টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপে প্রতিমাসে পঁেচ যাচ্ছে কোটি টাকার কাঁচাপণ্য: ১২ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রমজান উদ্দিন পটল, টেকনাফ (কক্সবাজার) থেকে ॥                                     টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপে বঙ্গপোসাগরের ক্রমাগত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বিশাল এলাকা। বিগত বিভিন্ন সনে ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় বাঁধের বিশাল অংশ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। বিধ্বস্থ হয়ে পড়ে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সড়ক। এ কারণে গত ৬ মাস ধরে শাহপরীরদ্বীপ দেশের ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অদ্যাবধি বাঁধ ও সড়ক নির্মিত না হওয়ায় জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হচ্ছে দ্বীপ এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা ও সাঁকো দিয়ে টেকনাফ যাতায়াত ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আনানেয়াতে চরম দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। শাহপরীরদ্বীপ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য জোন এলাকা। এছাড়া পান, সুপারী, লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাগর থেকে শিকার করা মাছ, উৎপাদিত লবণ, পান, সুপারি ও কাঁচা কামলামাল পরিবহণ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে প্রতিমাসে পঁেচ যাচ্ছে কোটি টাকার কাঁচা পণ্য। শুধু তা নয়, সদ্য নির্মাণাধীন শাহপরীরদ্বীফ পশ্চিম পাড়ার রিং বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকার উৎপাদিত লবণ সাগরের পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে বাঁধের ভাঙ্গ অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত প্লাবিত হওয়ায় এলাকার প্রায় ১২ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গতকাল ২ ডিসেম্বর দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে এ ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরী ভিত্তিতে নির্মিত শাহপরীরদ্বীপ বিধ্বস্থ বেড়ী বাঁধের রিং বাঁধও ভেঙ্গে গিয়েছে। এতে শাহপরীরদ্বীপের ৫টি গ্রামের কয়েকশ বতসবাড়ী, রোপা আমন, মৌসুমি সবজি, প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর সরেজমিন বিধ্বস্থ বেড়ী বাঁধ পরিদর্শন করার দিনেই রিংবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৮ নং ফোল্ডারে শাহপরীরদ্বীপের পশ্চিম পাড়া বিধ্বস্থ বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গন অংশ জরুরী মেরামতের জন্য অতি সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০ লক্ষ টাকা রিং বাঁধের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিল। স্থানীয় জনসাধারনও এই রিং বাঁধে আর্থিক সহযোগীতা দিয়েছে। কিন্তু রিং বাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ২৮ ডিসেম্বর রাতে আবারো ভেঙ্গে গিয়ে গ্রাম প্লাবিত হয়। উক্ত রিং বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও কাজে অজ্ঞতার কারণে বাঁধের ভাঙ্গন ধরে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি খুবই নাজুক। এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ রোধে আদৌ পরিকল্পিত উন্নয়ন বরাদ্ধের আলো না দেখায় এবং অতি জরুরী টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম আতংকে রয়েছে।
###################

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT