হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

টেকনাফে প্রচন্ড তাপদাহ আর বিদ্যুতের লোডশেডিং : বিপর্যস্ত জনজীবন

জেড করিম জিয়া :: টেকনাফে চলিত সপ্তাহ হতে প্রচন্ড তাপদাহ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ এর লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত করে তুলেছে মানুষের জনজীবনকে।

অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়া ছাড়াও কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়োর পাশাপাশি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এতে প্রধানত শিশু-বৃদ্ধরাই আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল অসুখে।
অন্যদিকে,তীব্র রোদে ফেটে চৌচির হয়েছে বরেন্দ্রভূমি। অসহনীয় গরমে গাছে থাকা আম ও লিচু পাকার আগেই ঝরে পড়ছে। এবং শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে ফসলের সবুজ মাঠ।
ভ্যাপসা গরমে নিয়ে আকাশ পানে চেয়ে আছে এই অঞ্চলের মানুষ। গরমে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ফিডারগুলোতে বিদ্যুৎ লোডশেড়িংয়ের মাত্রা বেশী
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি সপ্তাহে সে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে।
বর্তমান সারকারের প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দিলেওটেকনাফের পুরো উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষে নাভিশ্বাস জম্মেছে। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লম্বা লোডশেডিংয়ের ফলে
উপজেলাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে সাপ্তাহে একদিন আবার গাছ কাটার নামে উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। যা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে টেকনাফ বাসির উপর।
বিষয়ে পল্লী বিদুৎতের একাধিক গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ঝড়-তুফান ছাড়াই বৃষ্টি আর হালকা বাতাস হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে জনজীবনে অসহনীয় ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। আর বাসাবাড়িতে খাওয়ার পানির সংকট, রেফ্রিজারেশনে রাখা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার পচে নষ্ট হয়ে যায়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেলার আট উপজেলার মধ্যে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ যে পরিমান রাজস্বখাতে ভূমিকা রাখছে,সে পরিমান বিদূৎ সেবা না পাওয়াই নিজেদেরকে অবহেলার শিকার হিসেবে মনে করে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ।
জানা যায়- টেকনাফের মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। প্রচন্ড গরমে মানুষ দ্রুত কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছে। আবার বিদ্যুতের অভাবে তীব্র গরমের হাত থেকে মুক্তি পেতে গাছতলায়, খেলার মাঠ কিংবা নদীর ধারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে । দুপুরবেলা ঘাম ঝড়ানো প্রচন্ড গরমে দিশেহারা হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ । অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও হাসপাতালেও রয়েছে একই সমস্যা। রোগীদের সুস্থ হওয়ার তুলনায় অসুস্থ হওয়ার পরিমান আরো বেড়েই চলেছে । অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে কঠিন সমস্যায়।
তারা মাঠে প্রচন্ড রৌদ্র কাজ করতে পারছেনা।এছাড়া সারাদিন কর্মক্ষেত্র ছেড়ে রাতে বাসায় গিয়ে সবাই চায় ক্লান্তি দুর করতে কয়েক ঘন্টা ঘুমিয়ে নিতে । কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের ঘুম নির্ঘুমই থেকে যাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত গরমের কারণে,শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছে বিপাকে, ডায়রিয়া, অমাশয়, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগির সংখ্য দিন দিন বাড়ছে।
টেকনাফ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: এনামুল হক জানান,তাপমাত্রা যতই বাড়বে ততই বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি বিস্তার ঘটবে তাই মানুষকে একটু সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি গরমে বাহিরে কম বের হওয়া,ছাতা,কালো চশমা,ঢিলে ঢালা কাপড় ব্যবহার এবং মৌসুমি ফল ,তরল জুস ও স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দেন।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.