টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ

টেকনাফের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

bsf

রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে কক্সবাজার জেলায় বসবাসকারী সাড়ে ২২লক্ষাধিক মানুষ। পাশাপাশি রাত-দিন ঘুম নেই সীমান্তের বর্ডার গার্ড বিজিবি সহ স্থানীয় প্রশাসনের। প্রতিনিয়ত সীমান্তের বিজিবি’র চোঁখকে ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গারা অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখেছে। এই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি সীমান্ত পরিদর্শনে এসে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মণি।

বিভিন্ন সুত্রে আরো জানা গেছে, সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ২০০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়ার প্রস্তাবনা তৈরী করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমার সরকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

সরকারের বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থা সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহবান জানালে ও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের শরনার্থী হিসাবে আশ্রয় না দেওয়ার কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। দেশ ও জাতীর কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ উখিয়া-টেকনাফের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিজেদের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী নাসাকার সঙ্গে দফায় দফায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচারের ক্ষেত্রে নাসাকা কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। এই জন্যে কাঁটাতারের বেড়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সরকার। সরকারের এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দের ও প্রস্তুতি চলছে।

এব্যাপারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা নিয়মিত টহল দিয়েও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ করতে পারছেনা। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলে এর কিছুটা সমাধান হতে পারে। তিনি জানান, মিয়ানমার ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে নিজেদের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণ করেছে দেশটি।

উলেখ্য যে, বর্তমানে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে জাতীগত দাঙ্গায় এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মুসলিম গৃহহারা এবং ৫শতাধিক মানুষ মারা গেছে। মিয়ানমারের প্রায় ৮ লক্ষাধিক মুসলিম রয়েছে, যাদের নেই কোন নাগরিকত্ব, নেই কোন অধিকার। যার ফলে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে শত বছর ধরে।

সরজমিন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মণির নেতৃত্বে গত ১৭ আগষ্ট কুতুপালং শরনার্থী শিবির পরিদর্শন করেন, এবং বিভিন্ন জিও-এনজিও কর্তা ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সাথে ও তিনি খোলামেলা আলাপ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। যেখানে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেখানে আমাদের জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারছি না সেহেতু রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তাদের ব্যাপারে আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। যে কারনে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্যসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে, যার ফলে রোহিঙ্গারা এ দেশের গ্রামের মানুষের চেয়ে অনেক ভাল আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার ২০১৫ জন রোহিঙ্গাকে সে দেশে ফিরিয়ে নিতে  সম্মত হয়েছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্য বশতঃ সে দেশের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ওই সব রোহিঙ্গাদের যথা সময়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। তবে এখন সেখানে পরিবেশ শান্ত হয়ে উঠছে তাই ওইসব রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে কুটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে, যত দ্রুত সম্ভব রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গাদের মত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করা সমস্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য জাতি সংঘের মহাসচিব বান কি মুনও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে সম্প্রতি চাপ প্রয়োগ করেছে। আশা করা হচ্ছে মিয়ানমার সরকার গণতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে তাই রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। তাই এ দেশের ভূখন্ড রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোন জঙ্গী সংগঠন কে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে এদেশে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করতে চায়, এদের দমন করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সব সময় তৎপর রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় আর কোন রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় ঘুমধুম সীমান্ত পরিদর্শন করে বিজিবি’র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিয়কালে বলেছেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে বাংলাদেশ সরকার কাটা তারের বেড়া দেবে, এবং যোগাযোগ সুবিধার্থে সীমান্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে বলে তিনি ১৭ বিজিবিকে আশ্বাস্থ করেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT