টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ উপজেলার জীবন-মরনের একমাত্র শেষ ঠিকানা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ….স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় ,সেখানে ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে ডিটেইলিং ব্যাগ বা ব্রিফকেস হাতে নিয়ে পায়চারী করছেন। বিভিন্ন কোম্পানীর এমআরদের একটি দল এ সময় অপেক্ষামান শতাধিক রোগী থাকলে ও ডাক্তারদের নিয়োজিত কমচার্রীরা কিছুক্ষণ পরপর এমআরদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ রাখে এমআরদের উপস্থিতেই ডাক্তারেরা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নামে অনেকটা দায়সারা ভাবে ব্যবস্থাপত্রে কিছু ঔষধের নাম লিখে দিয়ে বিদায় করে দেয়। টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গোলাপজান নামের এক রোগী জানালেন ভিতরে একজন পুরুষ(এমআর)থাকায় তিনি ডাক্তারকে মহিলা সংক্রান্ত জটিল রোগের কথা বলতে পারেননি । মানুষটিকে দেখে আরও শরম (লজ্জা) লাগায় গোপন সমস্যার কথা বলতে পারিনি বলে জানান তিনি। হাসপাতালে গাইনি রোগের চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন মহিলার সাথে কথা বলে জানা গেছে গাইনী রোগের ডাক্তরের রুমে এমআর বসে থাকায় কারণে তারা ডাক্তারকে তাদের কথা ভালো করে বলতে পারেননি। ডাক্তার ও এমআর কথায় মশগুল ও হাসি তামাশার মধ্যে লিপ্ত থাকে । এই সমস্যা সরকারী হাসপাতালে নয় গলাকাটা ক্লিনিক গুলোতে এ অবস্থা আরো ভয়াবহ । টেকনাফ ডাক্তারেরা কমিশন বানিজ্য নেওয়ার জন্য গড়ে তুলেছে নাফ প্যাথলজি সেন্টার , সীমান্ত প্যাথলজি সেন্টার ,কেয়ার ল্যাব সহ ডাক্তারদের চেম্বার সহ জরুরী বিভাগে ও নার্স কন্টোল রুম পর্যন্ত এমআর চলছে দৌরাত্ম্য । এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তারকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান চিকিৎসা একটি যে মহান পেশা আজকের দিনের ডাক্তারেরা তা ভূলে গেছেন, বর্তমানে ডাক্তারেরা এতই নিচে নেমে গেছেন যে,তাদের রোগীর কাছ থেকে নেয়া ফি নিয়ে আর দিন চলে না । ক্লিনিকগুলো ও প্রতিটি পরীক্ষার জন্য নিদিষ্ট পরিমাণের কমিশন দিয়ে থাকে ডাক্তারদের । তাতে ও তাদের মন ভরে না । শুধুমাত্র বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর কাছ থেকে স্যাম্পল (নমুনা ঔষধ)নিয়ে তা ফার্মেসীতে বিক্রি করার জন্যই তারা সাধারণ রোগীদের হয়রানি করে এসব এমআরদের বসিয়ে রাখে হাসি তামাশা করে । এ ছাড়া অনেক ডাক্তার এসব এমআরদের তাদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকে তাই অতিরিক্ত কিছু মানুষ চেম্বারের সামনে বসিয়ে রাখে । ডাক্তারেরা বসিয়ে রেখে কথা বলে মজা পায় বলে জানালেন তিনি তাদের সাথে ইয়াবার ব্যবসা করার কথা চলে । সম্প্রতি এমআরদের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা জমজমাট চলছে। এসআর (ফরিয়া ) কমিটির নেতা ও ইয়াবা সহ কক্সবাজারে আটক হই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে একজন এমআর বলেন আমাদের করার কিছুই নেই । ডাক্তার ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় বলে আমরা ভিতরে যায়। টেকনাফ হাসপাতালের সামনে প্রতিবেদক দেখতে পান সেখানে ডাক্তারদের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসার পরপরই এমআরদের মধ্যে রোগীর প্রেসক্রিপশন দেখার জন্য এক ধরণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। ডাক্তারেরা কোন কোম্পানীর ঔষধ লিখছেন তাই নিয়ে আলাচনা সমালোচনা করেছেন বাইরে । অনেকে তাদের ঔষধ না লেখায় আগামী মাস থেকে কোম্পানীর পক্ষ থেকে মাসিক -টু পাইস দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ও কয়েকজন সহকর্মীকে জানান । জানা যায় ডাক্তারেরা যেমন কোম্পানীর প্রেসক্রিপশনে লিখেন সেসব কোম্পানীর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়ে থাকেন। কোম্পানীতির ঔষধ মানস¤পন্ন কিনা তাতে তাদের কিছুই যায় আসেনা । কোন কোম্পানী সবচেয়ে বেশি টাকা দেয় সেটি প্রধান হয়ে দাঁড়ায় ডাক্তারের কাছে । কিছুদিন আগে ‘‘নাভানা ” নামক একটি কোম্পানী কয়েকজন ডাক্তারকে ঠিকমতো টাকা পরিশোধ না করায় শুধুমাত্র দু-দিনের ব্যবধানে বর্তমানে এসব ডাক্তার ঔষধ লেখা বন্ধ করে দিয়েছে ।এ ধরণের নোংরা কাজে ডাক্তারদের জড়িত করে থাকে এক ধরণের নিম্ন মানের ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনধি নামে পরিচিত এম,আর (মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ)রা । তারা ডাক্তারদের নানা ধরণের লোভে ফেলে তাদের কোম্পানীর ঔষধ লিখতে বাধ্য করে থাকে । আগে এ ধরণের কাজে মদ ,গাজা, টিভি ,ফ্রিজ,গ্লাস সেট,সহ নানা ধনণের পন্য ব্যবহার করা হলে ও বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে ঔষধ কোম্পনীর এক প্রতিনিধি সাবেক পঃ পরিকল্পনা কর্মকর্তা কে পতিতা এক নারী এনে যৌন মিলন করার শেষে বের করে দেওয়া সময় স্থানীয় ছেলেদের হাতে ধরা পড়ে। পরে টাকা দিয়ে চাকুরীর সমস্যা হবে বলে ক্ষমা চেয়ে পতিতাও ডাক্তারকে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ডাক্তারদের ঘরের বাজার থেকে শুরু করে সন্তান লালন পালন , সন্তানদের স্কুল থেকে আনা নেয়ার কাজ সহ এমন কোন কাজ নেই । যা ডাক্তরেরা এমআর মাধ্যামে করে থাকে না।আগে এ ধনণের কাজে নিম্নমানের ্ওষধ কোম্পানীগুলো জড়িত থাকলে ও বর্তামানে সেখানে স্কয়ার ,বেক্সিমকো ,রেনেটা ,ইনসেপ্টা , বায়োফার্মা,ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল,একমি ,আপসোনিন ,ওরিয়ন , এসিআই,এভেন্টিস ,বীকন , এর মতো বড় বড় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। অর্থনেতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বায়োফার্মা ও জেনারেল ওষধ কোম্পানী। এসব কোম্পানী ডাক্তারদের নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের মাধ্যামে কোম্পানীর নানা ধরণের ঔষধ প্রেসক্রাইব (লিখিয়ে)করিয়ে থাকে । ডাক্তারেরা লিখতে না চাইলে তাদেরকে বাধ্য করা হয়। হুমকি দেওয়া হয় সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া।এসব বড় কোম্পানীগুলোর এমআরদের চাপে ডাক্তারেরা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লিখতে বাধ্য হয়। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ রোগী য়ারা এসব ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।অনেক সময় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষেরা এমআরদের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হলে ও বেশিভাগ সময় সবাই নিরব থাকেন। এমআর শরীরে কোট-টাইসহ উন্নতমানের কাপড় চোপড় থাকায় কেউ এ ধরণের ভদ্র মানুষের কিছু বলেতে চায়না। এ ব্যাপারে ্ওষধ কোম্পানীর এক এমআর সাথে জানতে চাওয়া হলে টাকা ও পয়সা আমাদের কোম্পানী দেয়না তবে পুরস্কার দেয়। য়ারা এ ধরণের অভিযোগ করছে তারা বলতে পারবে কাকে কত টাকা দেয়া হচ্ছে। সে আরো বলেন ওষধ ব্যবসা নির্ভর করে ডাক্তারের সম্পর্কের ভিত্তিতে । অপরদিকে সচেতন মহল মনে এ নিয়ম প্রচলিত থাকলে রোগীদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এখানে অভিজ্ঞ মহল মতে টেকনাফের সাধারণ জনগণের মারধরের আভ্যাস আছে। এমআরদের সম্মানহানি হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে উদ্ধর্র্তন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা সিভিল র্সাজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT