টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

টেকনাফে ইয়াবা আগ্রাসন : বাড়ছে আপরাধ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

yabaকক্সবাজার রিপোর্ট:
টেকনাফ জুড়ে এখন চলছে ইয়াবার আগ্রাসন। মাদক দ্রব্য ইয়াবা ব্যবসায় করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া ব্যক্তিরা অনুমতিবিহীন মোটর সাইকেল, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ছাড়াও নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। এতে কেউ প্রতিবাদ করলে চলছে নানামুখি হয়রানী ও নির্যাতন। ফলে সাধারণ মানুষ এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। শুরু মাত্র এ ইয়াবার অর্থের গরমে ঈদের নামায শেষে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে ঈদ আনন্দ করতে বের হয়ে টেকনাফের নাজিরপাড়া এলাকায় নিহা মনি (৪) নামে এক শিশু কন্যা আহত হয়েছে। এতে আহত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকার প্রবাসী দুদু মিয়ার কন্যা। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।
শিশুর পরিবার সূত্র জানিয়েছে, আহত শিশুটির চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এব্যাপারে  মামলা হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ আসামী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, মাদক দ্রব্য ইয়াবা ব্যবসার বিরোধের জের ধরে টেকনাফের নাজির পাড়া ২টি গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে। এ ২ গ্রুপের বিরোধের জের ধরে শিশুটি চিরতরে অন্ধ হতে বসেছে।
সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকা দুইটি সমাজে বিভক্ত হওয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে দুই সমাজ পৃথক ব্যবস্থা নেয়। একটি মসজিদে অন্যটি মাঠে আলাদা প্যান্ডেলে ঈদের নাযাজ আদায় করে। নামায শেষে স্থানীয় মোঃ ইসলামের ছেলে কামালকে প্রতিপক্ষের নুরুল হক ভুট্টো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। এর এক পর্যায়ে ভূেট্টা গুলি বর্ষণ করলে নাজিরপাড়ার এলাকার প্রবাসী দুদু মিয়ার ৪ বছরের শিশু কন্যা নিহা মনি গুলিবিদ্ধ হয়।
এলাকাবাসির অভিযোগ, ভুট্টো ও গুরা মিয়া বাহিনী একের পর এক অপরাধ সংঘঠিত করে আসলেও তারা কোনদিন পুলিশের আওতায় আসেনি। এছাড়া ৫ জুলাই ভুট্টো বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র, দা, কিরিছ ও লাঠিসোটা নিয়ে টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে ১৫/২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ, লোকজনকে মারধর ও কার ভাংচুর করে। এসময় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দা, কিরিছ ব্যবহারের ছবি টেকনাফের কয়েকজন সংবাদকর্মী তুলতে গেলে তাদেরকে ধাওয়া করে। এর আগেও ভুট্টো ও গুরা মিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে শিলবুনিয়াপাড়ার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত, একই এলাকার কালুর বসত বাড়ি, মোটর সাইকেল ভাংচুর ও হাতের আঙ্গুল কেটে নিয়ে ফেলা হয়, একই এলাকার জাফর নামে দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের মাথা ও আরেকজনের কান কেটে নেয়। সাবরাং’র এর এক ব্যক্তির হাতের কব্জি কেটে নেয় এবং দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার পুতুইন্যার পুত্র মোঃ ইসমাইলকে মাথায় ছুরিকাঘাত সহ একের পর এক নানান অপরাধ মূলক কর্মকান্ড সংঘঠিত করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়াবার বিরাট বাজার। এমনকি বিজিবি সদস্যরা এলাকায় ইয়াবা অভিযানে গেলেও এবাহিনী তাদেরকে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে। একদিকে ইয়াবার অবৈধ টাকা অন্যদিকে অস্ত্রধারী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না । যদিও টেকনাফ থানা ওসি মোঃ ফরহাদ জানান, শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঈদের দিন ঈদের নামাযের মাঠে ছুরিকাঘাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালী পাড়ায় ২ জন আহত হয়। ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি এক পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সোমবার রাতে টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসার হিসাব নিয়ে ছুরিকাঘাতে আরো এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার ছিদ্দিক আহমদ প্রকাশ ব্লেক ছিদ্দিকের পুত্র ফরিদ আলমের (২৮) সাথে ডেইলপাড়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী মকতুল হোসনের পুত্র মোঃ রফিক (২৬) তারা অপরাপর ভাইরাভাই হওয়ায় পার্টনার হিসেবে গত ২ বছর যাবত মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও ভারত থেকে চোরাই পথে মোটর সাইকেল ব্যবসা করে আসছিল। ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতো মোঃ রফিক এবং মোটর সাইকেল ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ফরিদ আলম। তাদের ব্যবসার হিসাব নিয়ে গত কয়েকমাস ধরে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরপ্রেক্ষিতে গত ১২ আগস্ট সোমবার রাত ১০ টার সময় ফরিদ আলম তার নোহা গাড়ী নিয়ে বাসষ্টেশনে যাওয়ার পথে হোটেল দ্বীপপ্লাজার সামনে রাস্তার পাশে মোঃ রফিককে দেখতে পেয়ে তার কাছ থেকে পাওনা টাকা চাইলে রফিক ও মোটর সাইকেল ব্যবসার হিসাব চাইলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হলে ফরিদ আলম কোমর থেকে ছুরি বের করে রফিককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
এসব অপরাধ ছাড়া ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের ধরে গত ২ বছরে হত্যা সহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে টেকনাফে। একই সঙ্গে অনুমতিবিহীন মোটর সাইকেলের ছাড়াছড়ি চলছে। স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের রিক্সা চালক কোটি টাকার মালিক হয়ে এখন মোটর সাইকেল চালাচ্ছে। তাদের বেপরোয়া মোটর সাইকেলের ধাক্কায় প্রতিনিয়ত পথচারী আহত হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করলেও প্রশাসন নিরব রয়েছে। এতে চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT