টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে ঈদকে সামনে রেখে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে হুন্ডির ও জাল টাকার ব্যবসা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৩
  • ১১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Helal Pic 03-08-2013হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ ॥ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে আশংকা জনক হারে বৃদ্বি পেয়েছে হুন্ডি ও জাল টাকার ব্যবসা। ব্যবসায়ীরা ব্যস্ততার সাথে পাল্টা দিয়ে সকাল থেকে রাতভর পর্যন্ত উপজেলার ৬ ইউনিয়নে চলে একই তালে লেনদেন। এ কাজে জটিত রয়েছে অর্ধ শতাধিক রোহিঙ্গাসহ মধ্যপ্রাচ্যের ভিবিন্ন দেশে থাকা লোকজনদের বিত্তশালী আত্বীয়-স্বজন ও সংঘবদ্ব প্রতারক চক্র।  এর মাধ্যমে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। তবে ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীর গডফাদাররা।
প্রাপ্ত তথ্যে ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চড়িয়ে থাকা ঐসব হুন্ডি ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ প্রন্তায় ঐ ব্যবসা। তবে ঐ ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারী-বেসরকারী অনেক ব্যংকে কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে ঐ ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। এদিকে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের শত শত রোহিঙ্গা নাগরিকসহ দেশের লাখ লাখ মানুষ অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, সৌদী আরব, দুবাই, ইতালি, জার্মান, জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তাদের আত্মীয়-পরিজনরা বর্তমানে টেকনাফের বিভিন্ন লোকালয়ে অবৈধভাবে এবং শরণার্থী হিসেবে বসবাস করার ফলে প্রতিদিন বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রসেস অনেকের জানা না থাকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যপারে গনসচেতনতার অভাবে টেকনাফে বেশিরভাগ প্রবাসী পরিবারের টাকা প্রাপ্তির সহজ মাধ্যম হচ্ছে হুন্ডি। মাসে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে কক্সবাজার ও টেকনাফের বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়েছে প্রায় কোটি টাকার উপর।
সূত্রমতে, জেলায় বর্তমানে প্রায় দেড়শ জন হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে। এরমধ্যে টেকনাফে আছে প্রায় ত্রিশজন। তাদের সাথে সৌদিআরব এবং দুবাই হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুবাই-সৌদিআরব-মশকট থেকে পাকিস্তান-সিঙ্গাপুর হয়ে হুন্ডির মাধ্যমে টেকনাফ কক্সবাজারের বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচিত ব্যবসায়ী একাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। হুন্ডি ব্যবসায়ীদের স্ব-নামে বা অন্য নামে রয়েছে ব্যাংক একাউন্ট। এ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে এলাকায় বিলি-বন্টন করা হয়ে থাকে। এছাড়া শতাধিক দালাল রয়েছে হুন্ডি কব্যবসায়ীদের সহযোগী হিসেবে। তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যেমে বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশীয় হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রাপকের নাম-ঠিকানায় পৌঁছে দিচ্ছে। ‘টাকা বুঝে পেয়েছি’ মর্মে একটি ছোট স্বাক্ষর নেয় হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। এর ফলে সরকার প্রতি বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে গেলেও গডফাদাররা আটক হয় না। তাদের মানি লান্ডারিং আইন প্রয়োগ করার কথা থাকলেও এর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। এছাড়াও টেকনাফে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার লোকজনও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার বা জিঙ্গাসাবাদ করছেন না। এ ছাড়া ওপেন সিক্রেট এ ব্যবসার খবর জানলেও না জানার ভান করে থাকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। উপজেলায় অবস্থানরত একাধিক সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা সুত্রে জানা যায়, টেকনাফে প্রায় প্রতিদিন কোটি কোটি হুন্ডির মাধামে বৈদেশিক মুদ্র লেনদেন হচ্ছে। এ সবরে বিস্তারিত তথ্য, চক্রের সদস্য তালিকা ও ডলার পাচার করীদের ব্যপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মুজাহিদ উদ্দিন জানান, হুন্ডি ব্যবসা প্রতিরোধ করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যংক বরাবর হুন্ডি ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে বলে দেওয়া হয়েছে। গোয়ান্দা নজরদারীর পাশা পাশি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের দাবী, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তলিকা তৈরী করে তাদের আইনুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারকে রাজস্ব ঘাটতি থেকে বাচাঁতে হবে। তাই সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
######################

হেলাল উদ্দিন,
টেকনাফ ॥
মোবাইল নং-০১৮২৪-৩২১৬৩৫

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT