টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে ১৪৪ ধারা জারি..ঘটনার উস্কানী নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য/দূ’টি মামলা/ আটক- ২৫

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১২
  • ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শামশুল আলম শারেক, …টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বড়ুয়া পাড়ায় হামলা, বসত-ঘর ভাংচুর, অগ্নি সংযোগের ঘটনায় পুলিশ ব্যাপক ধর পাকড় শুরু করেছে। হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নুর আহমদ আনোয়ারীকে প্রধান আসামী করে ২টি মামলা দায়ের। সম্ভাব্য সহিংসা ঘটনা এড়াতে প্রশাসন টেকনাফ উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। ১ অক্টোবর এ রিপোর্ট (সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা) লিখা পর্যন্ত পুলিশ ২৫ জনকে আটক করেছে। পরিস্তিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশি ধর পাকড়ের ভয়ে পুরো হোয়াইংক্যং ইউনিয়নের জনগন পুলিশি আতংকের মধ্যে রয়েছে। হোয়াইক্যংয়ের বড়–য়া পাড়াসহ গোটা টেকনাফ উপজেলায় অতিরিক্ত বিজিবি-পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে। প্রসংগত- ককসবাজারের রামু উপজেলার জনৈক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বি বিসিকের কর্মচারী উত্তম কুমার বড়–য়া “ইনসাল্ট আল্লাহ” নামক ফেসবুক একাউন্ট থেকে কোরআনের উপর পা রাখা ছবি প্রদর্শন করার ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের মুসলিমরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মিছিল সহকারে গিয়ে হোয়াইক্যংয়ে বড়–য়া পাড়ায় বসত-বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে ৮/১০ টি বসত-ঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এতে ৩টি বাড়ী সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। পরে বিজিবি-পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাতে ছত্রভঙ্গ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বখতিয়ার চৌধুরীসহ ২১ জন আহত হয়। এদিকে এ ঘটনায় উস্কানী দেয়াকে কেন্দ্র করে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য প্রকাশ পেলে রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকে এ ঘটনায় জামায়াতের উস্কানী রয়েছে বলে দাবী করলেও টেকনাফ উপজেলা জায়ামাতের আমীর অধ্যক্ষ নুর হোসেন ছিদ্দীকি এ দাবী নাকচ করে বলেন- এ ঘটনায় জামায়াত ইসলামীর দূরতম সম্পর্ক নেই। বরং দুপুর থেকে বিভিন্ন উপজাতি এলাকার মানুষ আতংকিত হলে তাদের অভয় দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় খারাংখালী রাখাইন পল্লী, জেলা জামাতের সদস্য হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মির কাশেম হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লী সরেজমিন পরিদর্শন করে ভীত সন্ত্রস্থ উপজাতীদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন। অপরদিকে হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ নুর আহমদ আনোয়ারী হোয়াইক্যংয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্তিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে অনুরোধ জানালে সে নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়। কে বা কারা এ ঘটনার উস্কানি দিয়েছে তাদের দলমত নির্বিশেষে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে অনুরোধ জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক ভাবে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় টেকনাফ উপজেলা আ’লীগ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী বলেন- লম্বাবিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃ কামাল হোসেন মাইকিং এর মাধ্যমে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উস্কানী দিয়ে কাফেরদের হত্যার জন্য উত্তেজিত করে তুলে। এ ঘোষনার রেশ ধরে হোয়াইক্যং বড়–য়া পল্লীতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। তাঁকে খুঁেজ বের করতে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে আহবান জানান। এছাড়া একটি সুত্র দাবী করেছে সম্প্রতি সম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এদের চিহ্নীত করে আইনে আওতায় আনতে প্রশাসনকে জোর তৎপরতা চালাতে হবে। হোয়াইক্যং ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার দিল মোহাম্মদ জানান- ঘটনা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঘটনা স্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্তিতি শান্ত করার জোর চেষ্টা চালায়। আমার সাথে পুলিশের পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী, আ’লীগ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরীর পুত্র আলমগীর চৌধুরীও পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা চালায়। কিন্তু একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে প্রশাসন আমাদের কাছ থেকে কোন ধরনের সহযোগীতা না নিয়ে ঢালাওভাবে এলাকার নিরীহ লোকজনকে মামলায় জড়িয়ে গণ গ্রেফতার চালাচ্ছে। বর্তমানে এলাকার লোকজন পুলিশ আতংকে এলাকা ছাড়া হয়ে পড়েছে। টেকনাফ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরহাদ জানান, হোয়াইক্যং জোয়ারীখোলা গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর ও মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেছে। এঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় বড়–য়া বাদী বাদী হয়ে জামায়াত নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারীকে প্রধান আসামী করে ৬০/৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। সংহিসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সহিংসতা এড়াতে টেকনাফ উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

২ responses to “টেকনাফে ১৪৪ ধারা জারি..ঘটনার উস্কানী নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য/দূ’টি মামলা/ আটক- ২৫”

  1. Mohammad rana says:

    Ah:!..Ekta grinito manosh nam er posor jonno aj koto osohai manosh nirjatito hosse..

  2. alammahmud says:

    Don’t politicalise the issue.Be realastic and punish the original criminals.If the ruling party or the Law enforcing forces try to politicalise the issue and arrest innocent leaders who engaged with Police to control and cold down the situation of that day, then no one can come forward to help the law enforcing forces in future. So we are demanding to proper investigation and not to harrase any political leader without investigation.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT