টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

টেকনাফে আইন শৃঙখলার চরম অবনতিঃ ছাত্রলীগ নেতা ওসমানকে গুলি করে হত্যা! স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৮৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ::
আইন শৃঙখলার চরম অবনতিঃঃ খুন, ছিনতাই-ডাকাতি, অপহরণ,ধর্ষন ও মাদকের সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রশাসন দেখেও না দেখার বান করে আছে। মনে হয় যেন দেখার কেউ নেই।
টেকনাফে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা!
টেকনাফের সাবরাংয়ে ইয়াবা ও মানব পাচারকারীর গুলিতে মোহাম্মদ উসমান সিকদার (৪০) নামে একজন ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।
সে উপজেলা সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া গ্ৰামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে, উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাবরাং ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
আজ শুক্রবার ভোররাত সাড়ে পাঁচটার দিকে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার সময় বাড়ির সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোলতান মাহমুদ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানায়, গত ২৭ শে ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় একটি ইজিবাইক (টমটম) চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করেন উসমান শিকদার। এসময় উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ওরফে খুলু মেম্বারের ছেলে মোহাম্মদ শাকের ও কাটাবনিয়ার মোহাম্মদ কাসিমের ছেলেকে কেফায়েত উল্লাহ অতর্কিতভাবে উসমান সিকদারের উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে আহত করা হয়। এরপর উসমান সিকদার বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনার সূত্রপাত ধরে, আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার পথ গতিরোধ করে পর পর গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। গুলির শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উসমানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আয়ুব হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগে উসমান শিকদার মারা গেছে। তার শরীরের তিনটি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইয়াবা ও মানব পাচারকারী তালিকাভুক্ত। তাদের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ নিহত ছাত্রলীগ নেতার লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে টেকনাফে পারিবারিক কলহের জেরধরে বার্মাইয়া রাখাইন স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্থানীয় ৩ সন্তানের জননী নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশাপাশি অনেক মিয়ানমারের রাখাইন নারী—পুরুষ রাখাইন ও চাকমা পল্লীতে বসবাস করে আসছে। তারা অবাধে মিয়ানমারে যাতায়ত করে থাকে। কেউ মুখ না খোলা এবং চেহারার পার্থক্য সনাক্ত করতে না পারার কারণে তারা দীর্ঘদিন সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বসবাস করছে। তাদের মধ্যে অনেকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওপারে পাচার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকালে উপজেলার হ্নীলা চৌধুরীপাড়া রাখাইন পল্লীতে উছিংগ্যার মেয়ে চ খিং ওয়ান (৪৩) এবং স্বামী বার্মাইয়া উক্য ওয়ান এর সাথে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীর বুকের দুই পাশে, তলপেট ও হাতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে সে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যায়। তখন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মহিলার ২য় ছেলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রক্তাক্ত নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘাতক স্বামী আটক এড়াতে পালিয়ে যায়।
নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্রাম সর্দারসহ স্থানীয় মুরুব্বীদের সাথে কথা বলেন। এরপর ঘাতক পানখালী পাহাড়ি ঢালায় আত্নগোপনের খবর পেয়ে উপস্থিত জনসাধারণের সহায়তায় স্বামীকে জনৈক জাফরের পেয়ারা বাগান থেকে আটক করে।
রাখাইন পল্লীর সর্দার মাষ্টার মংথিং অং জানান, ঘাতক স্বামী ছোটকাল হতে বার্মা থেকে এসে এই গ্রামে বসবাস করছিল এবং নিহত মহিলার সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৩ জন সন্তানের আগমন ঘটে। এরপূর্বেও ঘাতক স্বামী তার স্ত্রীকে দুইবার ছুরিকাঘাত ও গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করে দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক তবে ঘাতক স্বামীকে সাথে সাথে আটক করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে ঘাতক স্বামীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে’। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT