টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে মোবাইল ফোন সার্ভিসিং সেন্টারের পর্নোগ্রাফী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ragamayiসীমান্ত শহর টেকনাফ উপজেলা জুড়ে অলিগলিতে মোবাইল ফোন সেট সার্ভিসিং সেন্টারের সংখ্যা দিন হু হু করে বেড় চলছে। প্রশাসনের কোন নজরধারী না থাকায় সার্ভিসিং এর আড়ালে চলছে অশ্লীল ভিডিও ছবি ও পর্নোগ্রাফী ডাউনলোড। এহেন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন  অভিভাবক ও শিক্ষিত সমাজ। কারণ এসব সার্ভিসিং সেন্টারের বেশিরভাগ ক্রেতা হিসেবে উঠতি বয়সের তরুন, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের।

আর এমন কিছু বয়সের মানুষকে ক্রেতা হিসেবে দেখা যায়, যাদের কাছে বয়সটা গৌণ।সার্ভিসিং পেশাটি মূলত মোবাইল ফোন সেট মেকানিকাল মেরামত হলেও সমাজের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি আয়ের লোভে কোন কিছুর নিয়ম নীতি ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা সহজলভ্য হওয়ায় এসব অশ্লীল ভিডিও ও পর্নোগ্রাফী ব্যবসা টেকনাফ উপজেলা জুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে মোবাইল ফোন সেট সার্ভিসের আড়ালে পর্নোগ্রাফীর ব্যবসার খবর দেশের গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এর বিরুদ্ধে ধর পাকড় অভিযান পরিচালিত করে। অথচ টেকনাফের মত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ভাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে দেখা যায়নি।

পর্নোগ্রাফী বিষয়টি সরকার আমলে নিয়ে পর্নোগ্রাফী তৈরি, অশ্লীল ভিডিও ক্রয়-বিক্রয় সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ এ বিষয়ে শাস্তি ৭ বছর কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকার জরিমানার বিধান রেখে গত ২৭ জানুয়ারী পন্যগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১২ সংসদে উত্তাপন করে।

বর্তমানে সময়ে মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট সহজ মাধ্যম টেকনাফ উপজেলা জুড়ে মারাতœক ব্যাধির মত ছড়িয়ে ছিঠিয়ে পড়েছে। যুব সমাজ ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দিকে। অনেক নর-নারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। আবার অনেকের গোছানো সুখের সংসার মোবাইলের কারণে আগুন জ্বলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ পৌরএলাকায় রয়েছে শতের কাছাকাছি মোবাইল সেট সার্ভিসিং সেন্টার। এগুলো হচ্ছে, ষ্টেশন রোড, লেঙ্গুরবিল রোড, গণি রোড, দ্বীপপ্লাজা মার্কেট, থানা রোড, শাপলা চত্ত্বর। অন্যদিকে হোয়াইক্যং, শামলাপুর, হ্নীলা বাজার, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ বাজার মিলিয়ে সমগ্র উপজেলা জুড়ে প্রায় ৫ শতাধিক নামে-বেনামে চালিয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোন সেট সার্ভিসিং সেন্টার। যাদের অধিকাংশ নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে এ অসাধু এ ব্যবসা।

অবাক না হয়ে পাড়া যায় না যখন দেখা যায়, কাটাখালী, মিনাবাজার, জিমংখালী, আলীখালী, মৌলভিবাজার ও লেদার মত ছোট বাজার গুলোতে যাদেরকে বাজার বললেও ভুল হবে। মহামূল্যবান জীবন রক্ষাকারী ঔষধের দোকান ফার্মেসীর দেখা না মিললেও মিলবে দু’য়েকটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার। আর সেসব দোকানে অন্য কোন পন্য ও মেকানিক না থাকলেও একটি কম্পিউটার ঘিরে কিছু উঠতি বয়সি যুবক ও শিক্ষার্থীদের সারাক্ষণ দেখা যায়।

টেকনাফ পাইলট হাইস্কুলের শিক্ষক জানান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্ররা স্কুলে মোবাইল ফোন সেট নিয়ে আসে। তখন ইচ্ছে করে বেত দিয়ে পিঠিয়ে পিটের চামড়া তুলে ফেলি। কিন্তু সরকার সার্বিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে তাই মৌখিকভাবে এসব শিক্ষার্থীদের হুশিয়ার করি। তিনি আরো জানান, এসব ক্ষেত্রে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিপদ-আপদের সঙ্গী হিসেবে ছেলে-মেয়েদের হাতে মুঠোফোন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটাকে পুজি করে মুটোফোনে ছেলেমেয়েরা পর্নোগ্রাফীর মায়া জালে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা এসব দোকানে কোন ধরণের অভিযান পরিচালনা না করায় অসাধু ব্যবসায়ীরা মোবাইল পর্নোগ্রাফী অব্যাহত রেখেছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, এব্যাপারে শীঘ্রই উপজেলার মোবাইল সাভিসিং দোকানগুলোতে সাড়াশি অভিযান চালানো হবে। সূত্র্রঃওয়ান নিউস বিডি ডঢকম

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT