হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

আর্ন্তজাতিকপ্রচ্ছদ

চীন মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিদ্যুত গ্রিড নির্মাণের প্রস্তাব

রশিদ মামুন ॥ চীন মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিদ্যুত গ্রিড নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে স্টেট গ্রিড কর্পোরেশন অব চায়না। কোম্পানিটি বলছে এককভাবে চীনের সব থেকে বড় বিদ্যুত সঞ্চালনের দায়িত্ব রয়েছে তাদের কাঁধে। চীনের ৩৪ প্রদেশের ছাব্বিশটিতে বিদ্যুত সঞ্চালন করে কোম্পানিটি। তাদের হাতে চীনের ৮৮ ভাগ বিদ্যুত গ্রিড রয়েছে বলেও দাবি করছে স্টেট গ্রিড।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্টেট গ্রিড-এর ঢাকা অফিসের পরিচালক ইয়ান চ্যানউইং বিদ্যুত বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলেছেন গ্রিড লাইনটি এক হাজার ২শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চীন থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে আসবে।

গ্রিড লাইনটি মোট পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত পরিবহনে সক্ষম হবে। যার মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াট মিয়ানমারকে আর বাকি চার হাজার মেগাওয়াট বাংলাদেশে বিক্রি হবে। বিএনপি সরকারের সময় ত্রিদেশীয় গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল চীন। এই আহ্বানে সাড়া না দেয়াকে এখন বড় ভুল হিসেবে দেখা হয়। যদিও চীন থেকে বিদ্যুত আনার ক্ষেত্রে সঞ্চালন ক্ষতি পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে এই প্রকল্পের ভবিষ্যত।

ইয়ান চ্যানউইং এর চিঠিতে লিখেছেন, গ্লোবাল এনার্জি ইন্টারকানেকশন ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (জিইআইডিসিও) বলছে পরস্পরের মধ্যে বিদ্যুত বিনিময় এই অঞ্চলে চীন, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ করবে। যাকে সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশল বলছে জিইআইডিসিও।

এর আগে সম্প্রতি ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত বুলেট ট্রেন লাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। এছাড়াও বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়েও চীন বেশ আগ্রহী।

বিশ্লেষকরা বলছেন চীন এশিয়ার সব থেকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছে। ফলে চীন তার নিকটতম দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক। কৌশলগতভাবে জ¦ালানি বা বিদ্যুতের সরবরাহ করলে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকে। এছাড়াও মনে করা হয় আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্য প্রবেশে যে বাঁধা আসছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নতুন দিল্লীর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক এস ডি মুনি বলেছেন, চীন এ অঞ্চলের একটি বাস্তব পরিস্থিতি। দেশটি এ অঞ্চলের অনেকের চেয়ে বহু দূর এগিয়ে আছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে কোন পরিকল্পনা করলে তা চীনকে বাদ রেখে করলে সুফল বয়ে আনবে না। বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে। এটি জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মনে করেন।

বলা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় এক দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ১৬০ কোটি মানুষ বসবাস করেন। ফলে এখানে একটি বড় বাজার রয়েছে। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ¦ালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র বলছে প্রস্তাবটি সবেমাত্র তাদের কাছে এসেছে। এই প্রস্তাব নিয়ে তারা কোন কাজ শুরু করেনি। তবে বাংলাদেশ যেহেতু প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুত এবং জ¦ালানি আমদানি করছে তা চীনের প্রস্তাবও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবে ইয়ান বলছে বাংলাদেশ সম্মত হলে একটি সমীক্ষা করে দেখতে পারে। এতে করে চীন এবং মিয়ানমারের কোন রুট দিয়ে বিদ্যুত আনা সম্ভব তা নির্ধারণ হবে। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিট (ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে ঋণ), বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ বা সরকারী বেসকারী অংশীদারিত্বে প্রকল্পটি করা যেতে পারে।

এখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গ্রিড লাইন রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ চেষ্টা করছে নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে পৃথক গ্রিড লাইন নির্মাণ করতে।

বিদ্যুত আমদানির মহাপরিকল্পায় ২০৪১ সাল মেয়াদে ৯ হাজার মেগাওয়াট আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.