টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

টেকনাফের সেই মুক্তিযুদ্ধা ভুতু মিয়া এখন নিজেই আশ্রয়হীন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ ছলাহ উদ্দিন,টেকনাফ ::::একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে যখন পাকসেনাদের দোসর রাজাকার-শান্তি কমিটির আতঙ্কে এলাকাবাসী তটস্থ; তখন টেকনাফের হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়া গ্রামের ১৯ বছরের টগবগে তরুণ দিনমজুর কাদির হোছন প্রকাশ ভুতু মিয়া স্থানীয় রাজাকারদের রক্তচু উপো করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকারী আইয়ুব বাঙ্গালীর বিধবা মা ও ছোট ভাই-বোনদের আশ্রয় দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল- সেই অকুতভয় ভুতু মিয়া এখন ৬১ বছরে এসে প্যারালাইসিস রোগে অবস শরীর নিয়ে অবিবাহিতা ষোড়ষী কন্যা রাবেয়াকে নিয়ে আশ্রয়হীনভাবে দুর্বিসহ যাতনায় দিনাতিপাত করছেন। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার সুঠামদেহী এক সময়ের ভুতু মিয়াকে দেখলে এখন সহজে চেনা যায় না। তিনিও কাউকে চিনতে পারেন না। পরিচিত কেউ কাছে গেলে হ্যান্ডসেকের জন্য হাত বাড়িয়ে কেবল কাঁদতে থাকেন। কিছু একটা বলতে চান, কিন্তু গোঙ্গানীর শব্দ ছাড়া বোধগম্য কোন শব্দ বের করতে পারেন না। এভাবে অব্যক্ত যাতনায় কেবল তিনি চোখের পানি ঝরান। ৬ কন্যার জনক ভুতু মিয়ার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তাঁর একমাত্র অবিবাহিতা ষোড়ষী কন্যা রাবেয়াকে নিয়ে পুঁতিগন্ধময় বসবাস অযোগ্য ছোটভাই নবী হোছনের এক চিলতে বারান্দায় তিনি বাস করেন। ৫ কন্যাকে বিয়ে দিতে তাঁর শেষ সম্বল পৈত্রিক সম্পত্তি বেচে দিয়ে তিনি এখন সহায়-সম্বলহীন। ছেঁড়া কাথায় শুয়ে-বসে কিংবা রাস্তায় ভিার থালা নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে তাঁর দিনকাটে। তাঁর দ্বিতীয় কন্যা ছমুদা বেগম দিনমজুর স্বামী নূর মোহাম্মদকে নিয়ে বাবা ও একমাত্র অবিবাহিতা বোনের লালন-পালন করে আসছে। ছমুদা জানান, তার বাবার চিকিৎসা বলতে মাঝে-মধ্যে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দিয়ে কিছু ঔষধপাতি খাওয়ানো ছাড়া আর কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর বাবা ভুতু মিয়া গোঙ্গানী ভাষায় কি বলতে চান জানতে চাইলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছমুদা জানান, বাবা মারা গেলেই চাচার এই বারান্দা ছাড়তে হবে। তাঁর বাবার ভাবনা, তিনি (ছমুদা) স্বামী-সংসার নিয়ে শ্বাশুড় বাড়ী চলে গিয়ে শান্তিতে থাকলেও ছোট বোন রাবেয়ার কি হবে- এটাই তাঁর বাবা ভুতু মিয়ার একমাত্র ভাবনা। মুক্তিযোদ্ধা আইয়ূব বাঙ্গালী জানান, একাত্তরের এপ্রিলের শেষের দিকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে আরো কয়েকজনের সাথে  গোপনে এলাকা ত্যাগ করলেও এখবর বেশী দিন গোপন থাকেনি। স্থানীয় রাজাকার-শান্তি কমিটির লোকজন তা জানতে পেরে তাঁর বিধবা মা ও ছোট ছোট ভাই-বোনদের ঘরছাড়া করে এবং তাদের আশ্রয় না দেয়ার জন্য এলাকায় ঢুল পিঠিয়ে দেয়। এতে তাঁর মা তাঁর এতিম ভাই-বোনদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে অসহায়ভাবে পড়ে থাকলে রাজাকারদের ভ্রুকুটি উপো করে আশ্রয় দিতে এগিয়ে আসে ভুতু মিয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই অকুতভয় ভুতু মিয়া এখন নিজেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। ################

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT