টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আহত ২৫, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে :ভিসি, ঢাবিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। এ কারণে ভিসির সাথে পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাত্ করেননি ছাত্রদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। কয়েক দফা হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি বাস্তবায়িত না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করার কথা ছিল ছাত্রদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের। এ নিয়ে গতকাল সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনসহ প্রবেশপথগুলোতে অনেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। দুপুর সোয়া একটার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসি অফিসের সামনের প্রধান রাস্তায় অবস্থান নেন। দেড়টার দিকে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ভিসি অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে মল চত্বরের দিকে যাওয়ার পথে হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় অন্তত পাঁচ ছাত্রদল কর্মী আহত হন। এরা হলেন- এসএম হলের আলী আব্বাস, মহসীন হলের সোহাগ খান, মিজানুর রহমান, জহুরুল হক হলের রাশেদ, মোস্তাক। এরপর দুপুর দুইটার দিকে আরেক দফা হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ দফায় আহত হন মহসীন হলের রুহুল আমিন সোহেল, জাহিদ, পুনম, রাশেদসহ অন্তত সাতজন। এরপর বিকাল সোয়া তিনটার দিকে রেজিস্ট্রার ভবনের ক্যান্টিন ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রলীগের হামলায় প্রায় আটজন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- এফ রহমান হলের মুন্না, মাহমুদুল হক হিমেল, আবু বকর সিদ্দিক পাভেল, মাহফুজুর রহমান, শ্রাবণ, রিপন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিত্সাশেষে বাসায় ফিরে গেছেন।
তবে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিদুল ইসলাম হিরু হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন, তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। এরা হলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরাজুল, আল-আমিন ও রাশেদুল ইসলাম। তবে শাহবাগ থানা এ আটকের ঘটনা অস্বীকার করেছে।
আটকে গেল ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা
২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিদ্রোহী অংশ এবং ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন তখনকার কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। ঐদিনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে সাক্ষাতের জন্য যাচ্ছিলেন তারা। এরপর মূল ক্যাম্পাসে আর কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি ছাত্রদল। গতকালও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে পূর্ব নির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে পারেননি ছাত্রদল নেতারা।
ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ভিসি স্যারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দুপুর একটার দিকেই আমরা (কমিটির নয়জন) ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখ হাইকোর্ট মোড়ে চলে আসি। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন বলে সংবাদ আসে। আমরা ভিসি এবং প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাদের সেখানেই অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু পরে আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার কারণে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ছাত্রদল কঠোর কর্মসূচি দেবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছাত্রদলের আটককৃতদের মুক্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, গত সাড়ে তিন বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে প্রবেশ ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হচ্ছে না। আজ (সোমবার) প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর এই হামলা করেছে। কলাভবন, প্রশাসনিক ভবন, রেজিস্ট্রার ভবনে অবস্থানকারী পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের কর্মীরা অস্ত্র হাতে এই হামলা চালায়।
জুয়েল জানান, রবিবার দুপুরে ছাত্রদল নেতাদের তালিকা প্রক্টরের কাছে জমা দেয়া হয়। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সোমবার দুপুর ২টায় সৌজন্য সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেন। সে অনুযায়ী ক্যাম্পাসের উদ্দেশে যাত্রা করেন ছাত্রদল নেতারা। কিন্তু হামলার প্রতিবাদে সোমবারের সাক্ষাত্ বর্জন করা হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে ‘দলীয় ভিসি’ অভিহিত করে তিনি বলেন, যিনি ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে পারেন না, নৈতিক কারণে তার পদ ছেড়ে দেয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিদুল হাসান হীরু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ, সহসভাপতি সাদিউল কবির নীরব
‘দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’
ছাত্রদল নেতাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত একাডেমিক ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতারা সাক্ষাত্ চেয়েছে, আমি সময় দিয়েছি। কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তাদের নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে অফিসে আসতে বলেছিলাম। আমি মিষ্টি নিয়ে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়ার পরও তারা পরে আসেনি।
ছাত্রলীগের শোডাউন ও ভিসির সাথে সাক্ষাত্
ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন, এমন সংবাদে গতকাল সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে শোডাউন করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কয়েক দফায় ছাত্রদল নেতাদের উপর হামলার পরে বিকাল তিনটার দিকে ক্যাম্পাসে আবারো শোডাউন করে ছাত্রলীগ। সাড়ে তিনটার দিকে ভিসির সাথে সাক্ষাত্ করেন ছাত্রলীগ নেতারা। ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, “সাক্ষাতের সময় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। যেকোনো ধরণের উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ছাত্রলীগ প্রস্তুত রয়েছে বলে ভিসি স্যারকে জানানো হয়।
মাঠে নামল সাদা দলও
ছাত্রদলের উপর হামলার পর গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে সাক্ষাত্ করেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক শিক্ষকরা। ভিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন। ছাত্রদল নেতাদের উপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদ। বিবৃতিদাতারা হলেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ রাশিদুল হাসান, মহাসচিব অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে ছাত্রদল নেতাদের উপর হামলার ঘটনায় গতকাল রাতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন সাদা দলের শিক্ষকরা। রাত নয়টায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ও ঐ বৈঠক চলছিল।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT