হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ধর্ম ও দর্শনপরিবেশ

জেলার বন্যা দূর্গতদের দুঃখের শেষ নেই

আবদুল্লাহ নয়ন: পুকুরের মাছ, গোলাভরা ধান, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল তো গেছেই। ক্লান্তিভরা শরীর নিয়ে এক মুহুর্ত বিশ্রাম নিবে-এমন কোন জায়গাও নেই দুর্গত এলাকার হাজার হাজার দরিদ্র মানুষের। সর্বনাশা বন্যা মাথা গুজানোর ঠাঁই বসতবাড়িটিও ধ্বংস করে দিয়েছে। আকস্মিক বন্যায় সম্বল হারানোর পাশাপাশি এসব দুর্গত মানুষগুলো হারাতে বসেছে বেঁচে থাকার ‘স্বপ্ন’ও। সব মিলিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষ ক্ষুধা নিবারণে খাবার, তৃষ্ণা মিটাতে বিশুদ্ধ পানি, রাত কাটাতে শুবার ঘরের অভাবে চরম কষ্টে দিন যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় চকরিয়া উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়ন কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, বিএমচর, পুর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী, ঝিলংজা, খুরুশকুলসহ রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন গ্রামে এখন বন্যার পানি হয়তো নেমে গেছে। কিন্তু স্পষ্ট করে দেখা দিয়েছে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ।
সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা কায়ছারুল ইসলাম (৪১) জানান, গত বছরের বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। আগের বারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আগেই এবার আবারো বন্যা সব কিছু হ-য-ব-র-ল করে দিয়েছে।
একই ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল আজিজ (৫৫) জানান, বন্যায় সব শেষ। পেয়েছি ত্রাণের মাত্র এককেজি চাল। এখন ৫জনের সংসার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটতে হচ্ছে।
রামু উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান জানান, বন্যায় রামুতে বসতবাড়ির পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্টগুলো ব্যাপকভাবে ভেঙ্গে গেছে। ক্ষতি হয়েছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে দুর্গত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি অভিযোগ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, সরকারীভাবে যা পাওয়া গেছে তা খুবই সামান্য। বিভিন্ন দাতা সংস্থা, বিত্তবান অনেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও তা সবাই পাচ্ছেনা।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, যাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। তাদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে তাবু সরবরাহ করা দরকার। চকরিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা কোনাখালীতে আলাদা নজর দেয়া প্রয়োজন। এখানের মানুষ চরম দুর্ভোগে সময় পার করছেন।
বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে দূর্গত এলাকা সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, যেখানে প্লাবনের ঝুঁকি ছিলনা-এবার সেখানেও ঘরের ছাদ ছুঁই ছুঁই পানি হয়েছে। বন্যায় অনেকে স্বজন হারিয়েছে। হারিয়েছে জীবন ধারণের সম্বলও। বুরো ধানে যেসব গোলা ভরা ছিল। এসব ধান ভিজে খাবার অনুপযোগী হয়ে গেছে। মাত্র ১/২ মাস পুর্বে তৈরি করা স্বপ্নের বসতভিটেও দেবে গেছে। অনেক জায়গা বাড়ির চালসহ ভেসে নিয়ে গেছে বন্যার ¯্রােত।
সুত্র আরো জানায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে অসুখ বিশুখ। সরকারীভাবে যেসব স্থানে ‘চিকিৎসা’ কার্যক্রম চলছে তা অপ্রতুল। সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত সাহায্য না পেলে দুর্গত এলাকার হাজার হাজার পরিবারে মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। তিনি ব্যাংকের কক্সবাজার শাখায় অডিটের জন্য কক্সবাজার আসেন।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.