ছেলেকে নিয়েই দুঃস্বপ্ন ভুলতে চান মুশফিক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ, ২০১৯ ১০:৫৫ : অপরাহ্ণ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

ক্রাইস্টচার্চে ভয়ঙ্কর হামলার পর দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ক্রিকেট দলকে। শুক্রবারের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে শনিবার রাতে দেশে ফিরে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ক্রিকেটাররা। মুশফিক-তামিমরা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটিয়ে দুঃসহ অভিজ্ঞতা মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন।

মুশফিক কিছুটা নরম স্বভাবের। ওই ঘটনার পর ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন দেশসেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। দেশে ফিরে ছেলে মোহাম্মদ শাহরোজ রহিম মায়ানকে আদর করে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। রবিবার মুশফিকের বাবা মাহবুব হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আজ বাসায় অনেক আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তাদের সঙ্গে কথা বললেও মুশফিক বেশিরভাগ সময় ছেলের সঙ্গেই ছিল। কাল রাতে বাসায় ফিরে ঘণ্টা খানেক বাচ্চার সঙ্গে খেলেছে। তবে ও খুব কম কথা বলছে। আমরা ওকে ওর মতো থাকতে দিচ্ছি।’

সেদিন দলের সঙ্গে ছিলেন সৌম্য সরকার। ঘটনার পর ফোন করে বাবাকে জানিয়ে দেন, নিরাপদে আছেন তিনি। সৌম্যর বাবা কিশোরী মোহন সরকার জানালেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়িতে ফোন করেছিল সৌম্য। পার্ক থেকে মাঠ, মাঠ থেকে হোটেল সব জায়গায় সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তবে বাবা-মার দুশ্চিন্তা কী আর এত সহজে যায়! আমরা বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ক্রিকেটাররা নিরাপদে আছে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন আমাদের। বিমানে ওঠার আগ পর্যন্ত সারাক্ষণ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে সৌম্য।’

দেশে ফিরলেও এখনও বাড়ি যেতে পারেননি এবাদত হোসেন। সোমবার সকালে সিলেটে নিজের বাড়িতে যাওয়ার কথা এই পেসারের। মিরপুর ক্রিকেট একাডেমি থেকে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। দেশে ফিরে খুব ভালো লাগছে। চেষ্টা করছি ওই ঘটনা ভুলে যাওয়ার।’

দেশের বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পেরে মোহাম্মদ মিঠুনও স্বস্তিতে, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা চিন্তা করছিলাম কত তাড়াতাড়ি আমরা দেশে ফিরতে পারবো। যেভাবেই হোক আমরা ফিরে এসেছি। দেশের বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে, প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে স্বস্তি পাচ্ছি।’

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন


সর্বশেষ সংবাদ