টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ

জেলার শীর্ষ ২২ ব্যক্তির বক্তব্য : ইয়াবা নিয়ে টেকনাফ আইন শৃংঙ্খলা সভায় তোলপাড় !

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ৪৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম.জসিম উদ্দিন :::জেলায় সর্বোচ্চ প্রশাসন, গণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে ইয়াবা পাচার বন্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলার শীর্ষ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানসহ ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরো কঠোরতম হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোজায়েদ উদ্দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন শৃংঙ্খলা কমিটি সভায় অতিথিরা ইয়াবা ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা ব্যাপী বক্তব্য রাখেন। সভায় গুরুত্ব পায় ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মোঃ আজাদ মিয়া। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে টেকনাফ উপজেলার ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি জানান, ইয়াবা ব্যবসা করে যারা টেকনাফ ও গোটা বাংলাদেশের ক্ষতি করছে শ্রীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় ইয়াবা নিয়ে টেকনাফ হোয়াক্যং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জালাল আহম্মদ জানান, মায়ানমার থেকে কারা ইয়াবা ট্যাবলেট আনছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হলে ইয়াবা ব্যবসা কমে যেতে পারে। চট্টগ্রাম মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খুশী মোহন বিশ্বাস জানান, টেকনাফের সবাই সহযোগিতা করলে এ মাদক ব্যবসা বন্ধ হওয়া সম্ভব। কক্সবাজার পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া জানান, যারা ইয়াবা ব্যবসা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আটক পূর্বক ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার রোধে সর্বোচ্চ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। হ্নীলা ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য মজিলা আক্তার জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সে নিজেই ইয়াবার পাচারকারী অভিযুক্ত হয়ে জেল খেটেছেন। ইউপি সদস্য জাহিদ হোসেন জানায়, সবাই দেশের কথা চিন্তা করে মহৎ মনোভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কাজ করলে ইয়াবা পাচার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ খান জালাল জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে বড় বড় কর্তা ও ব্যক্তিদের সম্পর্ক। কারা এ ব্যবসায় জড়িত তা যদি ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা করা হয় তবে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। জেলা যুবলীগ নেতা আবুল কালাম জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যেসব তালিকা করা হয়েছে তা যাচাই বাছাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। জেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ্জাহান জানান, ইয়াবার কারণে বাংলাদেশের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই অতি শ্রীঘই ইয়াবার মূল গড ফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার কাউন্সিল নুরুল বশর জানান, ইয়াবা ট্যাবলেট ধরে বেশি দেখাই কম। ইয়াবা বিরোধীর কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেই একটা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। উখিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হামিদুল হক চৌধুরী জানান, টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জন্য সারা দেশের মানুষের সম্মান নিয়ে টানাটানি চলছে। অতি শ্রীঘই টেকনাফ থেকে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ না হলে, তিনি তার এলাকার লোকজন নিয়ে বড় ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সোনালী জানান, ইয়াবা ব্যবসা দমন করতে হলে নাফ নদী ও বঙ্গোপ সাগরে নৌ বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এড. আমজাদ হোসেন জানান, ইয়াবার ঘটনায় অনেক মামলায় নানান ধরণের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানায়, ইয়াবা তৈরীর কারখানা কোথায় তা চিহ্নিত করে দু’ দেশের দুইটি প্রতিনিধি দল বসে সিন্ধান্ত নিলে এ ব্যবসা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রহিয়াছে। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শাহ জালাল চৌধুরী জানান, ধরা পড়ছে কলিম উল্লাহ আর সলিম উল্লাহ অথচ প্রকৃত গডফাদাররা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তাই প্রকৃত গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন বলে মনে করে। তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যে তালিকা করা হয়েছে এখনো পর্যন্ত এই তালিকার গড ফাদাররা রহস্যজনক কারণে ধরা পড়েনি। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাসেম জানান, সবাই চেষ্টা করলে এবং সব বাহিনী যৌথ অভিযান করলে ইয়াবা ব্যবসা কমে যাবে। সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, ইয়াবা সংক্রান্ত অনেক কিছু বলা হয়। কিন্তু কখনো তা বাস্তবায়ন হয় না। সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, ইদানিং ইয়াবার কারণে সেন্টমার্টিনের যুব সমাজও ধ্বংসের পথে। টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এইচ.এম ইউনুছ বাঙালী জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রকৃত তালিকা করতে হলে টেকনাফ থেকে চলে যাওয়া সাবেক ওসিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইয়াবার মূল গডফাদাররা আপনার পাশে আমার পাশে ঢাকা ও চট্টগ্রামে থাকে। তাই তাদের সহজে ধরা যাচ্ছে না। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি হওয়ার জন্য নতুন আইন করার প্রয়োজন। গডফাদাররা অল্প দিনে জামিন পেয়ে যাওয়াতে এ ব্যবসা বাড়তে থাকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোজাহেদ উদ্দীন জানান, বিশেষ করে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, হাবির পাড়া, লেদা শরণার্থী ক্যাম্প ও শাহ্পরীর দ্বীপে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ব্যাপক। এসব এলাকায় অভিযান বেশী হলে ৮০% ইয়াবা ব্যবসায়ী ধরা পড়বে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT