টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে শেষ মুহুতেই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা : কাপড় ও প্রসাধনীর দোকানে উপচেপড়া ভিড়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

eid pic  (7)নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ####

আজ চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ। তাই হাতে একদম সময় নেই। আর ঈদ কেনাকাটার এই শেষ সময়ে প্রসাধনীর দোকানগুলোতে এখন নারীদের উপচে পড়া ভিড়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কসমেটিকসের দোকানগুলোতে তিল ধারণের ঠাই নেই।এছাড় মার্কেটের সামনের ফুটপাতগুলোতে বিক্রেতারা বিভিন্ন প্রধাধনীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন।বিক্রিও তাদের খুব ভালো হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা।

ঈদের পোশাক কেনা শেষ কিন্তু প্রসাধণী ছাড়া  নারীদের সাজসজ্জার পূর্ণাঙ্গতা তখনই প্রকাশ পায়। তাই তরুণী কিশোরী ও মধ্যবয়স্ক নারীদের পছন্দকরা পোশাকটির সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন নেইল পলিশ, আই লাইনার, আই স্যাডো, মাসকারা, চুলের বেণী, কাকঁড়া, ব্যান্ট,  চুড়ি, পায়েল, মেকআপ, আংটি, সুগন্ধিও মেহেদী তো আছেই তালিকাতে।

কসমেটিকস হাউজ এ কিনতে আসা তরুণী রেশমা জানান, জামা কেনা শেষ। এবারে কালোর মধ্যে লাল রংয়ের পোশাক কিনেছি। তাই লাল-কালো মেচিং করে নেইল পালিশ, চুড়ি, মালা, টিপ, লিপস্টিক কিনতে এসেছি। তুরণি কসমেটিস কর্ণার এর ক্রেতা রমনী আরিফা সুলতানা জানান, কাপড় কেনা শেষ আমার সে পোশাকের সঙ্গে মেচিং করে কিছু কসমেটিক্স কিনতে এসেছি। এখন ঈদের শেষ মুহূর্ত অনেকেই গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। তাই দেখে শুনে কেনাকাটা করতে পারছি। নিউ মার্কেটেরে অনন্যা কসমেটিকসের সেলসম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, “ অনেকেই এখন বাড়ি মুখি কিন্তু তারপরেও মার্কেটের ভিড় কমছে না। বেচা কেনাও খুব ভালো হচ্ছে।মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও ভিড় করছে এসব দোকানে পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে তারাও কিনছে হাত ঘড়ি, ব্রেসলেট, আংটি ও চেইন।চাঁদনী চকের অপরা ঘড়ি হাউজের ম্যানেজার ইয়াসিন মোহাম্মদ তোহা বলেন, “ছেলেদের পাঞ্জাবির সঙ্গে মেচিং করে আমরা নানা রংয়ের ঘড়ি কালেকশন রেখেছি। এর মধ্যে কফি ও কালো রংয়ের ফিতা ঘড়িই বেশি চলছে এবারে। তবে চেইন ঘড়িও কম চলছে না।  পৌরএলাকার অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সর্বত্রই ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড়। তবে সব স্থানেই নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ল্য করা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পৌরসভার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে। কিন্তু দোকানদাররা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে ব্যবসাতে মন্দাভাব থাকলেও বর্তমানে তা কেটে উঠেছে। ক্রেতাদের ভিড়ে অধিকাংশ মার্কেটে এখন হাঁটাচলা করাই দায়। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, মার্কেটগুলোতে নারী ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। এ ঈদের বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে ৯০শতাংশের বেশি নারী। এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে কাপড়ের মান ভাল তবে সব ধরনের পণ্যেই দাম কিছুটা বেশি। এতে ক্রেতারা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।  দোকানিরা বলছেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়মতার মধ্যে দোকানে পণ্যসামগ্রী তুলেছেন। কোনো ধরনের পণ্যতে অতিরিক্ত দাম রাখা হচ্ছে না, তবে উন্নত মানের পণ্যের দাম একটু বেশি। আগে ক্রেতাদের ভালো মানের কাপড় ও পণ্যসামগ্রী কিনতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যেতে হতো; এখন সেই মানের কাপড় ও পণ্যসামগ্রী টেকনাফের বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বেচাকেনা একটু বেশি। টেকনাফের মহিলা ক্রেতারা এখন ফ্যাশন সচেতন। সে কারণে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর কল্যানে টিভি সিরিয়ালের নায়িকাদের অনুরুপ কাপড় খোঁজ করছে। এর মধ্যে কাভি কাভি, সানিলিওনি, অমৃতা, কুমুদ, জিবিকা, ঝিলিক, পাংকুরি, গোপি, অপ্সরা, বাহা, মধুবালা অন্যতম। প্রতিবারের মতো এবারও পৌরএলাকার কো¤পানি মার্কেট, মনে রেখ, জুম, তাজমহল, রাজস্থান, ফরিদ শপিং কমপ্লেক্সের পরিস্থান, রাফসান, শাহআজিজ, সোনালী ফ্যাশন, সম্রাট মার্কেট, নিউ গণি মার্কেট, ফ্যাশন হাউস, বার্মিজ মার্কেট, নাফ কুইন মার্কেটের জনসেবা এবং গরিবের নিউমার্কেট নামে পরিচিত লামার বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটে টেকনাফের বাহারছড়া, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের লোকজন ঈদের কেনাকাটা করায় প্রচন্ড ভিড় ল করা যায়। এবারও ঈদের বাজারে শাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি।  শহরের বড় বাজারের কো¤পানি মার্কেটের অভিজাত শাড়ির দোকান মাহিবী কথ স্টোরে ‘নাইট কুইন’ শাড়ির দাম হাঁকা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৫হাজার ৫০০ টাকা। জনসেবা ও ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারি রফিকুল করিম বলেন, এবার ঈদে ক্রেতা সাধারণকে আকৃষ্ট করার জন্য বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানীর উন্নতমানের শাহী পাঞ্জামী, শার্ট, জিন্ প্যান্ট, চায়না প্যান্ট, সেন্ডেল, সু ও বেল রাখা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রয় বেশি হচ্ছে। এদিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টাকার দাপটে সাধারণ লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন বিপণী বিতান পরিদর্শন করে দেখা যায়, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রতিটি দোকানে মূল্যবান ফ্যাশনগুলো আগেভাগেই অর্ডার দিয়ে রেখেছে। দামের কোন তারতম্য নেই। বিক্রেতাদেরকে শুধু বলেছে এগুলো আমাদের জন্য রেখে দিও। তাতে ব্যবসায়ীরা খুশি। যত দাম চাচ্ছে তা দিয়ে দিচ্ছে। এতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কদরও বেড়ে গেছে ব্যবসায়ীদের নিকট। কিন্তু সাধারণ লোকজনদের অর্থের অভাবে সাধারণভাবে কেনাকাটা করতে গিয়ে ইয়াবা পরিবারের লোকজনের ধাক্কাধাক্কির কারণে হিমশিম খাচ্ছে। লোকমুখে বলাবলি হচ্ছে সৌদি হজ্ব করতে গেলে এদের শক্তির কাছে সকলেই হার মানে। তেমনই টেকনাফের অবস্থাও সেই পর্যায়ে চলে গেছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অর্থের শক্তির নিকট সকলেই হার মানছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT