হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

Uncategorizedটেকনাফপ্রচ্ছদ

টেকনাফে ভারি র্বষণে ২শতাধিক গ্রামীন রাস্তা বিলীন: ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

মাহফুজুর রহমান মাসুম:: গত কয়েক দিন ধরে টানা ভারি র্বষণের ফলে টেকনাফ-ককসবাজার মহা সড়ক ও বিভিন্ন গ্রামীন সড়ক ভেংগে বিলীন হয়ে পড়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ব্যহত হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মালবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। র্বতমানে উক্ত সড়ক দিয়ে দেশী-বিদেশী পর্যটক, ভি আইপি,ভি ভি আইপি,ব্যবসায়ী ও যাত্রী সাধারনের যাতায়াতে দুঃখ দর্দশার অন্ত নেই।
টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফ উপজেলার জাদিমোড়া,মৌচনী,লেদা,হ্নীলা,মৌলভী বাজার, খারাংখালী,নয়াবাজার,মিনাবাজার,নয়াপাড়া,কানজর পাড়া,কুতুবদিয় পাড়া ,উনছিপ্রাং,লম্বাবিল,হোয়াইক্যং,তুলাতলি,্কাটাখালী,চাকমারকুল,উখিয়া উপজেলার পালংখালী,জামতলী,থাইংখালী,বালূখালী পানবাজার,কাষ্টমস,কুতুপালং উখিয়া, রাজাপালং,কোটবাজার,মরিচ্যা বাজার এলাকার প্রধান সড়ক গত কয়েক দিনে প্রবল বৃষ্টির ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সর্বত্র সড়কে সৃষ্ট পুকুরসম গর্ত এখন মারাত্বক ভয়ানক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া র্গত মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতি মুহুর্ত দুর্ঘনায় পতিত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাস-ট্রাক ডেবে গিয়ে ও ইনজিন বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর পাহাড়ী কাঁদা মাঠি জমে উঠায় যান চলাচল মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হয়। প্রবল র্বষণে সড়কের উপর নেমে আছে পাহাড়ী ঢল। ঢলের ¯্রােতে বিভিন্ন স্থানে তলিয়ে যায় সড়কের দু পাশ। ভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা,সড়কের ব্যাপক ভাংগন, পাহাড়ী কাঁদা মাঠি ও ঢল নেমে আসায় প্রতিনিয়ত যান চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। সরজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ উপজেলার নয়াবাজার প্রধান সড়কের ভাংগা অংশে পণ্যর্ভতি ট্রাকের ইনজিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় ২ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। প্রতিনিয়ত ভাংগা অংশে মটর যান দুর্ঘটনায় যান চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোন খবর নেই। অধ্যবদি সড়ক মেরামতে সওজের কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। সরজমিনে দেখা যায়, ১০ সেপ্টেমবর মহা সড়কের ভাংগা অংশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ স্ব উদ্যোগে ইট,কংকর ও বালির বস্তা দিয়ে সড়ক মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করলেও উক্ত স্থানে দুর্ভোগের অন্ত নেই।
এ দিকে নয়াপাড়া বটতলী এলাকার সড়ক ধ্বসে পড়ার চিত্র আরো ভয়াবহ। এ স্থানে দিবারাত্রি প্রতিমুর্হুত যান বাহন আটকে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর উনছিপ্রাংয়ের প্রধান সড়কে অন্য একটি পণ্যর্ভতি ট্রাকের ইনজিন বিকল হয়ে পড়লে ২দিন ধরে সড়কে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হয়। অপর দিকে মিনাবাজার, কুতুবদিয়া পাড়া, লম্বাবিল হোয়াইক্যং তুলাতলি এলাকার প্রধান সড়কে পাহাড়ী কাঁদা মাঠি নেমে আসায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। উপরোক্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা দর্ঘটনার সৃষ্টি হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উখিয়া উপজেলার থাইংখালী,পালংখালী,বালুখালী কাষ্টমস কুতুপালংস্থ প্রধান সড়কে ভয়বহ ভাংগন সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন যান বাহন আটকে পড়ে যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। উপরোক্ত বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯ টার সময় মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ উপজেলা সওজ কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ বলেন,প্রবল বৃষ্টির কারণে সড়ক মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তবে শুক্রবার হতে জরুরী বিক্তিতে সড়কের সংস্কার কাজ আরম্ব করা হবে।
এদিকে অবিরত ভারি বর্ষনের ফলে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীন সড়ক ও বাড়ী ঘরের মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়ে উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হামিদুল হক চৌধুরীর সাথে রাতে ্এ রির্পোট লেখার সময় মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢলে গ্রামীন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে ,সরজমিন তদারকী করে তা পরে জানানো হবে। তবে এ উপজেলায় শতাধিক গ্রামীন রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলার ১নং হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওঃ নুর আহমদ আনোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উক্ত ইউনিয়নে হোয়াইক্যং-বাহারছড়া সড়ক, উনছিপ্রাং-পুটিবনিয়া রোহিংগা ক্যাম্প সড়ক, কানজরপাড়া রইক্যং সংযোগ সড়ক,নয়াপাড়া বটতলী মগপাড়া রাস্তা, নয়াবাজার সাতঘড়িয়া পাড়া রাস্তা, খারাংখালী-মখেশখালীয়া কম্বনিয়া পাড়া সড়কসহ প্রায় ৩০টির মত গ্রামীন সড়কের মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রইক্যং শেখ রাশেল স্বৃতি সংসদের সভাপতি আব্দুল বাছেদ জানান-উনছিপ্রাং পুটিবনিয়া ক্যাম্প সড়কটি মারাত্বকভাবে ভেংগে পড়ার ফলে যান চলাচলে বিগ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী কর্মকতা-কমচারী,ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানান-উক্ত ইউনিয়নের মৌলভী বাজার লামার পাড়া,হ্নীলা স্লুইচ পাড়া,গুদাম পাড়া,জালিয়া পাড়া,রংগী এলাহী লামার পাড়া, লেদা লামার পাড়া পানখালীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০টি গ্রামীন সড়ক পাহাড়ী ঢলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
এছাড়া খোজ নিয়ে জানা যায়,টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগার ছড়া,  মখেশখালীয়া পাড়া,লেংগুর বিল, লম্বরী,হাবির পাড়া, গোদার বিল,পৌরসভার নাইট্যংপাড়া,উপজেলা,পল্লান পাড়া,নতুন পল্লান পাড়া, কায়ুকখালী পাড়া,কলেজ পাড়া,শীলবনিয়াপাড়া ও উপক’লীয় ইউনিয়ন বাহার ছড়া বাজার হতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের সংযোগ সড়ক, মনখালী চাকমা পাড়া সড়ক ও ফরেষ্ট অফিস,শীলখালী-দক্ষিন শীলখালী সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামীন রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.