টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

চাঞ্চল্যকর সাম্প্রদায়িক হামলার আজ ১১ মাস পূর্ন………… কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় ৭ মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ সেলিম, কক্সবাজার ##### capture00390000---2কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় ঘটে যাওয়া দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় সাম্প্রদায়িক হামলার আজ (২৯ আগষ্ট) এগারো (১১) মাস পূর্ন হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে একাধিক তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কক্সবাজারের রামু  এবং উখিয়ায় বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মোট ১৯টি মামলার মধ্যে ৭টি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রামুর উত্তম বড়–য়া নামে জনৈক বৌদ্ধ যুবকের ফেসবুকে পবিত্র কুরআন অবমাননাকর একটি ছবি শেয়ারকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামু উপজেলার বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফে। এ সময় রামুর ১২টি বৌদ্ধমন্দির ও ৩০টি বাড়িতে, উখিয়া ও টেকনাফে ৪টি বিহারে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে রামু উপজেলার বৌদ্ধ পুরাকীর্তির তিনশ বছরের ইতিহাস।

এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৯টি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে রামু থানায় দায়ের করা হয় ৮টি মামলা। এছাড়া কক্সবাজার সদর থানায় ২টি, টেকনাফে ২টি এবং উখিয়া থানায় ৭টি মামলা।   কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি)মো. আজাদ মিয়া জানান, ১৯ মামলার মধ্যে ৭টি মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ৭টি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। এর মধ্যে কক্সবাজারের সদরের ২টি, টেকনাফের ২টি, উখিয়ার ২টি এবং রামুর ১টি মামলা রয়েছে। এতে ৩৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ জন আটক রয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু ও উখিয়া সফরে আসছেন। ওই সফরের আগেই আদালতে এ ৭টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দায়েরকৃত ১৯টি মামলায় এজাহারে নাম-ঠিকানাধারী ৩৭৫ জন ও অজ্ঞাত মিলে মোট ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি করা হলেও গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৫২৪ জন। এদের মধ্যে এপর্যন্ত জামিনে বের হয়ে গেছে ১১০ জন। এর মধ্যে রামু থানার আটটি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি রয়েছে ১১১ জন। যার মধ্যে ৭৩ জনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। তবে সন্ধেহভাজন হিসেবে আরো ১৩০ জনকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রীট এর প্রেেিত চট্টগ্রামের দায়রা জজ মো. আবদুল কুদ্দুস মিয়া’র নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গত ১৬ মে ২৯৮ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, রামুতে যে বৌদ্ধ যুবকের ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার ছবি সংযুক্ত (ট্যাগ) করার অভিযোগে হামলার ঘটনা সংগঠিত হয়েছিল সেই উত্তম বড়–য়াকে আসামী করে একটি মামলা করা হলেও সে পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি যে ২০৫ জনকে অভিযুক্ত  করে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তাতে এক নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে উত্তম বড়–য়ার নাম রয়েছে বলেও জানা যায় সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে। তবে ঘটনার পর থেকে উত্তম বড়–য়া এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান তার পরিবার।

বৌদ্ধ পল্লীর বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি ২০৫ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছিল। সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ২৯৮ জনকে চিহ্নিত করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। অথচ এত বড় একটি সাম্প্রদায়িক ঘটনায় চিহ্নিত ৫০৩ মধ্যে জনের মাত্র ৫৪ জনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। অধিকাংশ অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরাফিরা করলেও রহস্যজনক কারনে আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: রুহুল আমিন জানান, রামু, উখিয়া, টেকনাফসহ বৌদ্ধ মন্দির ও পল্লীতে হামলাকারীরা কোন ভাবেই রেহাই পাবেনা। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছে তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি সুপ্ত ভূষন বড়–য়া বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত চেষ্টায় সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে তিগ্রস্থ বৌদ্ধপল্লীতে বাড়ি ঘর নির্মান করার পাশাপাশি বৌদ্ধ স্থাপত্য শৈলীতে মন্দিরগুলোর নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পূননির্মিত এসব দৃষ্টি নন্দন বৌদ্ধ বিহার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে পুঁজারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দু®কৃতিকারীদের হামলায় রামু, টেকনাফ ও উখিয়ার অন্তত ৩০টি বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর অধীনে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে তিগ্রস্থ এসব বাড়ি-ঘর ও বৌদ্ধ বিহার। ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এসব বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন করবেন।

———————————————————————————————————— প্রেরক- মোহাম্মদ সেলিম কক্সবাজার, তাং- ২৮ আগষ্ট ২০১৩ ইং। মোবাইল- ০১৮১৮৫৮৭০৪৪, ০১৭৫২০৪১১৩৭

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT