টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ-কক্সবাজার উপকূলের লাখ লাখ মানুষ চরম ঝুঁকির মুখে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১২
  • ২১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নজির আহমেদ সীমান্ত… সাম্প্রতিক সময়ের ৩ দফা বন্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সহসা মেরামত হচ্ছে না। ফলে অমাবশ্যার জোয়ারেও প্লাবণ আশংকায় রয়েছে জেলার উপকূলের তিন লক্ষাধিক মানুষ। অথচ আর মাত্র কয়েকদিন পর আসছে মুসলমানদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্টান ঈদুল ফিতর। সামুদ্রিক জোয়ার-ভাটার সাথে যুদ্ধ করে বসবাস করা এসব মানুষের মাঝে ঈদুল ফিতর আনন্দ হয়ে আসছে না। একদিকে পানির প্লাবন, অন্যদিকে অভাব কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তাদের। ফলে পরিবারের কারো জন্য কেনা হচ্ছে না ঈদের নতুন জামা কিংবা সেমাই।
স্থানীয় সূত্র জানায় , চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবন্যা এবং পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার জোয়ারে উপকুলীয় বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতি বর্ষণ ও সাগরের বাড়ন্ত পানির জন্য সেসব বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়ে উঠছে না। ফলে বেড়ীবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে অনায়াসে লোকালয়ে প্রবেশ করছে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি। পূর্ণিমার প্রভাবে সামুদ্রিক জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে গেলে কক্সবাজার জেলার উপকুলীয় বিভিন্ন এলাকায় প্লাবন দেখা দেয়। এরমধ্যে সমুদ্র উপকুলীয় টেকনাফ ও পেকুয়া এবং দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত ৩ লাখ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। গত পূর্ণিমার জোয়ারে মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা দ্বীপ প্রায় ডুবে যায়। এসময় ধলঘাটার ৩ কিশোর পানিতে ডুবে মারা যায়।
স্থানীয়রা জানান, পূর্ণিমার জোয়ারে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীদ্বীপ ও নাজির পাড়া, পেকূয়ার মগনামা, উজানটিয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা ও কুতুবদিয়ার অসংখ্য গ্রামে জোয়ারের পানি আসা যাওয়া করেছে। বিগত বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে এসব এলাকার ২০ কিলোমিটারেরও বেশি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে।
উপকুলীয় এলাকার লোকজন জানান, অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্রতি মাসে অন্তত ৬ দিন সামুদ্রিক জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
দূর্ভোগ তাড়িত উজানটিয়ার আবদুল গফুর বলেন, পূর্ণিমার জোয়ারের পানির ধাক্কা সামলে উপকূলের মানুষ সবে একটু ক্ষান্ত হয়েছে। কিন্তু অমাবশ্যার জোয়ারের পানি কি পরিমাণ বাড়ছে তা নিয়ে নতুন আতংক তাড়া করছে ভুক্তভোগীদের। অমাবশ্যার জোয়ার পূর্ণ হবার সময়ে হয়তো সবার সামনে এসে দাঁড়াবে ঈদুল ফিতর। স্থল এবং শহর এলাকার লোকজন যখন ঈদের আনন্দ শেয়ার করতে উৎসুক থাকবে সে সময় হয়তো আমাদের মতো উপকূলের মানুষ জোয়ার-ভাটার তাড়া সামলাতে ব্যস্ত থাকব।
কক্সবাজার পাউবো সূত্রও দাবি করেছে, উপকূলের অনেক বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। হয় বর্ষণ নয়তো জোয়ারের পানি অব্যাহত থাকায় সহসা ভঙ্গুর এসব বাঁধ মেরামত সম্ভব হচ্ছে না।
সুত্র আরো জানায়, এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হবে।
কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজার উপকূলে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষ এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ অবিলম্বে মেরামত করা না হলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া তাদের ঈদ আন্দ স্বাভাবিক করতে বিত্তবান সকলের এগিয়ে আসা উচত বলে মতদেন তিনি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT