টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

টেকনাফে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহীতা বাড়ছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম…অফিস ও মাঠ পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল এবং নন ক্লিনিক্যাল পদসমূহে জনবল স্বল্পতা সত্বেও টেকনাফ উপজেলায় স্থায়ী এবং অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণকারীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারী দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা এফডিএসআর পরিচালিত সূর্যের হাসি ক্লিনিক প্রশংসনীয় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। সীমান্ত শহর টেকনাফ উপজেলা সমগ্র দেশের মধ্যে শিক্ষার হার সর্বনিম্ন, বিশেষতঃ নারী শিক্ষার চিত্র আরও নগন্য। উপরন্ত অতি রক্ষাণশীল উপজেলা হিসাবে টেকনাফের স্থান শীর্ষে। অফিসে জনবল স্বল্পতা, শিক্ষার হার সর্বনিম্ম, সচেতনতার অভাব তদুপরি অতি রক্ষণশীল উপজেলা- এতকিছু প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্বেও বর্তমানে কর্মরতদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকায় পদ্ধতি গ্রহীতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আগে যেখানে গোপনে কার্য্যক্রম চালাতে হত, বর্তমানে সেই নেতিবাচক পরিবেশ তেমন নেই বললেই চলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- টেকনাফ উপজেলায় সক্ষম দম্পতির সংখ্যা ৪০ হাজার ১২৩, পদ্ধতি গ্রহণকারীর সংখ্যা ৩০ হাজার ২৮৩। স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ্ধতির সেবা গ্রহীতার অগ্রগতির হার আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬.০৫ এ উন্নীত হয়েছে। জুলাই ২০১১ থেকে জুলাই ২০১২ ইং সহ ৩৪৫ জন স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তম্মধ্যে ২৪৫ জন পুরুষ ও ১০০ জন মহিলা এবং ৩৮৮ জন অস্থায়ী পদ্ধতির সেবা নিয়েছেন। তম্মধ্যে ১৬০ জন আইইউডি ও ২২৮ জন ইমপ্লান্ট। ২০১১ সনের আদমশুমারী মতে টেকনাফ উপজেলার জনসংখ্যা ২লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৪ জন । তম্মধ্যে ১লাখ ২১ হাজার ২৭০ জন পুরুষ এবং ১লাখ ১৭ হাজার ৭৭৪ জন নারী। সরকারী হিসাব মতে টেকনাফ উপজেলায় পুরুষ শিক্ষার হার (শুধু কোন মতে নিজের নাম লিখতে জানে এমন সহ) ২৯.২৯ এবং নারী শিক্ষার হার ১৯.০৬। এই বিশাল জনগোষ্ঠির মধ্যে সেবা দানকারী সরকারী দপ্তর উপজেলা পরিবার পরিকল্পন বিভাগে জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল। উপজেলা অফিস পর্যায়ে মঞ্জুরীকৃত পদে অর্ধেকই শুন্য। মাঠ পর্যায়ে ৫৮ টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন, ৩০টি পদ শুন্য রয়েছে। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া ও সাবরাং সাব-সেন্টার(বর্তমান নাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র) রয়েছে। তম্মধ্যে জনবলের অভাবে হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সাব-সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। অতি গুরুত্বপূর্ণ অফিস প্রধান উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নেই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার অফিসার মোঃ আবুল কাশেম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে টেকনাফের দায়িত্ব পালন করেন। মেডিকেল অফিসার(এমওএমসিএইচ-এফপি)নেই প্রায় একযুগ ধরে। ক্যাম্প পরিচালনা করে মেরী স্টোপস ক্লিনিকের রবিন টিম। তবে শ্রুতিপূর্ণ চাকমা নামে ১ জন সহকারী পঃপঃ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছেন। সিনিয়র ভিজিটর, স্যাকমো, ভিজিটরসহ অফিস, ক্লিনিক ও মাঠ পর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শুন্য থাকায় জন গুরুত্বপূর্ণ এবং সেবামূলক এই দপ্তরে কাংখিত গতিশীলতা আসছেনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে সেবামূলক এই দপ্তরের কর্মকান্ড আশানুরুপ সফলতা আনতে এবং বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা (সিএআর) অর্জন ও অগ্রগতির হার বৃদ্ধি করতে হলে শুন্য পদ গুলো পূরণ করার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক তৃণমূল পর্যায়ে উদ্ভুদ্ধকরণ সভা জোরদার করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত রিসোর্সপারসন মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী বলেন- সেবা মূলক সরকারী এই দপ্তরের সেবার মান বৃদ্ধি এবং কার্য্যক্রমে গতিশীল করতে হলে বয়স সন্ধিকালে কিশোর- কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনা বিষয়ক সভা, উদ্দিষ্ট জনগোষ্টি, অভিভাবক, শিক্ষক, মিডিয়াকর্মী, ধর্মীয় নেতা, সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী, সোশ্যাল মার্কের্টিং মোম্পানীর(এসএমসি) প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ঘনঘন গ্রাম পর্যায়ে সচেতনামূলক সভা ও এডভোকেসী সভার আয়োজন করতে হবে।############

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “টেকনাফে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহীতা বাড়ছে”

  1. জেড করিম জিয়া, says:

    টেকনাফে রোহিঙ্গা ও বয়স্কদের নিয়ে স্থায়ী জন্মবিরতি করণ পদ্ধতি
    ০১/০৯/২০১২

    জেড করিম জিয়া, টেকনাফ
    বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত পরিবার পরিকল্পনা স্থায়ী জন্মবিরতি করণ পদ্ধতি কার্যক্রম সারাদেশে পরিচালিত হলেও টেকনাফে চলছে রোহিঙ্গা ও বয়োজ্যোষ্টদের নিয়ে।
    সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জনসংখ্যার রোধ প্রকল্পের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের যোগসাজসে রোহিঙ্গা ও বয়স্কদের অর্থের প্রলোভন দিয়ে অর্šÍভূক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
    গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কিছু নারী-পুরুষ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থায়ী জন্মবিরতি করণ ও অস্থায়ী পদ্ধতিতে অর্šÍভূক্তি হওয়ার জন্য অপারেশন থিয়েটারের সামনে ভিড় করেছিলেন। এসময় অপারেশন শেষে বেরিয়ে আসা আবুল কাশেম (৭৭) কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে মিয়ানমারের নাকফুরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানায়। তাদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোন ধরনের উত্তর দিতে পারেনি। তিনি মাঠকর্মীর হাত ধরে ২ হাজার টাকা ও লুঙ্গির প্রলোভন পেয়ে এপদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এছাড়া টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন বয়োজ্যোষ্ট স্থানীয় বাসিন্দাকে দেখা যায়।
    এ সময় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (টেকনাফ সদর) মনোয়ারা বেগম, পরিদর্শিকা (সাবরাং) আয়েশা বেগম ও পরিদর্শিকা (বাহারছড়া) মিতা বড়ূয়াকে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলেন, রোহিঙ্গাদের এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য সরকারিভাবে অনুমতি রয়েছে বলে তারা দাবী করেন।
    নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্ধতি গ্রহণকারি একজন অভিযোগ করে বলেন, নগদ ২ হাজার টাকা ও লুঙ্গি পাওয়ার আশায় এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে আসলেও মাঠকর্মী কমিশন বাবদ তার কাছ থেকে কিছু অর্থ কেটে নেয়। টেকনাফ পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার টেকনাফে স্থায়ী পদ্ধতিতে ১৫জন পুরুষকে এনএসভি, ২জন মহিলাকে টিউভেকটমী ও ২মহিলাকে ইমপ্লান্ট অস্থায়ী পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের সরকারিভাবে একটি লুঙ্গি/ শাড়ি ও নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়।
    এ প্রসঙ্গে টেকনাফ পরিবার পরিকল্পনা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা নাগরিক ও বয়োজ্যোষ্টদের করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে শুনেছি। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT