টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আবার ধোঁয়াশা পদ্মা সেতুতে…

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কিছু শর্তের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন সাপেক্ষে পদ্মা সেতু প্রকল্পে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা বিশ্বব্যাংক দিয়েছিল গত ২০ সেপ্টেম্বর। এর পর থেকে নানাজন নানা কথা বলছেন। কেউ বলছেন, নতুন চুক্তি করতে হবে। কেউ বলছেন, পুরনো চুক্তিতেই চলবে। কেউ বলছেন, চুক্তি পুনর্বহাল হলেও এক বছরের আগে কাজ শুরুই করা যাবে না। অর্থমন্ত্রী বলছেন, মার্চ-এপ্রিলেই শুরু করা যাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের আসা নিয়েও একেকবার একেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে কাজ-কারবার যে সংস্থাটির, সেই ইআরডির কর্মকর্তারাও পরিষ্কার করে কিছু বলছেন না। এসব অস্পষ্টতার মধ্যেও সহ-অর্থায়নকারী এডিবি ও জাইকার বিবৃতি বাড়তি আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের গতকালের বিবৃতিতে নতুন করে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।
আরো কিছু শর্তের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন হলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন করে সম্পৃক্ত হবে_গত শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ কথাই বলেছিল। পাঁচ দিন পর আরো একটি বিবৃতি দিয়ে সংস্থাটি সেই একই কথা ব্যাখ্যা করল। নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের এক দিন পর ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে বিরক্তি ও কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। বেশ কড়া ভাষায় লেখা ওই বিবৃতিতে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গণমাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন
করা হচ্ছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বব্যাংক সার্বিকভাবে বাংলাদেশের এবং বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। এ কারণেই আমরা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হওয়ার জন্য নতুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা প্রকল্পের ক্রয় কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাংক ও সহ-অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর আরো নিবিড় পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে। শুধু এসব পদক্ষেপের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এঙ্টারনাল প্যানেল থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে।’
গত শুক্রবার সংস্থাটির বিবৃতিতে বরফ গলার যে আভাস পাওয়া গিয়েছিল, গতকালের বিবৃতিতে তা ম্লান হয়ে পড়েছে। এ বিবৃতি থেকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা নিয়ে আবারও জটিলতার আভাস পাচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিলে দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের নেপথ্যে অপরাধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাঁর সরকার তদন্তকাজ চালিয়ে যাবে। দুর্নীতি হলে বিশ্বব্যাংক ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিত না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকে বলেছি, এ বিষয়ে আমরা পূর্ণ তদন্ত চাই। আমি জানতে চাই অর্থায়ন কেন বাতিল করা হয়েছিল।’
গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন সরকারি ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে একাধিকবার দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি বাতিল করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের দেওয়া কিছু শর্ত পূরণে গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার সম্মতি জানিয়েছে। সম্মতি জানানো বিষয়গুলো হচ্ছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন সব সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিকে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে ছুটি দিতে হবে। এ অভিযোগ তদন্তের জন্য বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি বিশেষ তদন্ত ও আইনি দল গঠন করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি এঙ্টারনাল প্যানেলের কাছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সব তথ্যের পূর্ণ ও পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ করে দিতে হবে। যাতে করে এ প্যানেল তদন্তের ব্যাপকতা ও সুষ্ঠুতার ব্যাপারে উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ দিতে পারে। এরপর সরকার পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি আবারও বিবেচনা করার জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানায়।
গতকালের বিবৃতিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে এ বিবৃতি পদ্মা সেতুর অর্থায়নে কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বিবৃতিতে নতুন কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ। তাহলে নতুন করে বিশ্বব্যাংকের এমন বিবৃতির কারণ জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ‘সেটি আপনারা বিশ্বব্যাংককে জিজ্ঞেস করুন।’ তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক নতুন করে কোনো শর্ত আরোপ করেনি। বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড়ে চারটি শর্ত আরোপ করেছিল। আর এ চারটি শর্তই পালন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিবৃতির কোথাও বলা হয়নি যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করবে না।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সব শর্ত পালনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে সংস্থাটির সঙ্গে সরকারকে একটি চুক্তি সই করতে হবে বলে জানান ইআরডির সিনিয়র সচিব। এ-সংক্রান্ত একটি টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। টিওআর-এ সংস্থাটির দেওয়া সব শর্ত পালন করা, বাতিল হওয়া পুরনো চুক্তি পুনর্বহাল, নতুন করে চুক্তি সই এবং প্রকল্পটিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার অঙ্গীকারের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ও বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের এ বিবৃতিটি মূলত প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। এতে নতুন করে ঘাপলা তৈরি হতে পারে। সরকার যদি সত্যি পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অংশগ্রহণ চায়, তাহলে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এ ধরনের ‘অতিকথন’ পরিহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উচ্চ পদে কাজ করা এ অর্থনীতিবিদ।
বিশ্বব্যাংক বলেছে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ প্রকল্পে নতুন করে সম্পৃক্ত হবে। এ ঘোষণাকেই বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা বলে গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর একদিকে যেমন স্বস্তি দেখা গেছে, অন্যদিকে বলা হয়েছে_সরকার দুর্নীতির দায় মেনে নিয়েছে বলেই বিশ্বব্যাংক ফিরতে সম্মত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত এসব সমালোচনারই জবাব দিতে গিয়ে ওই মন্তব্য করেছেন। ড. আহসান মনসুর মনে করেন, বিরোধী দল বা সমালোচকরা যা-ই বলুক, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বা সরকারের কোনো মুখপাত্র থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসা বাঞ্ছনীয় নয়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারকদের পরিপক্বতার (ম্যাচিউরিটি) অভাব রয়েছে। নিজেদের অর্থও নেই, বিশ্বব্যাংকের অর্থ প্রাপ্তির ব্যাপারেও আমরা সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগোতে পারছি না। পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ব্যাপারে আমাদের সরকার যে কতখানি দায়িত্বহীন ও অপরিণামদর্শী আচরণ করেছে, তা পিএইচডি থিসিসের জন্য একটি টেঙ্টবুক এঙ্াম্পল হয়ে থাকবে।’
বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি প্রভাব ফেলবে না : অর্থমন্ত্রী
এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের নতুন বিবৃতি পদ্মা সেতুর অর্থায়নে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটি বাতিল করেছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রকল্প বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণ করা হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। চার দিনের সফরে বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছেন অর্থমন্ত্রী। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কথা বললেও সেটি প্রমাণিত নয়। দুর্নীতি অনুসন্ধানে বর্তমানে বিশ্বব্যাংককে ‘অনেক বেশি অংশীদারিত্ব’ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি শেষেই সেতুর কাজ শুরু হবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশ বাড়বে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কম খরচে ভালোভাবেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আগের নকশা অনুযায়ী সেতু নির্মাণ হবে। শুধু সিডিউল পরিবর্তন হবে

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “আবার ধোঁয়াশা পদ্মা সেতুতে…”

  1. ha ha ha bhai era ki DIGITAL BANGLADESH er manush ??????? ekhon o porjonto , oshikkito , ,,, acharon eder bitore ase ki bhabe dehse digital ashbe , kata kati a k r ek jon k takar khomotar bahadoori dekhawar cheshta ,, 1978 shale ekta teknafer shondhur kotha / gulfo shonsi , onek onek hanshar kotha , teknafer ek dhonir poriba r ek dhonir poribar k bollo , pans shoti not koto dile ek KG hoi, ,,,, tar mane je party giggasha korse unara e shreshto dhoni, tokon kar shomoi a rokom kono NAP TOLER system chilo na je eto halka jinish napa jai,,,, aj ker bishoi ti shone theek 1978 er kotha mone porse allah o akbar
    ki je desher nagorik amra asian deshe manush ekhon chander deshe pouce gese amra ekhon o mati te jughra kora shesh korte pari nai , haire bangladesh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT