টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ

টেকনাফের গরুর হাট ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে : বাজার জমে উঠলেও মহিষের চাহিদা নেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১০১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ ::::teknaf cow pic 11-10-2013 (2)টেকনাফে জমজমাট গরু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এতে পুরো গরুর হাট ইয়াবা ব্যবসায়ীর দখলে রয়েছে। গরুর হাট জমে উঠলেও মহিষের তেমন চাহিদা নেই । টেকনাফ গরু বাজার ঘুরে দেখা যায়- সব ধরণের লোক পছন্দমত গরু কিনলেও মহিষ কিনতে কেউ রাজি নয়। বলা চলে মহিষের কোন চাহিদা নেই। তথ্যানুসন্ধান ও গরু বাজারে আগত লোকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালাকালে পলাতক ইয়াবা ব্যবসায়ী আবারো এসে বাজারের বড় বড় গরু গুলো ক্রয় করছে। এতে পুরো গরু বাজার নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, ডেইলপাড়া, নয়াপাড়া, সাবরাং ও টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার তালিকাভূক্ত ও জনশ্র“তিপ্রাপ্ত  ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যা গরু বিক্রি টাকা গরু বাজারে প্রদান করা হচ্ছেনা।গরু বাজারে কোন লেনদেন হচ্ছে না যা হচ্ছে তা বাড়িতে হচ্ছে। শুধুমাত্র পছন্দের ব্যাপার তাই রয়েছে বাজারে। সম্প্রতি টেকনাফের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দরে সাড়ে ৩লাখ টাকায় গরু ক্রয় করে রেকর্ড করলেন নাজিরপাড়া ও মৌলভীপাড়ার ইউপি সদস্য ছৈয়দ হোছন । এদিকে এবারে  কোরবানির সময় সর্বোচ্চ পরিমাণে গরু আমদানি হয়েছে মিয়ানমার থেকে।  বৈধ ও চোরাই পথে বেশি গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এেেত্র গরুর রোগ-ব্যাধি পরীা-নিরীার তেমন সহজ উপায় ল্য করা যায় না। গরু আমদানি করাটা যদি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয় তাহলে দেশে একটা নিয়মনীতির প্রচলন হতে পারে। আমাদের দেশে গরুর হাট এবং গরু ব্যবসা নিয়ে সংশ্লিষ্টমহল তেমন দায়িত্ব নিয়ে সেভাবে কেউ কাজ করে না। ফলে নানা অনিয়ম হয়ে থাকে। গরুর হাট যেন জোর করে চর দখল করে নেয়ার মতো রাস্তা-ঘাটে সেখানে সেখানে গড়ে ওঠে। নাগরিক অসুবিধার কথা কেউ এখানে চিন্তা করে না। অ্যানথ্রাক্স নামক একটি রোগে বিগত কয়েক বছরে গবাদী পশুর উপর চরম আকারে মহামারি নেমে এসেছিল। সে সময় সরকার-প্রশাসন-সংশ্লিষ্টমহলসহ সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে গরু-মহিষ ও অন্যান্য পশুর উপর পরীা নিরীা চালানো হয়। সেসব দিন চলে গেছে এখন যেন সব কিছু অবাধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোনো বিপর্যয় নেমে আসলে তখন আবার সতর্কতা অর্জন করা হতে পারে। অ্যানথ্রাক্স রোগ আছে কিনা তা পরীা ব্যতীত মিয়ানমারের  গরু সীমান্ত দিয়ে অনবরত প্রবেশ করছে। কোরবানির হাটে মিয়ানমারের  গরুর সঙ্গে যখন দেশীয় গরু মিশে যাচ্ছে তখন এটা কী হবে তা কিছুই বলা যাচ্ছে না। হয়তো বা কিছু নাও হতে পারে কিন্তু সরকারি পর্যায়ে বা বেসরকারি পর্যায়ে এর একটি পরীার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কারণ মিয়ানমারে  কিন্তু এখনো অ্যানথ্রাক্স রোগের বেশ বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব রয়েছে বলে জানা গেছে। আমাদের দেশে ইতিমধ্যে নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে কোনো পশু বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়ে তা অবশ্যই রোগমুক্ত কিনা পরীা করে দেখতে হবে। সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হলেও বাংলাদেশে খুব ঢিলেঢালা অবস্থায় এসব করা হয়। টেকনাফ পৌরসভা থেকে  বলা হয়েছে এটা নাকি পরীা করা হবে। কিন্তু পরীা করা হচ্ছে না। এবার পশুর হাটগুলোতে এবার অ্যানথ্রাক্স ও অন্যান্য রোগের পরীার কথা বলা হয়েছে কিন্তু এত পশুর আমদানি হয়েছে রাস্তাঘাট-অলি-গলি সর্বত্র তা পরীার আওতায় আনা অসম্ভবপর ব্যাপার। তাই এটাকে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয়া ব্যতীত কোনো গন্তব্য আছে বলে মনে হয় না। উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস  প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে- হাটে নাকি একটি করে টিম বাজার পরিদর্শনে এক রোগ বালাই পরীা করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে এসব টিম কোথায় বা কি অবস্থায় বা কোন হাটে রয়েছে তা ক্রেতা সাধারণ অবগত নন। গরু কিনে তারা সোজাসোজি বাসার দিকে রওনা হচ্ছেন গরু রোগমুক্তির কোনো সনদ তাদের হাতে দেয়া হচ্ছে না। পশু ব্যবসায়ীরাও এ ব্যাপারগুলোকে সেভাবে সতর্কতার সঙ্গে পালন করছেন না। তারা নানা জায়গা থেকে পশু কিনে বড় বড় শহরে বেশি মূল্যে বিক্রির জন্য ছুটছেন। সরাসরি এসব পশু হাট-বাজারে চলে আসায় অ্যানথ্রাক্স পরীা করা সম্ভবপর হচ্ছে না। কারণ এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে কোনো পশু অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বা পরীা করে কোনো রোগ বের করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। পশুবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি একদম অমূলক তা বলা ঠিক হবে না। দেশের মানুষ বা সংশ্লিষ্টমহলের সচেতনতার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে। মিয়ানমার থেকে অধিকাংশ পশু চোরাই পথে আমদানি করা হয়ে থাকে তাই এটা রোগমুক্ত কিনা তা পরীা করার কোনো প্রকারের ব্যবস্থা নেই। পশুর চেহারা একই রকম হওয়াতে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রবেশের পরে তা  এ দেশের পশুতে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। রোগাক্রান্ত পশু বা পশুর মাংস মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা প্রবেশ করিয়ে সঠকে পড়ছেন। তিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের নিরীহ বাঙালিদের। গরুর হাট এবং গরুর রোগ নিয়ে  পরিবেশকে করা হয়েছে বিপর্যস্ত। রাস্তা-ঘাট-অলি-গলি যত্রতত্র পশুর হাট গড়ে উঠাতে নাগরিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। পশুর প্রশ্রাব-পায়খানা-খাদ্য-খাবার মাংস কাটা ও রাখার জিনিসপত্র নিয়ে সমস্ত জায়গায় একদম যা তা অবস্থা করা হয়েছে। কোনো প্রকারের শৃঙ্খলার ব্যবস্থা নেই। প্রতিবারের চেয়ে এবারও গরু কেনাÑবেচা হবে সবচেয়ে বেশি আশাবাদ ইজারাদারদের। অভিযোগ এসেছে ইজারাদারদের নিকট থেকে গরু আসতে বিভিন্ন পথে বাধা দিচ্ছে চাঁদাবাজরা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT