হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিম আর নেই

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ **

টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও টেকনাফের শিক্ষার আলোকবর্তিকা ফজলুল করিম আর নেই। আজ শনিবার সকাল ৮:২৫ টায় তিনি ঢাকায় হলি ফ্যামিলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি অ-ইন্না ইলাহি রাজেউন )।

তিনি একাধারে শিক্ষকতা ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলার প্রথম শ্রেনীর অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর (জাতীয় পরিচয় পত্র) । তিনি ৩ ছেলে ও ৫ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

কক্সবাজার সদর ইউনিয়নের ভারুয়াখালীর এই কৃতি পুরুষ মরহুম ফজলুম করিম দীর্ঘসময় টেকনাফের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

মরহুমের ছেলে এ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিম নিউজ টেকনাফকে পিতার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করে জানান, বাবার মরদেহ এখনো ঢাকায় (১১:০০ টায়)। তবে বাবার দাফন এবং জানাজা ভারুয়াখালীতে হবে। জানাজার সময়টি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

মিস্টার সাজ্জাদ, তার পিতার বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষার্থী, আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্খীসহ সবার কাছে পিতার রুহের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া ও কর্মময় জীবনের ভুল ত্রুটির ক্ষমা চেয়েছেন।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন :

মরহুম ফজলুল করিম পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী তিনি বৃহত্তর চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন সফর করেছিলেন। তিনি সেই সফরে ভারুয়াখালীকে আলাদা ইউনিয়ন ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ফজলুল করিম ভারুয়াখালী ইউনিয়নেরও সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। ভারুয়াখালীবাসি তাকে ভারুয়াখালী ইউনিয়নের জনক হিসেবে চিনে।

১৯৭৭ সালে তদানীন্তন কক্সবাজার মহকুমার প্রথম শ্রেণীর অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ পান। ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পাঁচ বৎসরে (১২) বার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। ন্যায় বিচারের এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি।

১৯৭৯ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতিরি সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং জেলা বিএনপির প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এসময় তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেরও সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন সৎ, উদার ও কর্মবীর। তার মধ্যে কখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ঠাঁই পায়নি।

ব্যক্তিজীবনে বহু প্রতিভার অধিকারী ফজলুল করিম নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। ইংরেজী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তার অসাধারণ পান্ডিত্য ছিল।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী এই মহৎ মানুষটির মৃত্যুর খবরে জেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.