টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টি-টোয়েন্টির বিশ্বকাপে প্রস্তুত ১২ দল, আজ উদ্বোধন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই শ্রীলংকার সবচে বড় ক্রীড়া উত্সব। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০১১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের স্বাগতিক হলেও তারা ছিল সহ-আয়োজক। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের একক আয়োজক হতে পারায় শ্রীলংকাও এখন উত্সবের মঞ্চ হিসাবে তৈরি হয়ে আছে। বিশ্বকাপের ভেন্যু কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, হাম্বানতোতার মাহিন্দা রাজাপাকশে স্টেডিয়াম এবং কেন্ডির পাল্লাকেলে স্টেডিয়ামগুলো ব্যাট-বলের লড়াইয়ের অপেক্ষায়। হাম্বানতোতায় আজ মঙ্গলবার রাত আটটায় স্বাগতিক শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি শুরু হলেও তার আগে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। শ্রীলংকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ক্রিকেটের সব ইতিহাস তুলে ধরা হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
স্বাগতিক শ্রীলংকার সবচে বড় সাফল্য এসেছে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ক্রিকেটের জন্য নতুন এক বার্তা নিয়ে আসে তারা। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে দু’বার স্বাগতিক হয়ে একবার চ্যাম্পিয়ন ও অন্যবার রানার্সআপ হয়েছে শ্রীলংকা। ২০০৭ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর গত তিনটি আসরের মধ্যে ২০০৯ সালে রানার্সআপ এবং গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেউই ফেভারিট নয়। ১৯ দিনের এই লড়াইয়ে লড়বে ১২টি দল। যাদের মধ্যে কেউই ফেভারিট না থাকলেও স্বাগতিক হিসাবে শ্রীলংকার পাশাপাশি ২০০৭ সালের চ্যাম্পিয়ন ভারতও এগিয়ে রয়েছে। কিছুদিন আগে শ্রীলংকার মাটিতে তারা খেলেছে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ।
ভিন্ন কন্ডিশনের হাম্বানতোতা কিংবা সুইং এবং সিমের রাজা পাল্লাকেলে অথবা ব্যাটিং সহায়ক উইকেটের অধিকারী কলম্বোর স্টেডিয়ামগুলো তৈরি এখন ক্রিকেট তারকাদের লড়াইয়ের অপেক্ষায়।
শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় এবং সৌরভ গাঙ্গুলীকে ছাড়াই ভারত যেমন লড়বে দ্বিতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের লক্ষ্য নিয়ে, তেমনি কামরান আকমল, শোয়েব মালিক, ইমরান নাজির, নাসির জামশেদের মত তরুণ তারকাদের নিয়ে শ্রীলংকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার নেশায় বুঁদ হয়ে আছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডও ছেড়ে কথা বলবে না। বর্তমান চ্যাম্পিয়নের খেতাবটা কি তারা এত সহজে ছাড়বে? ক্রিস গেইলও টি-টোয়েন্টির ধামাকা বাজানোর জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গেইলের ঝড়ের কথা এখনো ভুলেননি কেউ। গেইলের পাশাপাশি কিয়েরন পোলার্ড, মারলন স্যামুয়েলস এবং উইলি স্পিনার সুনিল নারায়ণকেও নতুন করে হিসাব কষতে হবে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজও অন্যান্য দলগুলোর কাছে হুমকি হবে এবারের বিশ্বকাপে।
যেহেতু এই বিশ্বকাপে কেউ ফেভারিট নয়, তাই বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খোলা থাকবে। চার গ্রুপে তিনটি করে দল একে অপরের মুখোমুখি হবে। একটি ম্যাচের জয় যে কোন দলকে পৌঁছে দিতে পারে দ্বিতীয় রাউন্ডে। বারোটি দল থেকে প্রতিটি গ্রুপের একটি করে দল বাদ পড়বে। বাকি আট দল হাই ভোল্টেজ সুপার এইটের লড়াইয়ে মাঠে নামবে।
এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনেক। সাকিব আল হাসানের মত টেস্ট ও ওয়ানডের বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, মুশফিকুর রহিমের মত অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন, স্পিড স্টার মাশরাফি বিন মুর্তজা, সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুল, স্পিন জাদুকরি আব্দুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানি, তরুণ সুপার স্টার জিয়াউর রহমান, নাসির হোসেন, শফিউল ইসলাম—এদের পারফর্মেন্সে চড়ে বাংলাদেশ পাড়ি দিতে চায় গ্রুপ পর্ব। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে যে চমক সৃষ্টি করেছিল তারা, গত দুটি বিশ্বকাপে সেই চমক অদৃশ্যই থেকে গেছে। এমনকি স্বাগতিক হয়েও সীমিত ওভারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি চালু হওয়ার পর অবশ্য এই ঘরানার ক্রিকেট খুব বেশি খেলেনি মুশফিকরা। তারপরও টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ক্ষণিকের জন্য তিন নম্বরে যাওয়ার বাহবা তো বাংলাদেশকে দিতেই হবে। ইউরোপ সফরে ছয়টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় তাদের পৌঁছে দিয়েছিল র্যাংকিংয়ের তিন নম্বরে।
এবারের আসরে ২১ সেপ্টেম্বর নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার আগেও মুশফিকরা তৃপ্তি পেতে পারেন সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি র্যাংকিং দেখে। সীমিত ওভারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান বাংলাদেশের নিচে!
বাংলাদেশের মত আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বিশ্বকাপ এটি। ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন করে নাম লেখানো আফগানিস্তান চাইছে বিশ্বকে চমক দেখাতে। জিম্বাবুয়ে নিজেদের আরো বেশি সুসংহত করার পরীক্ষা আর আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ আরো বড়-টেস্ট আঙ্গিনায় কড়া নাড়ার জন্য এই বিশ্বকাপে ভালো পারফর্মেন্স করা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT