টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দাঙ্গা দমনে পুলিশের সাঁজোয়া যান সাজছে নতুনরূপে শ্রমিকের সস্তা জীবন, মায়ের আহাজারি আর ধনীর ‘উন্নয়ন’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় সরকারের পতন ঘটাতে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সখ্য ছিল মামুনুলের ধর্মীয় নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

টেকনাফে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ইফতারী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৩
  • ১১৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

zkarim-zia-19.07.13-300x209জেড করিম জিয়া: দৈনিক কক্সবাজার: রমজানের প্রথম দিন থেকেই টেকনাফ উপজেলার অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইফতারের ভেজাল খাদ্যদ্রব্য। এ সকল খাদ্যকে আকষর্ণীয় করে ক্রেতার কাছে উপস্থাপনের জন্য মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক রং। আর যে মুড়ি ছাড়া ইফতার কল্পনা করা যায় না, সেই মুড়ি আকারে বড় ও সাদা করতে ব্যাবহৃত হচ্ছে ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড। অথচ এ রাসায়নিক পদার্থটি কাপড়ের মিলে সাদা রং এ ব্যবহৃত হয়। ক্রেতাদের আকর্ষণে  করতে এ ভেজাল মুড়িই বাজারে বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী।  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব ইফতার সামগ্রী পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, হালিম, চপ, জিলাপি, খেজুর, এমনকি মুড়িতেও কোনো না কোনোভাবে ভেজাল সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে। এ খাবারে উপস্থিত ক্ষতিকর কার্সিনোজেনিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ স্বল্পমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। যা শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করছে রোগ, তাছাড়া বিষ ক্রিয়াসহ লিভার ও অন্ত্রে প্রদাহ এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হচ্ছে। আর স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এ ফল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ধারাবাহিক কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিজ্ঞমহলে।  টেকনাফ উপজেলার, পৌর এলাকা ও ৬ ইউনিয়নের হাট বাজার যথা হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, পৌরসভার বাসষ্টেশন সহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আলুর চপ, পিঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা বুট সহ ইফতারের সামগ্রী তৈরি করে চলছে ভেজাল ইফতার সামগ্রীর রমরমা ব্যবসা। ইফতারের অপরিহার্য পাঁচটি সামগ্রী হলো ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মুড়ি ও জিলাপি। তার প্রতিটিতেই নানাভাবে ভেজাল মিশানো হয়। আর বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ কিংবা জিলাপিতে ব্যবহৃত হচ্ছে কাপড়ে ব্যবহৃত রং বা টেক্সটাইল কালার। কম খরচে বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণীর ইফতার বিক্রেতা কাপড়ে ব্যবহারের রং ইফতার সামগ্রীতে ব্যবহার করছে। কারণ হিসেবে জানা যায়, এক কেজি টেক্সটাইল কালারের বর্তমান বাজার মূল্য তিনশ টাকা। সেখানে এক কেজি ফুড কালারের মূল্য প্রায় দশ হাজার টাকা!  অন্যদিকে, মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ভেজাল চিনি। এর রাসায়নিক নাম সোডিয়াম সাইক্লামেট। আর মিষ্টি জাতীয় দ্রব্যকে অধিকতর মিষ্টি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে স্যাকারিন, সুকরালেস ইত্যাদি।  বেগুনিতে বেসনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে আটা। আটায় হলুদ রং ব্যবহার করায় তা বেসনের রং ধারণ করছে। এছাড়া রসনা বিলাসের চাহিদা মিটাতে আরো কিছু আইটেম থাকে। তাতে ভেজালও থাকে সমপরিমাণে। হালিমে মাংসের দেখা মিলে খুব কম, মিশানো হয় আগের দিনে অবিক্রিত ডাল ও মাংসের উচ্ছিষ্ট।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকরতা বলেন, শুধুমাত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভেজাল বিরোধী অভিযানে সফলতা আসবে না। কারণ দিন-রাত মনিটরিং করা সম্ভব নয়। এজন্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আছেন, বাজার কমিটি আছে, পেশাজীবীরা আছেন। সকলে যদি যার যার অবস্থান থেকে সঠিক কাজটি করে তাহলে কিছু একটা হতে পারে।  রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা অল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় দিনরাত ভেজাল ও নকল পণ্য উৎপাদন করছে। নামিদামি আর জনপ্রিয় কো¤পানির প্যাকেট ও লোগো নকল করে বাজারজাত করা হচ্ছে নকল পণ্য। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নিয়েই অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে এসব ভোগ্যপণ্য। তবে ভুক্তভোগীদের মন্তব্য, রমজানে কেনাকাটায় সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ সময় খুব বেশি দরকষাকষি করেন না। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল পণ্য বিক্রি করে তাদের পকেট ভারী করেন।  এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের বিচ্ছিন্নতার সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ইফতারে ভোগ্য খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক রং মিশিয়ে বিক্রি করছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই নিু আয়ের মানুষগুলো গ্রহণ করছে এই ভেজাল ইফতার সামগ্রী।  এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, আমরা নিয়মিত ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। রমজানকে সামনে রেখে একটি গ্রপ বিভিন্ন ভেজাল খাবার তৈরিতে তৎপর। ভেজাল খাবার উৎপাদনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT