টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

টেকনাফ ও চকরিয়ার দুইশ গ্রাম প্লাবিত : কক্সবাজারে টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে রামু, উখিয়া,পানিবন্দী ৫ লাখ মানুষ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৩
  • ১২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ সেলিম, Flood~1কক্সবাজারে শুক্রাবার রাত থেকে রবিবার দুই দিনের টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চকরিয়ার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চিংড়ি ঘের, ফসলী জমি ও আমনের ব্যাপক তি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চার উপজেলার ৫ লরেও বেশী মানুষ। তীব্রভাবে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া দুইদিন ধরে প্রশাসনের প থেকে কোন ধরনের ত্রান সহায়তা না পাওয়ায় মানবেতর সময় পার করছে বানভাসী মানুষ।

এদিকে টানা বর্ষনে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজার-টেকনাফ ও রামু-নাইংছড়ি সড়কের উপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে সড়ক ধসে যাওয়ায় মহেষখালী-চকরিয়া ও মহেষখালী-শাপলাপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মারাত্মক দূর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়, ২ দিনের টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে রামু, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফের অন্ত ৩২ টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট সহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। রামুর শ্রীকুল, হাইটুপী, পূর্ব মেরংলোয়া, ভুতপাড়া, ফুলনীর চর, কাউয়ারখোপ, মনিরঝিল, মইশকুম, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড়, জোয়ারিয়ানালা, চাকমারকুল, মিস্ত্রী পাড়া, চকরিয়ার সাহারবিল, বদরখালী, চিরিঙ্গা, উখিয়ার সদর এলাকা, চেপটখালী, পাগলীর বিল, ইনানী, সোনাপাড়া, টেকনাফের হ্নীলা, জালিয়া পাড়া, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ সহ ২ শতাধিক গ্রাম তলিয়ে গেছে। রামু উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান মুন্নি বলেন, ক’দিনের টানা বর্ষনে জনজীবনে নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ী ঢলে বাঁকখালী নদীর পানি বেড়ে ভয়াবহ বন্যায় পরিনত হতে পারে বলে তিনি আশংকা করেন।

এদিকে টানা বৃষ্ঠিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার শহর । কক্সবাজারের হিমছড়ি ঝর্ণার পাহাড় ধ্বসে পড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য হিমছড়ি পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভারি বর্ষণ হওয়ায় এটি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দণি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিপুল কৃঞ্চ দাস। তিনি বলেন, ভারী বর্ষনের কারনে শনিবার সকালে হঠাৎ করেই হিমছডড়ি পর্যটন স্পটের বড় ঝর্ণাটির উপরের কিছু অংশ ধ্বসে পড়ে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখেই হিমছড়ি পর্যটন স্পট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমে আসলে ঝর্ণাটি দ্রুত সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে। এছাড়া টানা ভারী বর্ষনে কক্সবাজার শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া, সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, ফদনার ডেইল, নাজিরারটেক, বাসিন্না পাড়া, উত্তর নুনিয়াছড়া, পেশকার পাড়া, বড়বাজার, ফুলবাগ, টেকপাড়া, বাজারঘাটা, গোলদিঘীরপাড়, চৌধুরী পাড়াসহ প্রায় অর্ধশত এলাকার শত-শত বাড়িতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নালা-নর্দমা ও রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র বাজারঘাটা এলাকার অর্ধশত দোকানে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে। ফলে এসব দোকানের লাখ-লাখ টাকার পণ্য হয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল জানান, নির্বাচনের দুই বছর পর কেবল শপথ গ্রহন করে দায়িত্ব নিয়েছি। এলাকাবাসির সাথে কথা বলে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারন সম্পাদক কল্যান পাল জানিয়েছেন, শহরের গোলদিঘীর পাড়ের গোল দীঘিতে পাড় ভেঙ্গে যাওয়াতে প্রধান সড়কে গলা পরিমাণ পানি উঠেছে। তাছাড়া বাজার ঘাটা এলাকায়ও বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে কোমর পরিমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শহরের মানুষ চলাচল করতে পারছেনা। কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক মো: রুহুল আমিন জানান, দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রান সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ————————————————————————————

মোহাম্মদ সেলিম কক্সবাজার, তাং-১৮ আগষ্ট ২০১৩ ইং। মোবাইল-০১৮১৮৫৮৭০৪৪, ০১৭৫২০৪১১৩৭

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT