টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩
  • ১১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Teknaf Pic 28.07 (2)মমতাজুল ইসলাম মনু টেকনাফ ::::বৃষ্টির তীব্রতার কাছে এ ক’দিনে ছাতা, ওয়াটারপ্রুপ ঘরের ছাউনির ঢেউটিন এমনকি জমানো ছাদও হার মেনেছে। বাজার-অফিস মুখোরা ঘরে, ঘরমূখোরা বাজারে-অফিসেই বন্দী হয়ে পড়ছেন। ঘর থেকে বেরোনোই মশকিল হয়ে পড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় ভোক্তভোগীরা। টেকনাফে নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের পর সারারাতের বর্ষণে উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সেন্টমার্টিন ও বাহারছড়া ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, চিংড়ি ঘের, বসতবাড়ী, পানের বরজ পানিয়ে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে ভাঙা রাস্তার গর্তে পড়ে প্রাইভেট কার থেকে শুরু করে সবধরনের হালকা যানগুলোকে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। আর বৃষ্টিতে রাস্তা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে টেকনাফ পৌর এলাকা ও হ্নীলা বাস ষ্টেশনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজব্যবস্থা উন্নয়নের নামে হাজার হাজার টাকা খরচ করা হলেও বস্তুত কোনো সুফল পাচ্ছে না জনগণ। কয়েকদিন পরপর রাস্তা খোঁড়াখুড়িঁর কারণে যানজট লেগেই থাকে। সমাজ সেবক ও সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম খোকন আজকের কক্সবাজারকে জানান, বছরের পর বছর সামান্য বৃষ্টিতে হ্নীলা ইউনিয়নের ষ্টেশনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুড়ির কারণে এবং কর্তৃপরে সমন্বয়হীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পূর্ণিমার জোয়ারের পানি ও ভারী বর্ষণে উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে শত সহ¯্রাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এখানকার লাখের কাছাকাছি মানুষ। পূর্ণিমার জোয়ারের সাথে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে টেকনাফ উপকূলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাবরাং, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং এর বেশির ভাগ আঞ্চলিক সড়ক হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়নের তুলাতলী, লম্বাবিলসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী প্রায় ১ শ’ পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদেরকে নিজেদের মত করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অপরদিকে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া, মোরা পাড়া, উলুচামরী, লেদা আলী আকবর পাড়া, রঙ্গীখালীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ে বসবাসকারী প্রায় দেড়শ’ পরিবারকে তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে জানিয়েছেন-পরিষদের সচিব আবদুল হাকিম পাহাড়ী। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক চিংড়ি ঘের, বসতবাড়ী, রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে মানুষের দূর্ভোগ ও ক্ষতির মাত্রা চরমে উঠেছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান,তার ইউনিয়নে বেশ ক’টি আঞ্চলিক সড়কে পানি জমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানান, তার এলাকার বিপর্যস্ত শাহপরীর দ্বীপের অবস্থা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার থেকে টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে এখানকার আরো কয়েকটি গ্রাম প্লাবণের মুখে পড়েছে। শনিবার মাঝারি ঝড়ো হাওয়ায় শাহপরীর দ্বীপের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ীর বাঁশ ও টিনের ঘেরা নষ্ট হয়ে গেছে। শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার এক বাসিন্দা ফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া আজকের কক্সবাজারকে জানিয়েছেন-প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষনিক কাজ করছে। ====

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT