টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে অবৈধভাবে বসবাস করছে অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১২
  • ১০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রমজান উদ্দিন পটল,টেকনাফ / সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা পর্যটন এলাকা কক্সবাজারের টেকনাফ উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করে অবাধে  বসবাস গড়ে তুলছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা টেকনাফ ককসবাজারের ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতে বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়ে গড়ে তোলেছে অবৈধ বসতি। সুত্রমতে মিয়ানমারের আনুপ্রবেশকারী প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বির্স্তীণ সমুদ্র সৈকতের ঝাউবনে আবৈধ  স্থাপনা নির্মান করে বসবাস করছে। এসব রোহিঙ্গারা বিগত  বিভিন্ন সময় সীমান্তেও বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করে। অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সৈনিকেরা কড়া প্রহরা দিলে রোহিঙ্গারা গভীর সমুদ্র হয়ে কৌশলে বাহারছরা উপকুলে অনুপ্রবেশ করে সমুদ্র সৈকতের সরকারী ভুমিতে ঝুপড়ী গড়ে তোলে বসবাস করছে। বর্তমানে বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত জুড়ে রোহিঙ্গা বসতিতে ভরে  উঠেছে। রোহিঙ্গারা সৈকতে বসবাস করে পরিবেশের ক্ষতিকর ও অপরাধ জনিত কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ায় এলাকায় আইন শৃংখলার মারাত্বক অবনতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে
সম্প্রতি মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে জাতিগত সহিংসতার জের ধরে নাফ নদীর জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে টেকনাফ সীমান্তে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে বিজিবি কোষ্টগার্ড প্রহরা জোরদার করেছে।  রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি। পরে তাদের খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিয়ে পুশব্যাক করা হয়। টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়ান বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে গতকাল ২ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ৮৬ জন অনুপ্রেেবশকারী রোহিঙ্গা নর-নারী-শিশুকে আটক করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিয়ে তাদের পুশব্যাক করা হয়। উপজেলা নির্বাাহী কর্মকর্তা-সীমান্তে প্রশাসন সতর্কাবস্থায় রয়েছে। যাতে কোনভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না পারে।  এব্যাপারে জরুরী সভা ডেকে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। অপরদিকে টেকনাফ ককসবাজার সমুদ্র সৈকতে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। উপরোক্ত বিষয়ে
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা শামশুল  ইসলাম বলেছেন-উপকূলীয় এলাকায় বসতি গড়ে তোলা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে উর্ধবতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনার বিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নব নিযুক্ত ইউএনও সৈকতে ব্যাপকারে অবৈধ বসতি স্থাপনের খবর শুনে তিনি সরজমিন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান।
টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জাহিদ হাসান বলেন, স্থানীয়দের দেখাদেখি রোহিঙ্গারাও  উপকূলীয় সমুদ্র সৈকতের সরকারী জমিতে ঝুপড়ী স্থাপন করে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজরদারী করতে হবে। সৈকতের সৌন্দর্য্য বর্ধন, শৃংখলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি উপকূলে কোষ্টগার্ডের ক্যাম্প স্থাপন প্রয়োজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- সমুদ্র সৈকতের টেকনাফ লেঙ্গুরবিল, বাহারছরা শাপলাপুর, শীলখালী, বড় শীলখালী হতে মনখালী ব্রীজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ঝাউবনে বসবাস করছে প্রায় ১৯ শত রোহি্গংা পরিবার।টেকনাফ সদও ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল, নেয়াখালীপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার উপকুলে বসতি গড়ে তুলেছে প্রায় ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার। এসব রোহিঙ্গারা তলিকা তৈরী করে নিজেদের মধ্যে সমাজ গঠন করে । বিভিন্ন অসাধু মহল রোহিঙ্গাদের নানান সহায়তা দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে উখিয়ার মনখালী, চেপট খালী, রুপপতি, টেকনাফের মাথাভাঙ্গা, বড়ডেইল, জাহাজপুড়া নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার সমুদ্র সৈকতে বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা বসতি গড়ে উঠেছে। একারণে দেশে রোহিঙ্গাদের অভিশপ্ত বোঝা ক্রমশ: ভারী হয়ে উঠার পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতের মারাত্বক পরিবেশ বিপর্যয় ও আইন শৃংখলার অবনতির আশংকা প্রকাশ করেন পরিবেশবাদী মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ######

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT