টেকনাফে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার :২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশ: ২২ মে, ২০২০ ৭:৫৩ : পূর্বাহ্ণ

এম আমান উল্লাহ আমান,টেকনাফ:: টেকনাফে শিশু মুজিবকে অপহরণের ৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী।

গত কাল ২১ মে রাত ৮ ঘটিকায় টেকনাফ আলো শপিং কমপ্লেক্সে থেকে মুজিবুর রহমান (৮) কে অপহরণ করেছে।

মুজিবুর রহমান আলো শপিংস্থ পান দোকান ব্যবসায়ী আবদুরাজ্জাকের পুত্র। অপহরণ চক্রটি পার্শ্ববর্তী সেলুনে চুল কেটে বাসষ্টেশন তার দোকান থেকে টাকা দেওয়ার নামে মুজিব কে সাথে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেক পর মুজিবকে অপহরণ করে অপহরণকারী চক্র। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে ২ লাখ টাকা।

মুক্তিপণের টাকা বিকাশে দেওয়ার জন্য অপহরণকারী একটি মোবাইল নাম্বার দেয়। সে মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে মুজিবকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অপহরণকারী টেকনাফ নোয়াখালী পাড়ার মতিয়ার রহমানের পুত্র আজিজুর রহমান (২২), শিশু মুজিব কে অপহরণ করে বিকাশের নাম্বার বহনকারী চট্রগ্রামের মনসুর আলমের স্ত্রীর মোবাইল নাম্বারে মুক্তিপণের ২লাখ টাকা দিতে বলে। কিন্তু এব্যাপারে কিছুই জানেনা মনসুর আলম ও তার স্ত্রী।

এদিকে মুক্তিপণের ২লাখ টাকা না দিলে মুজিবকে ছাড়া হবেনা বলে বারবার যোগাযোগ করে অপহরণের হুতা আজিজ। অবশেষে টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফী’র একান্ত প্রচেষ্টা ও সুকৌশলে অপহরণকারীর দেওয়া বিকাশের নাম্বার বহনকারী চট্রগ্রামের মনসুর আলমের তথ্যসূত্র এবং তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী এলাকাবাসী সহায়তায় মুজিবকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে অপহরণের মুলহুতা আজিজুর রহমানকে আটক করতে পারেনি।

অপরদিকে জানাজায় রাত ১২টার দিকে একটি শিশুকে নিয়ে একজন লোক নোয়াখালী পাড়ার পাহাড়ের দিকে যেতে দেখলে এলাকাবাসী তাকে ধরার জন্য দৌড়ালে ভয়ে শিশুটিকে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারী। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দেয় নোয়াখালী পাড়ার এলাকাবাসী।

এব্যাপারে শিশু মুজিবের বাবা আবদুর রাজ্জাক জানান, সাংবাদিক সাইফী’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার আদরের নিষ্পাপ শিশুকে প্রাণে ফিরে পেয়েছে। এজন্য তিনি আল্লাহর দরিবারে লাখো শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। এবং অপহরণকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে আইনগত বিচার দাবি করবে বলে জানান।

টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফী জানান, এই উদ্ধার কর্মে সফলতার জন্য সহযোগিতা করেছে চট্রগ্রামের মনসুর ও তার স্ত্রী। তারা আমার কথামত অপহরণকারী আজিজকে মুক্তিপণের টাকা পেয়েছে বলে মিথ্যা কথা বলে তার নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে দিয়ে আমাকে এই মহৎ কাজ করতে বিশেষ অবদান রেখেছে। উদ্ধার কাজে সহযোগী  এলাকাবাসী ও  তাদের প্রতি আমি এবং মুজিবের মা-বাবা চিরকৃতজ্ঞ।


সর্বশেষ সংবাদ