হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় এক নম্বরে সুন্দরবন

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো চলতি বছর নতুন করে বেশকিছু স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কয়েকটি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে তালিকার প্রথমেই রয়েছে বাংলাদেশের সুন্দরবন। এ কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনটি বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪৩তম সম্মেলন। বৈঠক চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত। খবর সিএনএন ও আজার তাসের।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় এখন পর্যন্ত ১৬৭টি দেশের ১০৯২টি স্থান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে ৫৪টিকে বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবন ছাড়াও রয়েছে বুলগেরিয়ায় অবস্থিত প্রাচীন শহর নেসেবার, নর্থ মেসেডোনিয়া অথবা আলবেনিয়ার অকরিড অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মেপিকোতে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরবর্তী দ্বীপ ও সংরক্ষিত এলাকা, নেপালের কাঠমান্ডু ভ্যালি ও ইরাকে অবস্থিত ব্যাবিলনের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষসহ অন্যান্য স্থান।

আজারবাইজানে শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির বৈঠকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা যেসব জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ বলে শনাক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সংরক্ষণের চিত্র ঘেঁটে দেখা হবে। পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুন্দরবনকে এখন বন্যপ্রাণীর জন্য বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বসবাসের ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বনটির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া, বন উজাড়সহ পরিবেশবিরোধী কাজের অভিযোগ রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবনকে ইউনেস্কো বাদ দিতে পারে। তবে সুন্দরবনের সুরক্ষায় সরকারের কার্যকরী উদ্যোগ থাকলে ও উন্নতি দেখা গেলে ইউনেস্কো ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে সুন্দরবনের নাম প্রত্যাহার করতে পারে। তখন কমিটির ভোটে সুন্দরবন তালিকায় ভালো অবস্থানে ফিরে আসবে। গত বছর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর বেলিজ ব্যারিয়ার রিফকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

২০১৯ সালের জন্য মনোনীত স্থান :প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানের তালিকায় নাম এসেছে চীনের ইয়ালু সাগর-বোহাই সাগরের উপকূল, ইরানের হাইরক্যানিয়ান বন, থাইল্যান্ডের কেং ক্রাচান বনাঞ্চল, ফ্রান্সের দক্ষিণ ও অ্যান্টার্কটিক ভূমি, আল্পস পর্বতমালা, আইসল্যান্ডের বাহনায়োকুত ন্যাশনাল পার্ক।

এ ছাড়া রয়েছে ব্রাজিলের সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের শহর পারাচি, বুরকিনা ফাসোর প্রাচীন লোহা-ধাতুময় স্থান, বাহরাইনের দিলমান সমাধিক্ষেত্র, অস্ট্রেলিয়ার বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি বাজ বিমের ল্যান্ডস্কেপ, চীনের লিয়াংচু শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ, ভারতের জয়পুর সিটি, জাপানের মোজু-ফুরুইচি প্রাচীন সমাধি, ইন্দোনেশিয়ার সাওয়ালুনতো শহরের অম্বিলিন কয়লা খনি, লাওসের চিয়েঙ কুয়াঙের প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রস্তর, মিয়ানমারের বাগান মন্দির, দক্ষিণ কোরিয়ার সোওয়ান-নব্য কনকুশিয়ান একাডেমিস, অস্ট্রিয়ার গিরিপথ গ্রসগ্লকর্নার হাই আলপাইন রোড, রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত দ্য দানিউব লাইমস ইত্যাদি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.