টেকনাফে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট

প্রকাশ: ১৩ মে, ২০১৯ ৯:২২ : অপরাহ্ণ

এম আমান উল্লাহ আমান:: টেকনাফে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার পানির জন্য মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, ঊনছিপ্রাং, কাঞ্জর পাড়া, নয়াপাড়া, ঝিমংখালী, মিনাবাজার, কম্বনিয়া পাড়া, মহেশখালীয়া পাড়া, হ্নীলার রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া, উলুচামরী, লেচুয়াপ্রাং, দমদমিয়া, জাদীমুরা, মোচনী, মরিচ্যাঘোনা, আলী আকবর পাড়া, পৌর এলাকার কুলাল পাড়া, ইসলামাবাদ, বাজার পাড়া, কে.কে. পাড়া, সাইড পাড়া, জালিয়া পাড়া, কলেজ পাড়া, সদর ইউনিয়নের হাঙার ডেইল, শীল বনিয়া পাড়া, বাহারছড়ার দক্ষিণ বড় ডেইল, নোয়াখালীয়া পাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খাবার ও ব্যবহারের পানি নিয়ে হাহাকার চলছে।

অনেক এলাকায় পুকুর ও রিংওয়েল শুকিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ ২/৩ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছে। মেয়েরা টিউবওয়েলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কলসিতে করে বাড়িতে খাবার পানি নিয়ে আসছে। অনেকে জায়গায় পুরুষরাও পানি সংগ্রহে নেমেছে। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরবরাহকারীরা পানির কন্টেইনারের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রয়োজনের খাতিরে সাধারণ মানুষ বাড়তি দামেই কন্টেইনারের পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। মুসল্লিরা মসজিদে অজু করার পানিটুকুও পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতি বছর এ মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়। পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব। স্থান ভেদে টিউবওয়েল ও পাতকুয়া খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা দূর করতে হবে। রংপুরের আবিদ দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে পৌর এলাকায় বাসা-বাড়িতে কন্টেইনারে করে পানি সরবরাহ করছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর সরবরাহ অনেক বেড়েছে বলে তিনি জানান।
হ্নীলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জানান, আমার স্কুলে দেড় হাজার ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পানির সংকট মোকাবেলায় আমাদের এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। রঙ্গিখালী মহিলা মাদরাসা সুপার ফখরুল ইসলাম ফারুকী ও সমাজ সেবক রফিকুল ইসলাম অপি জানান, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জুড়ে পানির জন্য হাহাকার চলছে। সুপেয় পানির সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী এবং স্থানীয় জনসাধারণ বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি পান করছেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ক্যছাই মং চাক জানান, পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সীমান্তের এই উপজেলায় পানির খুব বেশি সমস্যা হয়। পলিথিনের ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি সহজে নিচে নামতে পারে না। পলিথিনের ব্যবহার এবং ভৌগোলিক কারণে এখানে দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবগত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো জানান, খাবার পানির সংকট মোকাবেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চাহিদা অনুপাতে এলাকা ভিত্তিক গভীর নলকূপ বসানো হবে।


সর্বশেষ সংবাদ