টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টানা বর্ষণে জেলাব্যাপী আবারো জলাবদ্ধতা ও বন্যার পদধ্বনি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩
  • ১৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও, কক্সবাজার। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের ফলে গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার নদী-খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাব্যাপী একমাসের ব্যবধানে আবারো বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিগত ৩/৪ দিন ধরে শ্রাবণের মূষলধারে বৃষ্টির ধারাপাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ইতোপূর্বের জমজমাট ঈদ বাজারেও। সদ্য শুরু হওয়া আমনমৌসুমে জমিতে ধানের চারা রোপন এরকম অবিরাম টানা বৃষ্টিতে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে ভাঙ্গণের আশংকা ও প্লাবন ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার উপকূলীয় চিংড়ি প্রকল্পসমূহ। অবিরাম বর্ষণে গত কয়েকদিনে উজানের পাহাড়ি এলাকায় অবিরাম বৃষ্টিপাতের পানি ঢল আকারে নামতে শুরু করেছে। এতে বাঁকখালী, মাতামুহুরীসহ ঈদগাঁও নদী, খুটখালীর ছড়া, ডুলহাজারা পাগলির ছড়াা, জোয়ারিয়ানালা খাল, কালিরছড়া খাল ও উখিয়া রেজু খালসহ জেলার সব নদ-নদীতে ক্রমশ বাড়ছে বন্যার পানি। ইতোমধ্যেই অনেক নদী-খালের পানি বিপদ সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। বর্ষণজনিত কারণে পানি আরো বাড়লে বৃষ্টির পানি ও ঢলের পানি এক হয়ে জেলার নি¤œাাঞ্চলসমূহ তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। মাত্র মাসখানেক আগেও বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে আক্রান্ত হয়েছিল জেলার বিস্তির্ণ এলাকা। আমন চাষের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমূহ ক্ষতির মুখে পড়েছিল কৃষকরা। কক্সবাজার সদরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁও বাজারে বন্যার পানি উঠে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-দোকানপাট-গুডাউন নিমজ্জিত হয়ে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। সরকারী-বেসরকারী অনেক অফিস-আদালত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বন্যার পানি উঠে। সদরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও-জালালাবাদ-ফরাজীপাড়া-পোকখালী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুখে পড়েছিল। উক্ত সড়কের পূর্ব ফরাজীপাড়া মৌলভী মনজুরের দোকান পয়েন্টে ঈদগাঁও নদীর বন্যার পানিতে বেড়ীবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে উপরোক্ত সড়কে যান ও জন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন জেলা ব্যাপী সৃষ্টি হয়েছিল চরম মানিবক বিপর্যয়ের। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠার ফলে পাঠদানকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। বন্যা ও বৃষ্টিজনিত এ বিপর্যয়ের সচিত্র প্রতিবেদন স্থানীয় আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। মাত্র মাসখানেক আগের এ বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো অতিবর্ষণজনিত জলাবদ্ধতা ও বন্যার পদধ্বনিতে শংকিত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার জেলাবাসী। বিশেষ করে খেটেখাওয়া নি¤œ আয়ের দরিদ্র জনগুষ্টির লোকজন জীবিকা জনিত অনিশ্চয়তায় পতিত হয়েছে। সদ্য শুরু হওয়া আমন ধান রোপন মৌসুম অতিবর্ষণ জনিত জলাবদ্ধতায় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। জমি কর্ষণ, বীজতলা তৈরী, সার প্রয়োগসহ অপরাপর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জমিতে ধানের চারা রোপনের আগ মুহুর্তে প্রচন্ড বৃষ্টির কবলে পড়ে থমকে গেছে চাষাবাদ। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন চাষীরা। চকরিয়া উপজেলার রামপুর ও চরনদ্বীপ চিংড়ি জোন মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানিতে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। প্রায় ৮ হাজার একরব্যাপী দেশের বৃহত্তম উক্ত চিংড়ি জোনে অবস্থিত ৬’শ চিংড়ি প্রজেক্ট বন্যায় প্লাবিত হলে শত শত কোটি টাকার আহরণযোগ্য চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ সাগরে ভেসে যাওয়ার আশংকায় ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম হয়েছে চিংড়ি চাষী ও ঘের মাালিকদের। অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলজনিত আসন্ন দূর্যোগ মোকাবেলায় অগ্রিম পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকার ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন জেলার সর্বস্তরের জনগণ

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT