলাকা এবং তার উল্টোদিকের মায়ানমারের ফয়েজীপাড়া, উকিল পাড়া ও বোমপাড়া এলাকা দিয়েও ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
টেকনাফ বিওপি এলাকার আড়াই নম্বর স্লুইচ গেট, মৌলভী পাড়া, নাজিরপাড়া, হাবিবপাড়া, ডেইলপাড়া, শিলবনিয়া পাড়া, চক বাজার, আলিয়াবাদ, খানকাপাড়া, ২ নম্বর স্লুইচ গেট, পুরাতন ট্রানজিট ঘাট এলাকার জালিয়াপাড়া, চৌধুরী পাড়া, কুলাল পাড়া, নাইটংপাড়া ও হ্যাচারী খালের বিপরীতে মায়ানমারের মংডু খাল ও কাইয়াংখালী খাল দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
দমদমিয়া বিওপির বোড়াইতলী, কেরুণতলী, টেকনাফ বন্দর, দমদমিয়া ১৪ নম্বর জাহাজ ঘাট, হাজিরখাল, জাদুমোড়া, জালিয়াঘাট মৌচনি এলাকা, হ্নীলা বিওপির রঙ্গীখালী, আলীখাল, আনোয়ার প্রজেক্ট, নীলা চৌধুরী পাড়া, জালিয়াপাড়া, কাস্টমসঘাট এবং  জীম্বখালী বিওপির খারংখালী মগপাড়া, ২, ৩  ও ৪ নম্বর সুইচ গেট এলাকা দিয়েও ইয়াবা আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী নাসাকা এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ পাস দেয়। সে দেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পয়েন্ট পার হয়ে মংডু এলাকায় ইয়াবা পৌঁছে দেয় এ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ইয়াবা বহনকারীদের বেশিরভাগই শান স্টেট এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সক্রিয় সদস্য।
ইয়াবা বহনকারীরা পরিচয় গোপন করে মংডু ও বুথিডং এলাকায় ইয়াবা পাচার করে। মায়ানমারের কারখানাগুলোর বেশির ভাগই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের অর্থের উৎস। তাই ইয়াবা উৎপাদন, বিতরণ ও বহনের কাজে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।
মায়ানমারের ৮ সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ৩৭ কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা মিয়ানমার ভিত্তিক ১০ জন ডিলারের মাধ্যমে এসব পয়েন্ট দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফের ১৭ জন ডিলারের কাছে।
পাচার হয়ে আসা এসব ইয়াবা পরে শাহ পরীর দ্বীপ-টেকনাফ-চট্টগ্রাম, টেকনাফ-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-আরাকান-ঢাকা সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের মাধ্যমে আকিয়াব-সেন্টমার্টিন-মহেশখালি-কুতুবদিয়া-চট্টগ্রাম হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT