টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ঝাউবাগানের ভেতরে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বস্তি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১২
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। রোহিঙ্গারা সমুদ্র উপকূলের ঝাউবাগান ও বনাঞ্চলে বস্তি তৈরি করে বসতি শুরু করছে। নিজ পরিচয় গোপন রেখে ওখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে নারী, শিশুদের বস্তিতে রেখে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে। সমপ্রতি টেকনাফ সাগরে দুটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে গত জুন মাসে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর থেকে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে।
দেখা গেছে, টেকনাফ সমুদ্র উপকূলের বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুর বাজারের পাশে ঝাউবাগানের ভেতরে বস্তি তৈরি করে বসতি করছে অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা। পুরুষেরা দিনের বেলায় সমুদ্রে মাছ ধরে, ট্রলারে শ্রমিকের কাজ করে। আর নারী, শিশুরা পাহাড়-জঙ্গল থেকে গাছ কেটে অথবা সমুদ্রে নিষিদ্ধ মশারি জাল বসিয়ে চিংড়িপোনা ধরছে। অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মে।
শাপলাপুর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন প্রায় ২৫ কিলোমিটার লম্বা ঝাউবাগানের জাহাজপুরা, শিলখালী, কচ্ছপিয়া, বড়ডেইল, নোয়াখালী, রাজারছড়া, মিঠাপানিরছড়া, লম্বরী, তুলাতলী, মহেশখালীয়াপাড়াসহ আরও অন্তত ৩০টি স্থানে বসতি করছে প্রায় ৯০০ পরিবারে আরও ১০ হাজার রোহিঙ্গা। কিছু রোহিঙ্গা বছর দুয়েক আগে থেকে ঝাউবনের ভেতর আস্তানা গাড়লেও এখন এর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
ঝাউবাগানে রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) এস আই আবদুল মোনাফ বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে উচ্ছেদ করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। রাতের বেলায় শাহপরীর দ্বীপ, নয়াপাড়া, সাবরাং, নাইট্যংপাড়া দিয়ে এরা অনুপ্রবেশ করে।
উপকূলীয় বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে ঝাউগাছ উজাড় হচ্ছে।
বাহারছড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রসৈকতের কয়েক কিলোমিটার এলাকা এখন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় বাসিন্দা এখন সংখ্যায় কমে যাচ্ছে। সরকারিভাবে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিব উল্লাহ বলেন, সংখ্যায় ব্যাপক হয়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। তাদের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, গত সাত দিনে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। তারা টেকনাফের সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন ঝাউবাগান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে বস্তি তৈরি করে বসতি করছে। টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সামসুল ইসলাম বলেন, নাফ নদী অতিক্রম করে অতীতে বহু রোহিঙ্গা টেকনাফে অনুপ্রবেশ করেছে। কিন্তু এখন কাউকে অনুপ্রবেশের সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে বসতি করা রোহিঙ্গাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়ারপাড়ার দুটি শিবিরে অবস্থান করছেন প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী।
এর বাইরে টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বসতি করছেন আরও পাঁচ-ছয় লাখ রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকারও করে না। এখন আরও পাঁচ থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
অনেকে দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
কক্সবাজার নাগরিক সমাজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, জেলায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গার অবৈধ বসতি নিয়ে সরকারের তেমন মাথাব্যথা নেই। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপও সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে ভাসমান রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় রেখে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অন্যথায় এসব রোহিঙ্গারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT