টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হচ্ছেন রওশন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

roson araহুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে  যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার স্ত্রী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ। আর সেই  পদে নিজেই বসতে চাইছেন সাবেক এই ‘ফার্স্ট লেডি’। তিনি মনে করেন, দলের শীর্ষ  পদটির হকদার এখন আর এরশাদ নন, বরং রওশন  নিজে। আর সেটা প্রকাশ্যে বলেও  দিয়েছেন রওশন।

 

রওশন চান, দলের শীর্ষ পদটি ছেড়ে এরশাদের বরং উচিত আগামী দিনে নিজেকে  রাষ্ট্রপতির আসনে বসানোর লক্ষ্য সামনে রেখে এগোনো। তেমন পরামর্শ বা দাবিই তিনি  স্বামী এরশাদের কাছে অলিখিত প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেছেন।    দলের একাধিক সূত্র  এ তথ্যই নিশ্চিত করেছে।

সম্প্রতি একসঙ্গে সিঙ্গাপুর সফরে গিয়ে এরশাদকে এ প্রস্তাব দেন রওশন এরশাদ। কিন্তু এ  ধরনের প্রস্তাব বা প্রকারান্তরে এমন হুমকি এরশাদের জন্য ছিল চরম বিব্রতকর। একই  সঙ্গে অশনিসংকেতও। দেশে ফিরে এরশাদ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার মনোভাব জানানও  দিয়েছেন। তিনি একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করার পর তা  জানাজানি হয়ে যায়।    এরশাদ নাকি অনেকটা ক্ষোভও প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি বেঁচে থাকতেই আমাকে সরিয়ে  দিতে চায়!’    রওশন এরশাদের এ প্রস্তাবের পেছনে একটা কারণ হচ্ছে: রওশন এরশাদ আগাগোড়াই  মহাজোটবিরোধী। মহাজোট গঠনের সময়েও বিরোধিতা করেছিলেন। আওয়ামী লীগও দিনে  দিনে রওশন এরশাদের পুরনো ক্ষোভে ঘি ঢেলেছে।

জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য এমন দাবিই করলেন।    ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, বিগত নির্বাচনে রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ ও গাইবান্ধার  পৃথক দু’টি আসনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ভোটের ময়দানে থেকে যায়। দু’টি  আসনেই পরাজিত হন রওশন এরশাদ। পরে এরশাদের ছেড়ে দেওয়া রংপুর-৩ আসনের  উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে যেতে হয় রওশন এরশাদকে। সে কারণে মহাজোটের কোনো  কর্মসূচিতেই দেখা যায়নি তাকে। এখানেই শেষ নয়, অনেকদিন ধরেই মহাজোট থেকে বের  করে জাপাকে ১৮ দলীয় জোটভুক্ত করতে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেটা সম্ভব  হচ্ছে না। কেননা একব্যক্তি এরশাদ-নির্ভর দল জাপার সবকিছুই হয় এরশাদের ইচ্ছায়।  এজন্যই রওশনের নজর এখন জাপার শীর্ষ পদটি বাগানোর দিকে।    অন্যদিকে রওশন এরশাদ বিএনপির মন জোগানোর দিকেই বেশি মনোযোগী। এ ব্যাপারে রওশন  রীতিমতো মরিয়া। বিএনপিকে রওশন আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন, জাপা মহাজোট ছেড়ে দেবে।  তিনি এই বলে বিএনপিকে বোঝাচ্ছেন যে, নানা কারণে এরশাদ মহাজোট ছাড়তে পারছেন  না। কিন্তু সময় মতো জাপা মহাজোট থেকে ঠিকই বেরিয়ে এসে ১৮ দলীয় জোটে যোগ দেবে।

কিন্তু বিএনপি নাকি এরশাদকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ, ২০০৬ সালে কথা দিয়েও  ৪ দলীয় জোটের পল্টনের সভায় যোগ দেননি এরশাদ।    সে কারণে বিএনপির পক্ষ থেকেই নাকি পার্টির চেয়ারম্যান হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে  রওশন এরশাদকে। এমনটি হলে জাপাকে নিয়েই নির্বাচনী ছক কষা হবে। নির্বাচনে জয়ী  হলে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হবে বলে নাকি এরই মধ্যে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।    আর বিএনপির ফর্মূলায় রওশন এরশাদই এমন প্রস্তাব বা দাবি পেশ করে থাকতে পারেন বলে  মনে করছেন জাপার মহাজোটপন্থী নেতারা।    কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কাউন্সিল করে অথবা সরাসরি পার্টির চেয়ারম্যান  পদে বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে পার্টির উপদেষ্টা  পরিষদে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এরশাদ এতে সায় দেননি।  বরং চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।    জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা মহাজোটপন্থী ও ১৮ দলীয় জোটপন্থী বলে স্পষ্ট দু’টি  ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ১৮ দলীয় জোটপন্থীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রওশন এরশাদ। তার  সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কাজী  ফিরোজ রশীদ, গোলাম হাবিব দুলাল, আতিকুর রহমান আতিক, এবিএম তাজুল ইসলাম।  মহাজোটে থাকার পক্ষে রয়েছেন জিএম কাদের, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়া  উদ্দিন আহমেদ বাবলু।

দলটির বিভিন্ন সূত্র জানায়, দিনে দিনে ১৮ দলীয় জোটের পাল্লা ভারি হচ্ছে। আর দুর্বল  হয়ে পড়ছেন মহাজোটপন্থীরা।

অন্যদিকে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার গোপনে উভয় গ্রুপের সঙ্গেই তাল  দিয়ে চলছেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।    এরশাদের মামলা ইস্যু, ক্ষমতার হিস্যা না পাওয়া, জাপার মহাসচিব ও বেশ কয়েকজন  এমপির ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা, মহাজোটের ওপর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের  ক্ষোভ সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে দিয়েছে মহাজোটবিরোধীদের। মহাজোটপন্থী বলে পরিচিতরা  এখন তাই দলে কোনঠাসা। এ কারণে ১৮ দলীয় জোটপন্থীরাই এখন দলের নীতি নির্ধারক  হয়ে উঠেছেন।    মহাজোটপন্থী বলে পরিচিত জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ‘মহাজোটের দালাল’ বলে  আখ্যায়িত করা হচ্ছে। দলীয় ফোরামের কোনো সভায় বক্তব্য রাখতে গেলেই ‘দালাল,  দালাল’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এ কারণে তাকে বক্তব্য দিতে খুব একটা  দেখা যাচ্ছে না।    এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এরশাদের মুখপাত্র সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ  জানান, আমার বিষয়টি জানা নেই। কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি  প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ।    প্রসঙ্গত, অনেক দিন পর গত ১০ জুন স্ত্রী রওশন এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গাপুরে যান  এরশাদ। মহাজোটবিরোধী রওশনের হঠাৎই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া নিয়েও চলছে নানা রকম গুঞ্জন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT