হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপরিবেশপ্রচ্ছদ

টেকনাফে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ …  সারাদেশের ন্যায় প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন করার অঙ্গীকারে টেকনাফে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। ৫জুন সকাল ১১টায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদ হল মিলনায়তনে টেকনাফ,হোয়াইক্যং ও শীলখালী সিএমসির সহায়তায় ও উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

ক্রেল হোয়াইক্যংয়ের সাইট ফেসিলেটর নাজমুল হাসানের পরিচালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, টেকনাফ সিএমইসির কোষাধ্যক্ষ মহিলা কমিশনার নাজমা আলম, সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ, টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসাইন, শীলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম ও সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় উপস্থাপন করেন টেকনাফ সিএমইসি কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান হাশেমী। উক্ত সভায় ইউএনও বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন মূল প্রতিপাদ্য হলেও টেকনাফের বেলায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে বন উজাড়, পশু-পাখি শিকারের ফলে জীব-বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ুর এই প্রভাব বিশ^ব্যাপী মানব জীবনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসছে। এসব পরিস্থিতি হতে উত্তরণ করতে হলে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিবর্তে চর্টের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করার পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের বৃক্ষরোপন কর্মসুচী পালনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালনে দায়িত্বশীলতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন। আলোচনা শেষে পরিবেশ দিবসের কুইজ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এরপর উপস্থিত শিক্ষার্থী এবং সিপিজি সদস্যদের মধ্যে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এদিকে সারা পৃথিবীর পরিবেশ চেতনায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংগঠন এবং পরিবেশ কর্মীরা এদিনটি আন্তরিকভাবে পালন করছে। বর্তমানে পরিবেশ সংকটাপন্ন বিশ্ব পরিস্থিতিতে দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বময় প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশকে ভয়ংকরভাবে দূষিত করছে। পরিবেশকে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জরুরী ভিত্তিতে প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার বর্জন এবং এর একটি টেকসই বিকল্প বের করার আহবান জানাতে এবারের শ্লোগান হচ্ছে ‘‘আসুন প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন করি”। ১৯৭৩ সাল থেকে সারা পৃথিবীতে এ দিবসটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে এ দিবসকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০টিরও বেশি দেশে একযোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিদ্যমান পরিবেশগত সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘‘আসুন প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন করি” বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্লাস্টিক সামগ্রির ব্যবহার ও তার বৈর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারনে তা মাটিতে না মিশে বা না পচে দীর্ঘ দিন মাটির নীচে রয়ে যায়। ফলে মাটি তার প্রাকৃতিক গুনাবলি ও উর্বরা শক্তি হারায়। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফসল উৎপাদনের উপর। যা বাংলাদেশের মত কৃষি নির্ভর দেশে ফসল উৎপাদনে ভয়াবহ পরিনতি বয়ে আনতে পারে। এতে এক সময় মাটির নীচে অবস্থিত খাবার পানিকেও দূষিত করতে পারে। শুধু মাটি নয়, সাগরের পানিও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। অমাদের যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক খাল-বিল, নদী-নালার মাধ্যমে এক সময় সাগরে পতিত হয় এবং সেখানেও প্লাস্টিক থাকে অপরিবর্তিত। সাগরের পানিতে প্লাস্টিক ছোট ছোট অংশে পরিনত হয়ে প্রবেশ করে মাছ, কচ্ছপ ও ডলফিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে এবং পরিবর্তন আনে তাদের জীবনচক্রে। যার প্রভাব পড়ে তাদের প্রজননের উপরে। প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে ৫০০ বিলিয়ন প্লাস্টিক ব্যাগ আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর সাগরের পানিতে যোগ হয় কমপক্ষে ৮০ লক্ষ টন প্লাস্টিক বৈর্জ্য, যা প্রতি মিনিটে ১ ট্রাক ময়লা ফেলানোর সমান। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে পরিমান বৈর্জ্য তৈরী হয় তার শতকরা ১০ ভাগই প্লাস্টিক। সারা পৃথিবীতে বিগত ১০ বছরে যে পরিমান প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে তা বিগত ১ শতকে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের চেয়ে বেশী। আমাদের ব্যবহৃত প্লস্টিকের শতকরা ৫০ ভাগই আমরা একবারের জন্য ব্যবহার করি। আমরা প্রতি মিনিটে ব্যবহার করি প্রায় ১০ লক্ষ প্লাস্টিত বোতল। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং তাদের বেশীরভাগ মানুষ কৃষির উপরে নির্ভরশীল। প্লাস্টিক সামগ্রির ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি ক্ষেত্রে নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয়। তার প্রভাব পড়তে পারে মানুষের জীবন ও জীবিকার উপরে। এতে মাটির নীচে খাবার পানিও হতে পারে দূষিত। ঘটতে পারে মানুষের ব্যাপক স্বাস্থ্যহানী। সাগরের পানিতে প্লাস্টিক মেশার কারণে পরিবর্তন ঘটতে পারে মাছ তথা সকল সামুদ্রিক জীবের জীবনচক্রে। কমে যেতে পারে সামুদ্রিক মাছের সংখ্যা। এই দূষন রোধ করা না গেলে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ অচিরেই আমিষ খাদ্য থেকে বঞ্চিত হবে। নদী, সাগরসহ অন্যান্য জলাভূমিতে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী চিরতরে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে পারে। কোন একটি দেশ, জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। এজন্য সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যকর ব্যবস্থা এবং ব্যাপক সচেতনতার প্রয়োজন। বিশ্ব পরিবেশ পরিস্থিতি যেভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, এখানে বৃহত্তর মানবিক উদ্যোগ এবং পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.