টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফের গাজী পাহাড় অবশেষে জবর দখল মুক্ত করতে যাচ্ছে বন বিভাগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১২
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জসিম উদ্দিন টিপু …টেকনাফের ঐতিহাসিক গাজী পাহাড় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মোচনী বিট অফিসারের নেতৃত্বে দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল ৯ অক্টোবর সকালে বিট অফিসের কর্মকর্তা, গাজী পাহাড় রক্ষা পরিষদ ও স্থানীয় ভিলেজারের সহযোগীতায় বহুদিনের বেদখল হয়ে যাওয়া কাংখিত গাজী পাহাড়টি দখলমুক্ত হতে যাচ্ছে। এদিকে গাজী পাহাড় জবর দখল মুক্ত করার উদ্যোগে স্থানীয় জনসাধরণ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সর্বসাধরণের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। এতে হাজার হাজার এলাকাবাসী রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাদের সাধুবাদ জানিয়েছে।
বন বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, স্থানীয় কতিপয় বন খেকো দীর্ঘদিন ধরে গাজী পাহাড়ের র্পূব-উত্তর পার্শ্বের বিশাল অংশ কেটে পানের বরজ ও নানান প্রকার চাষাবাদ করে আসছিল। বন বিভাগ উক্ত বন খেকোদের দখলকৃত জায়গা ছেড়ে দিতে বহুবার মৌখিক নির্দেশ দিলে তারা কোন প্রকার কর্ণপাত করেনি। জবর দখলকারীরা উল্টো পাহাড় কাটার প্রতিযোগীতার আসর বসাতে থাকে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রশ্ন ছিল এদের শিকড় কোথায় যে তাদের কাছ থেকে গাজী পাহাড় রক্ষা করা যাবে না। কিন্তু গত কালই সাধরণ মানুষের মনের প্রশ্নের উত্তর পেতে শুরু হল। বন বিভাগের যোগ্য নেতৃত্বে স্থানীয়দের সহযোগীতায় উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সেই কাংখিত প্রতীক্ষার অবসান হল। এদিকে অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল আমির হোছাইনের পুত্র আব্দুস সালাম প্রকাশ কালু সওদাগর ও আব্দুস সোবহান পাহাড় কেটে পানের বরজ সহ বিভিন্ন চাষাবাদ করা জমি প্রশাসন গুটিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে অভিযানের সময় সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে বিট কর্মকর্তা বাধা সৃষ্টির কথা স্বীকার করে বলেন যারা সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টি করবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে।
সরিজমিনে পরিদর্শন ও প্রাপ্ত তথ্যমতে ড: গাজী কামরুলের স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়টির চর্তুপাশ্বে জবর দখলদারদের মধ্যে যারা রয়েছেন তারা হলেন- রঙ্গিখালী মতুপাড়া এলাকার মৃত আমির হোছাইনের পুত্র আব্দুস সালাম প্রকাশ কালু সওদাগর, আব্দুস সোবহান, মোহাম্মদ হোছাইন মাতু, ড্রাইভার আব্দুল আলিম, মোহাম্মদ হোছাইন মাতুর পুত্র জমিরা।
সুত্রে জানাগেছে, ২০০৫ সনে ২৫ হেক্টর জমিতে প্রকৃতি প্রেমী আধ্যাত্মিক জগতের মহান সাধক মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা আলহাজ্ব ড: গাজী কামরুল ইসলাম বাগানটি সৃজন করেছিল। যেটি ২০১০ সনে এসে কতিপয় বন খেকোদের নেতৃত্বে দিন দুপুরে পরিকল্পিতভাবে নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল। যেখানে আকাশমনী, গামারী, ইউক্লিপট্যাস, বনজ-ফলজ সহ নানান প্রজাতির প্রায় ৪০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছিল। মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে পুরো এলাকাটি সবুজের সমারোহে পরিণত হয়েছিল। সেখানে প্রতিদিন উপজেলার ভ্রমণ পিপাসুরা প্রকৃতির নির্মল হাওয়ার সংস্পর্শে আসতো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কতিপয় চিহ্নিত বন খেকোদের থাবায় প্রকাশ্যে দিবালোকে হাজার হাজার গাছে পরিবেষ্টিত বাগানটি উজাড় হওয়ার নেপথ্যের নায়করা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
পরিবেশবাদীরা মনে করেন আর দেরী নয় এখনই সময় গাজী পাহাড় নিধনযজ্ঞে নেপথ্যের নায়কদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের প্রতি সাধরণ মানুষের প্রেম-ভালবাসার পথ সুগম করার আহবান জানান।
দখল উচ্ছেদে বিট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু, কামরুজ্জামান, মো: ইউনুছ, স্থানীয় ভিলেজার গোরা মিয়া, মাদ্রাসার প্রতিনিধি আবুল কালাম, গাজী পাহাড় রক্ষা পরিষদের আহবায়ক রিদুওয়ানুল ইসলাম রিমন, যুগ্ম আহবায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সদস্য শব্বির আহমদ, নাছির উদ্দিন, জয়নাল মাঝি সহ স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে গাজী পাহাড় রক্ষায় বন বিভাগ এগিয়ে আসায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আলহাজ্ব কামাল হোছাইন, উপাধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম, স্থানীয় মেম্বার ও মাদ্রাসা গভর্ণিং বডির সদস্য শফিক আহমদ, মাওলানা ফোরকান আহমদ, গভর্ণিং বডির সদস্য মাষ্টার হেলাল উদ্দিন, হাফেজ আবু সায়্যিদ, হাফিজ উদ্দিন কাদের, মাষ্টার জাফর আলম অভিনন্দনের পাশাপাশি আগামীতে বন বিভাগকে যে কোন ধরণের সহযোগীতা করবেন বলে আশ্বাস দেন প্রমুখ। ##########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT