হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফ

টেকনাফে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাতে নিষিদ্ধ এনজিও

রমজান উদ্দিন পটল টেকনাফ….মিয়ানমারের জাতিগত সহিংসতার ঘটনায় সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাতে অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা। নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও বিভিন্ন এনজিও এবং রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের কর্মীরা গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে অশুভ কর্মকান্ড। আরকান রাজ্যে নির্যাতিত মুসলমানদের প্রলোভন দিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেয়ার প্ররোচনা এবং সীমান্ত এলাকায় নানা অপপ্রচার চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থী সংগঠন ও এনজিও সংস্থার লোকজন। ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহায়তা ও বিদেশে প্রত্যাবাসন করার প্ররোচনা দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ পাড়ি দিতে উদ্ভুদ্ধ করছে বলেও সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

মিয়ানমারের জাতিগত দাঙ্গার অজুহাতে ঢালাওভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাতে তৎপর বিভিন্ন সংস্থা গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে। তৎমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত কয়েকটি এনজিও এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন গুলো অন্যতম। এ ক্ষেত্রে টেকনাফ উখিয়ার শরণার্থী শিবির পরিচালনাকারী জাতি সংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অশুভ পরিকল্পনা রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। টেকনাফ-উখিয়ায় ইউএনএইচসিআর, মুসলিম এইড, এসিএফ, সলিডারিটিস সহ বিভিন্ন এনজিও রোহিঙ্গা বিষয়ক নানান কার্যক্রম চালায়। তৎমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অশুভ কর্মকান্ডের অভিযোগে ২১ মে মুসলিম এইড, এসিএফ ও সলিডারিটিস সহ ৭টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এসব এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও গোপনে সক্রিয়ভাবে কাজ চালায় সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চলতি জুন মাসের শুরুতে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার সূত্রপাত হওয়ায় এসব এনজিও সংস্থার লোকজন ব্যাপক সক্রিয় হয়ে উঠে। এছাড়া মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটিস অর্গানাইজেশন (আরএসও) আরকান মুভমেন্ট, আরকান পিপলস পার্টি, মোহাজের আল ইসলামী, আরএসও (ইউনুছ বাহিনী) সহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক দায়-দায়িত্বের অজুহাতে সীমান্ত এলাকায় নানান অপতৎপরতা চালায়। মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে ও বাংলাদেশের কক্সবাজার টেকনাফের উভয় সীমান্ত এলাকায় এসব এনজিও এবং উগ্রপন্থী সংগঠনের লোকজন অশুভ কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে।

মিয়ানমারে জাতি সহিংসতার ঘটনায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ জটিল হওয়ার আশংকা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সীমান্ত এলাকায় বিদেশীদের নিষিদ্ধ করে সরকার। বিজিবি, কোস্টগার্ড কড়া পাহারা বসিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও সীমান্তে অবাধ যাতায়তের উপর কড়াকড়ি আরোপ করলেও কৌশলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটানোর মিশন নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার লোকজন। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, কচুবনিয়া সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিগত বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবি সহস্রাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে স্বদেশে ফেরত পাঠায়। কিন্তু এসব রোহিঙ্গারা সাগরের অবস্থান নিয়ে রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশ করে বলে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিজিবি টহল দল ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। এসব রোহিঙ্গাদের দেশে অনুপ্রবেশের জন্য এলাকায় নিযুক্ত করা হয় অসংখ্য ভাড়াটিয়া দালাল। দেশী-বিদেশী এনজিও সংস্থার লোকজন স্থানীয় দালাল প্রকৃতির লোকদের সাথে হাত করে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে বলেও সূত্র জানায়। শাহপরীরদ্বীপের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ লোকজন জানান- দালাল চক্র জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে নিয়ে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সহায়তা দিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করছে। এসব অনুপ্রবেশকারীদের সাথে কতিপয় এনজিও ও উগ্রপন্থী সংগঠনের লোকজন গোপনে সাক্ষাত করে নানা সহায়তা দিয়ে তাদের ভিডিও চিত্র ধারণ করে বর্হিবিশ্বে প্রচার করছে। অপরদিকে মিয়ানমারের মংডু ও আকিয়াব এলাকায় কতিপয় বিদেশী এনজিও সংস্থার চাকুরীরত স্থানীয় লোকজন সেদেশ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে বলে রোহিঙ্গা লোকজন সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদেরকে সার্বক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে এমন প্রচারণা চালিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার জন্য উদ্ধুদ্ধ করছে। মিয়ানমারে কতিপয় এনজিওর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অভিমুখে পালানোর অপেক্ষায় রয়েছে। এ ব্যাপারে কতিপয় এনজিও ও উগ্রপন্থী সংগঠনের লোকজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অতি জরুরী। নচেৎ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

সূত্রে জানা যায়- কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় ২টি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সালের জুন পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ৮শ ৭৭ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। পরবর্তী সময়ে জাতি সংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের সহযোগিতায় গত ২০০৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫শ ৯৯ জনকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হয়। এরপরও মিয়ানমারে নানান নির্যাতনের অজুহাতে বিগত বিভিন্ন সময়ে দেশে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে। শরণার্থী শিবির ২টিতে রেজিঃ ২৫ হাজার শরণার্থী থাকলেও কুতুপালং ও নয়াপাড়ার বস্তি এলাকায় ১ লাখেরও বেশি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা অবস্থান নেয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। বিভিন্ন সময় এসব রোহিঙ্গাদেরকে স্বদেশে ফেরতের জোরালো দাবী উঠলেও রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী এনজিও সংস্থা গুলোর অশুভ কর্মকান্ডের কারণে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বন্ধ থাকে বলে বিভিন্ন মহল অভিমত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদেরকে থার্ড কান্ট্রিতে পুন:বাসন করার জোর প্রচার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধের অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন। বিগত বিভিন্ন সময় থার্ড কান্ট্রি কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, নিউজিল্যান্ডে পুর্নবাসন করা হয় ৮শ ৫৬জনকে। বর্তমানে দেশে রোহিঙ্গা সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করেছে। রোহিঙ্গাদেরকে নিয়ে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে মেতে উঠেছে দেশী-বিদেশী সংস্থা। দিন দিন দেশে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রকট হয়ে উঠে। এ অস্থিতিশীল অবস্থা বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে লাভবান হচ্ছে ভিনদেশীরা। ###

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.