টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ – মংডু সীমান্ত বাণিজ্যের দেড় যুগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:::: ৫ সেপ্টেম্বর সীমান্ত জনপদ টেকনাফবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৯৫ সনের ৫ সেপ্টেম্বর বর্ষণ মুখর এই দিনে বাংলাদেশের টেকনাফ এবং মিয়ানমারের মংডু টাউনশীপে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঝাকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। এসব অনুষ্ঠানে উভয় দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া কর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্বল্প পরিসরে চালু হওয়া সীমান্ত বাণিজ্য হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ ১ যুগ পূর্ণ করে ১৯তম বর্ষে পদার্পন করেছে। অবকাঠামো সহ নানা ধরণের সমস্যা এবং সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও সরকার টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। রপ্তাণী বাণিজ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন আইটেমের পণ্য। এদিকে দেরীতে হলেও সীমান্ত বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করে ক্রমান্বয়ে তা নিরসন করতে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার ট্রেড জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। বাংলাদেশের টেকনাফ ও কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের মংডুতে ইতিমধ্যে এই গ্রুপের বেশ ৮টি  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাগুলোতে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ সমস্যা সমূহ দুরীকরণের সুপারিশ এবং প্রস্তাব তৈরি বিশেষতঃ বর্ডার হাট চালু ইত্যাদি চুড়ান্ত করা হয়েছে। যা টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সম হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে ১৯৯৫ সনে ৫ সেপ্টেম্বর টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য চালু হওয়ার পর থেকে গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত ১৮ বছরে টেকনাফ স্থল বন্দর কাষ্টম্স মোট রাজস্ব আয় করেছে ৭৭৪কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৩ টাকা এবং এই ১৮ বছরে টেকনাফ থেকে ৮৫ কোটি ৭৯ লাখ ২৫ হাজার ৭২ টাকা মূল্যের বাংলাদেশী পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানী হয়েছে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ঘটনা বহুলের মধ্য দিয়ে ১৮তম বর্ষ সম্পন্ন করে আজ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই বর্ষপূর্তি এবং নববর্ষে পদার্পন উপল্েয কাষ্টমস, বন্দর কর্তৃপ, আমদানী-রপ্তানীকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন বা সরকারী বেসরকারী কোন সংস্থা কোন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি। স্বল্প পরিসরে শুরু হওয়া এই সীমান্ত বাণিজ্য আজ সম্ভাবনাময় বিশাল েেত্র পরিণত হয়েছে। টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য চালু হওয়ার পর প্রথম ৪ আর্থিক বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব আয়ের কোন ল্যমাত্রা ছিলনা। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৭৯ লাখ ৯৮ হাজার ১১৬ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৭ টাকা। ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ২৫৮ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ১ কোটি ৮১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৬ টাকা। ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৯৫ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল- ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ৭৮০ টাকা। ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৬৯ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৯৭৩ টাকা। ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে বার্ষিক ল্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৮ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ৩২৬ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৫ টাকা। ২০০০-২০০১ অর্থবছরে নির্ধারিত ল্যমাত্রা ছিলনা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৯ কোটি ৮লাখ ৯২ হাজার ৭১৫ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৭ টাকা। ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বার্ষিক ল্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ৯৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৭ টাকা। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ১৩ কোটি ৭৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা।  রাজস্ব আয় হয়েছিল ২৭ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৭ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ২১ হাজার ৩৭৬ টাকা। ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ৯২৩ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ২ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪২ টাকা। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ৬১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৪২০ টাকা। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ৫৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৮১ লাখ ৮২ হাজার ৫৮৭ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ২ কোটি ৫৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৫ টাকা। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৮৭ কোটি ৯৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৭১ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ২ কোটি ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৫ টাকা। ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ৯৫ কোটি ১৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৬৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩০১ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৩৮২ টাকা। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৩ লাখ ১১ হাজার ৬২৮ টাকা। রপ্তানী মূল্য ছিল ৮ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৮৪ টাকা। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ৬৮ কোটি ২১ লাখ ৫২ হাজার টাকার ল্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আয় করেছিল ৭৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬০ টাকা। রপ্তানী হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩০ টাকা মূল্যের পণ্য। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ল্যমাত্রা ছিল ৭৪ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার  টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছে ৯০ কোটি ৩৭ লাখ ৮৮ হাজার ২ শত ৬৭ টাকা। উক্ত অর্থবছরে ১১ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬শত ৫৫ টাকা মূল্যের বাংলাদেশী পণ্য টেকনাফ বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে রপ্তানী হয়েছে। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর টেকনাফ স্থল বন্দর কাষ্টম্সকে রাজস্ব আয়ের ল্যমাত্রা নির্ধারিত করে দিয়েছিল ৮৪ কোটি ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। সেহিসাবে মাসিক ল্যমাত্রা হচ্ছে ৭ কোটি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩ টাকা ৩৩ পয়সা। রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৯৭ টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ৫২ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৫২ টাকা। রপ্তানী হয়েছে ৫৫২ টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের বাংলাদেশী পণ্য টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে রপ্তানী হয়েছে। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সব মিলে রাজস্ব আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ৬২ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬০ টাকা, রপ্তানী হয়েছে  ৫৩০ টি বিল এক্সপোর্টের মাধ্যমে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৪ টাকা মূল্যের বাংলাদেশী পণ্য । আগষ্ট মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৩ টি বিল এন্ট্রির মাধ্যমে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকা এবং রপ্তানী মূল্য হচ্ছে ১৮ টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে ৩৮ লাখ ৭ হাজার ৫২৮ টাকা। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ সহ ৪ দিনে ২৯ টি বিল এন্ট্রির বিপরীতে সব রাজস্ব আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৯ হাজার ৮১২ টাকা এবং এই ৪ দিনে ৫ টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩১ টাকা মূল্যের বাংলাদেশী মিয়ানমারে রপ্তানি হয়েছে। । ####

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT