হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ধর্ম ও দর্শনসাহিত্য

চলে গেলেন পাকিস্তানের বিখ্যাত বুজুর্গ..আরেফ বিল্লাহ শাহ হাকীম মাওলানা আখতার রহ.:

হাফেজ মাও. মুহা. রিদওয়ানুল কাদের উখিয়াভী………
জন্ম ও বংশপরিচয়:

মাওলানা শাহ হাকীম আখতার রহ. ভারতের উত্তর প্রদেশস্থ প্রতাপগড়ের ‘আটহিবা’ নামক ছোট্ট গ্রামে ১৯২৮ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুহাম্মদ হোসাইন ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র ছেলে। এছাড়া তাঁর দুজন বোন ছিলেন।

বাল্যকালে খোদাভীতির অবস্থা:

বাল্যকালেই তার মধ্যে বিকশিত হতে থাকে খোদাপ্রেমের অপূব নিদর্শনাবলি। তাঁর বোন তাকে অনেক সময় দোয়ার জন্য মসজিদের ইমাম হাফেজ আবুল বরকাত রহ. এর কাছে নিয়ে যেত। তিনি ছিলেন হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলি থানভী রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা। সে সময়ের অনুভূতি তিনি এভাবে বর্ণনা করেন যে, সে সময় আমি মসজিদের দরজা-জানালা, মাটির প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ অনুভব করতাম এবং হযরত ইমাম সাহেব রহ. থেকে খোদাপ্রেমের সুগন্ধি অনুভব করতাম এবং আমার পূর্ণ বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিলো যে, এই লোকটি অবশ্যই আল্লাহর প্রিয় বান্দা। একটি অবুঝ শিশু, যার এখনো ভাল-মন্দ বুঝে উঠার মত বয়সই হয়নি, তাঁর অন্তরে আল্লাহর ভালবাসার উদ্রেক হওয়া এ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, তিনি জন্মগত ওলী ছিলেন। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত উর্দূ শিক্ষা অর্জন করার পর তাঁর অন্তরে ধর্মীয় শিক্ষার বাসনা জাগ্রত হয় এবং স্বীয় পিতাকে দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দ যাওয়ার অদম্য বাসনা ব্যক্ত করেন। কিন্তু তাকে মডেল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হলো। এরপরও পার্থিব শিক্ষার প্রতি তাঁর মোটেও আকর্ষণ ছিলোনা।

যেসময় তিনি প্রাপ্ত বয়স্কও হননি, নিজ ঘর থেকে অনেক দূরে অনাবাদী জঙ্গলে একটি বিরাণ মসজিদে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং নির্জনে বসে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতেন। মসজিদ থেকে অল্প দূরে কিছু মুসলমানের বসবাস ছিলো, তিনি তাদের উপর অবিরত মেহনত করতেন এবং তাদেরকে নামাজের দাওয়াত  দিতেন। অবশেষে আল্লাহর রহমতে পুরো গ্রামবাসী নামাজী হয়ে যায় এবং ঐ বিরাণ মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হতে থাকে। ঐ এলাকার লোকেরা তাকে পীর সাহেব বলে সম্বোধন করতে। বাল্যকালে অনেক সময় তিনি শেষরাত্রে উঠে একটি মসজিদে গিয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন এবং ফজর পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে আহাজারী-রোনাজারীতে অতিবাহিত করতেন। কিন্তু এ সংবাদ যখন তাঁর পিতা জানতে পারলেন তখন তাকে ঘরেই তাহাজ্জুদ আদায় করার জন্য বললেন। যেহেতু তিনি ছিলেন পিতার একমাত্র পুত্রসন্তান  এবং রাত্রে জংগলে চোর-ডাকাতের আনাগোনাও ছিল বেশী । তাঁর এই অবস্থা দেখে তাঁর পিতা তাকে মাওলানা বলেই সম্বোধন করতেন।

মছনবী শরীফ থেকে উপকৃত হওয়া:

অপ্রাপ্তবয়সেই মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. এর মছনবী শরীফের সাথে তার একটা অকৃত্রিম ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো। তাঁর কুরআন মজীদের শিক্ষক খুবই আকর্ষণীয় সুরে মছনবী শরীফ পাঠ করতেন। কুরআন শরীফ পড়ার পর তিনি তাঁর কাছে প্রায়ই আবেদন করতেন যে, হযরত অল্প মছনবী শরীফ থেকে পড়ে শোনান। তিনি খুব আবেগের সাথে মছনবী শরীফ পাঠ করে বালক আখতারের মানসপঠে খোদাপ্রেমের ঢেউ তুলতেন। তখন থেকে তাঁর অন্তরে মাওলানা রুমীর প্রতি অপার শ্রদ্ধা-ভক্তির সৃষ্টি হয় এবং মছনবী শরীফ বোঝার জন্য তিনি ফার্সী ভাষা শিখা আরম্ভ করলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন যে, আমার অন্তরে সর্বপ্রথম খোদাপ্রেমের মশাল প্রজ্জ্বলিত করেছেন মাওলানা রুমী রহ. এবং তিনিই আমার সর্বপ্রথম আধ্যাত্মিক রাহবার।

ইউনানী চিকিৎসা অর্জন:

সপ্তম শ্রেণীর পর তাঁর পিতা তাঁকে জোরাজোরি করে আলিগড় তিব্বিয়া কলেজে ভর্তি করে দিলেন এবং পরবতীর্তে পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী ইউনানী বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার জন্য ইলাহাবাদে চলে যান। তিনি সেখানে নিজ ফুফুর কাছে অবস্থান করতেন। ওখান থেকে একমাইল দূরে মরুভ’মিতে একটি মসজিদ ছিলো, যা জিনের মসজিদ হিসেবে পরিচিত ছিলো। সেখানে তিনি মাঝে-মধ্যে গিয়ে আল্লাহর আরাধনায় মগ্ন হতেন। তিনি প্রায়ই সময় বলতেন যে, আল্লাহ তাআলা আমার পিতাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তিনি আমাকে ডাক্তারীবিদ্যা শিক্ষা দিয়েছেন, যা এখন আমার অনেক উপকারে আসছে। হাকীম আখতার রহ. ছিলেন হাকীম মুহাম্মদ আজমল খানের ছাত্রের ছাত্র।

চিঠির মাধ্যমে হযরত থানভী রহ. এর সাথে যোগাযোগ:

হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ. এর প্রসিদ্ধ ওয়াজের গ্রন্থ ‘রাহাতুল কুলুব’ অধ্যয়ন করার পর তাঁর মধ্যে খোদাপ্রেম জাগ্রত হয়। তখন তিনি থানভী রহ. এর কাছে চিঠির মাধ্যমে বায়আত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু প্রতিউত্তরে চিঠি এলো যে, হযরত খুবই অসুস্থ। হযরতের যে কোন খলীকার সাথে এসলাহী সম্পর্ক করে নিন। এর কিছুদিন পর থানভী রহ. এর ইনতেকাল হয়।

যেদিন তিনি তিব্বিয়া কলেজে পড়াশোনা সমাপ্ত করে ফুফুর বাড়ীতে আসলেন, সেদিন তিনি পিতার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে হতবিহবল হয়ে পড়লেন। তাঁর উপর যেন কষ্টের পাহাড় ভেঙে পড়লো। কিন্তু তিনি নিজেকে সামলে নিলেন এবং পিতার কবরের উপর দাঁড়িয়ে নিজের শেষ অবস্থার কথা চিন্তা করতে লাগলেন এবং মনকে প্রবোধ দিলেন যে আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়ায় বান্দার জন্য উচিত।

আধ্যাত্মিক রাহবারের খোঁেজ:

থানভী রহ. এর মৃত্যুর পর তিনি থানভী সিলসিলার এমন এক রাহবারের সন্ধান করতে লাগলেন, যার সান্নিধ্যে অবশিষ্ট জীবন কাটিয়ে দেওয়া যাবে। তখন ইলাহাবাদে শাহ ফজলুর রহমান গঞ্জেমুরাদাবাদী রহ. এর সিলসিলার এক বুজুর্গ শাহ মুহাম্মদ আহমদ প্রতাপগড়ী রহ. এর সান্নিধ্যে তিনি  উপস্থিথ হতেন এবং প্রত্যেকদিন আছর থেকে প্রায় রাত ১১ টা পর্যন্ত হযরতের খেদমতে অতিবাহিত করতেন। হযরত আহমদ রহ. একজন সাত্যিকার অর্থে আল্লাহর ওলী ছিলেন। হাকীম আখতার রহ. যদি কোনদিন তাঁর কাছে রাত্রে অবস্থান করতেন তখন তিনি ঘর থেকে বিছানাসহ চলে আসতনে। তিনি বলতেন, আমার কাছে আরো অনেক বড়-বড় আলেমরা আসেন, কিন্তু আমি আপনি ব্যতিত কারো জন্য ঘর থেকে বিছানা নিয়ে চলে আসিনা। এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন যে, আমি পৃথিবীতে আপনাকেই সবচেয়ে বেশী মুহব্বত করি। মুফতী মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী রহ. থেকে বর্ণিত আছে যে, মাওলানা আহমদ প্রতাপগড়ী রহ. নকশবন্দী সিলসিলার একজন উঁচুমাপের বুজুর্গ ছিলেন এবং প্রায় কুতুবপর্যারে ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি একজন  উচ্চমানের কবি ও ছিলেন।

বায়আত:

হাকীম আখতার রহ. জানতে পারলেন যে, ফুলপুরে হাকীমূল উম্মত থানভী রহ. এর একজন বিশিষ্ট খলীফা শাহ আব্দুল গণী ফুলপুরী রহ. অবস্থান করেন। তিনি যখন ফুলপুরী রহ. এর আধ্যাত্মিক সাধনা সম্পর্কে অবগত হলেন তখন তার প্রতি  একটা আলাদা আকর্ষণ অনুভব করলেন এবং তাঁকে তাঁর জীবনের আধ্যাত্মিক রাহবার হিসেবে মনোনীত করতে মনস্থ করলেন। এরপর হাকীম আখতার রহ. শায়খকে চিঠির মাধ্যমে নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করলেন। ফুলপুরী রহ. তাকে নিজের শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাকে বিভিন্ন জিকির-আজকার , দোআ-দরুদের ওজীফা দিলেন।

রাহবারের সান্নিধ্যে:

তিনি স্বীয় শায়খের সান্নিধ্যে যেতে অস্থির হয়ে পড়লেন। কিন্তু কিছু অসুবিধার কারণে তাড়াতাড়ী তাঁর দরবারে যাওয়া সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। সেসময় তিনি নিজ মহল্লার একটি পার্শ্ববর্তী অনাবাদী মসজিদে গিয়ে শায়খের ওজীফা পূর্ণ করতেন। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিথ হলো। তিনি কুরবানের ঈদের সময় স্বীয় মাতা থেকে অনুমতি নিয়ে ফুলপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন এবং ঠিকই ঈদের দিন সেখানে পৌঁছলেন। তখন তাঁর তনু-মনে অন্য ধরনের শিহরণ অনুভ’ত হচ্ছিলো। তখন ফুলপুরী রহ. টুপী মাটিতে রেখে চুল এলোমেলো অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত ছিলেন। যখন ফুলপুরী রহ. তাঁর দিকে মনোযোগী হলেন, তখন তিনি বললেন যে, আমি মুহাম্মদ আখতার, প্রতাপগড় থেকে স্বীয় নফসের সংশোধনের জন্য উপস্থিথ হয়েছি। চল্লিশ দিন এখানে অবস্থান করার ইচ্ছা আছ। ফুলপুরী রহ. তাঁর এক ছেলেকে হাকীম আখতার রহ. এর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন। এরপর স্বীয় শায়খের সান্নিধ্যে অবিরত সতের বছর কাটিয়ে দিলেন। এর মধ্যে দশ বছর স্বীয় শায়খের খেদমতে নিজেকে সম্পূর্ণ বিলীন করে দিয়েছিলেন।

শায়খের ভালবাসা এবং কষ্ট-মোজাহাদা:

তিনি শেষ রাত্রে উঠে স্বীয় শায়খকে ওজ ুকরাতেন এবং শায়খ যখন ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন তখন তিনি একটু পিছনে বসে থাকতেন, যাতে স্বীয় মুর্শিদের ইবাদতে বিঘœ না ঘটে। যতক্ষণ তিনি ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন, ততক্ষণ তিনি বসে থাকতেন। ফুলপুরী রহ. তাহাজ্জুদ থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় সাত ঘন্টা ইবাদত করতেন। দুপুরে পীর-মুরিদ একসাথে আহার করতেন। পুরো দশ বছর সকালে কোন নাস্তা করেননি। কেননা, ফলপুরী রহ. বার্ধক্যজনিত কারণে সকালে নাস্তা করতে পারতেন না। ফুলপুরী রহ. বলতেন, আখতার আমার পিছ্েন এভাবে লেগে থাকে, যেমন দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা মায়ের পেছনে লেগে থাকে। হাকীম আখতার রহ. স্বীয় শায়খের প্রতিটি ওয়াজ-নসীহত খব গুরুত্ব সহকারে লিপিবদ্ধ করতেন। ফলে হযরত ফলপুরী রহ, এর ওয়াজ-নসীহতগুলো প্রায় হাকীম আখতার রহ. এর মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়েছে। হযরত ফুলপুরী রহ. এর জীবদ্দশায় অনেকগুলো গ্রন্থই পকাশিত হয়েছে তন্মধ্যে, মারেফাতে ইলাহিয়া, মাই’য়্যাতে ইলাহিয়্যা, বরাহিনে কাতে’আা, শরাব কি হুরমত, মলফুজাতে শাহ আাব্দুল গণী, সবগুলো গ্রন্থই হাকীম আখতার রহ. এর হাতে লিখিত।

দ্বীনি শিক্ষা অর্জন:

হাকীম আখতার রহ. স্বীয় শায়খের বাইতুল উলুম মাদরাসায় দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করেন। কিছু সাথী পরামর্শ দিলো যে, তুমি দারুল উলুম দেওবন্দে চলে যাও। কিন্তু তিনি পরিস্কার অস্বীকার করে দিলেন এই বলে যে, সেখানে আমি শায়খের সোহবত থেকে মাহরুম হবো। কুদরতের কী কারিশমা, দেওবন্দের অনেক বড়-বড় আলেমরা হযরতের সোহবতে নিজেকে ধন্য করেছেন। তিনি দরসে নেজামীর আট বছরের নেসাব মাত্র চার বছরে সমাপ্ত করেন। বুখারী শরীফের কয়েক পারা স্বীয় শায়খের কাছে পড়েছেন। তাঁর শায়খ শাহ আব্দুল গণী রহ. ছিলেন হযরত রশীদ অহমাদ গাংগুহী রহ. ্এর ছাত্রের ছাত্র।

হাকীম আখতার রহ. এর সাধাসিধে জীবনযাপন:

তিনি আজমগড়ের নিকটবর্তী কোটলা নামক গ্রামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। মেয়েটি ছিলো তাঁর থেকে প্রায় দশ বছর বড়। কিন্তু পুরো গ্রামে তাঁর দ্বীনদারি-পরহেজগারি প্রসিদ্ধ ছিলো। তিনি প্রায় বলতেন যে, শায়খের দরবারে দীর্ঘদিন অবস্থান করাটা তাঁর কারণেই সম্ভব হয়েছে। তাঁর স্ত্রী যখন শায়খের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক দেখতে পেল, তখন তাকে আনন্দচিত্তে অনুমতি দিয়ে দিল যে, আপনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন সেখানে অবস্থান করুন। তিনি বলতেন যে, আমার স্ত্রী দ্বীনের ব্যাপারে আমাকে পূর্ণ সহযোগীতা প্রদান করেছে। সে প্রথম দিনই আমাকে বলেছিলো যে, আপনি আমাদের যা খাওয়াবেন, যা পরিধান করাবেন, আমরা তাই খাবো এবং পরিধান করবো। কোনদিন আপনার কাছে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের আবদার করবো না। হযরত বলতেন যে, সে তার ওয়াদা পূর্ণভাবেই বাস্তবায়ন করেছে। সে কোনদিন আমার কাছে খানাপিনা, কাপড়-চোপড়সহ কোন কিছুর আবদার করেনি। দুনিয়ার প্রতি তার কোন আকর্ষণ ছিলনা বললেই চলে । অধিকাংশ সময় সে কুরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত থাকত । হযরত ফুলপুরী রহ. বলতেন আখতার তো অবশ্যই বুজুর্গ । তাঁর স্ত্রীও তাঁর থেকে কম নয় । ১৯৬০সালে শাহ ফুলপুরী রহ. যখন পাকিসÍানে হিজরত করেন তখন তিনিও তাঁর সাথে পাকিস্তান চলে আসেন । কিন্তু নিজের স্ত্রী ও ছেলে হাকীম মুজহের মিয়াকে [তিনি তখন শিশু ছিলেন] হিন্দুস্তানে রেখে আসেন। এক বছর পর্যন্ত আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদেরকে পাকিস্তানেও নিয়ে আসতে পারেননি এবং নিজেও হিন্দুস্তান যেতে পারেননি। এই এক বছর হযরতের স্ত্রী অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন। হযরত বলতেন যে, আমার মতে সে এ যুগের রাবেয়া বসরী। তাঁর মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্বে পুরো গ্রামে এক ধরনের সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়েছিলো, যা ইতিপূর্বে কোনদিন পাওয়া যায়নি।

খেলাফত লাভে ধন্য হলেন:

তিনি স্বীয় শায়খ শাহ আব্দুল গণী রহ. এর মৃত্যুর পর মাওলানা শাহ আবরারুল হক হারদুঈ রহ. এর সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং দুবছর পর স্বীয় শায়খ থেকে খেলাফত লাভে ধন্য হন। এর অনেকদিন পূর্বে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, হযরত ফুলপুরী রহ. হযরত আবরারুল হক রহ. কে সম্বোধন করে বলছেন, আপনি আখতারকে খেলাফত দিয়ে দিন। এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা অনেকদিন পরই প্রকাশ পেল। হযরত হারদুঈ রহ. বলতেন যে, আমরা কিতাবে পড়েছি যে, সাত-আটশত বছর পূর্বে ছাত্ররা স্বীয় উস্তাদের এরকম এরকম সেবা করত, কিন্তু সেগুলো স্বচক্ষে অবলোকন করার সুযোগ হয়নি। হাকিম আখতারকে দেখার পর আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস হলো যে, আগেকার যুগে বাস্তবেই ছাত্ররা ঐরকম সেবা করতো।

হাকীম আখতার রহ. এর লিখিত মাআরেফে মছনবী অধ্যয়ন করার পর শায়খ সাইয়েদ মুহাম্মদ ইউসুফ বিন নূরী রহ. বলেছিলেন যে, হাকীম মুহাম্মদ আখতারের লিখিত অনবদ্য গ্রন্থ মাআরেফে মছনবী, মাআরেফে আখতার অধ্যয়ন করার পর লেখক সম্পর্কে আমার এত উচ্চ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, যা কল্পনা করাও অসম্ভব। মাওলারা বিননুুরী রহ. ফার্সী মছনবী অধ্যয়ন করার পর মন্তব্য করেছিলেন যে, আপনি আর মাওলানা রুমীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

লিখনীর ময়দানে সরব পদচারণা:

হযরত হাকীম আখতার এর লিখিত গ্রন্থ, মাওয়াজের সংখ্যা দুশোর কাছাকাছি। যা ইতিমধ্যে আরবি, উর্দূ, হিন্দী, পশতু, তুর্কী, চ্ইানিজ, মালয়েশিয়ানভাষাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

হাকীম আখতার রহ. এর রচনাবলী (আংশিক)

১. খাযায়েনুল কুরআন ২. খাযায়েনুল হাদীস ৩. খাযায়েনে শরীয়ত ওয়া তরীকত ৪. খাযায়েনে মারেফাত ওয়া মুহাব্বত ৫. মাআরেফে রব্বানী ৬. মাওয়াহেবে রব্বানীয়া ৭. মাআরেফে শমছে তিবরীযি ৮. দরসে মছনবী ৯. মারেফাতে ইলাহিয়া ১০. ফগান রুমী ১১. রুহ কী বিমারীয়া আওর উনকা ইলাজ ১২. তরবিয়তে আশেকানে খোদা (৩ খন্ড সমাপ্ত) ১৩. ইরশাদাতে দরদে দিল ১৪. পরদেছ মে তযকেরায়ে ওয়াতন ১৫. মাআরেফে মছনবী ১৬. বরাহীনে কাতে’আ ১৭. কশকুলে মারেফাত ১৮. ছফরনামায়ে হারামাইন শরীফাইন ১৯. ছফরনামায়ে রেঙ্গুন ওয়া ঢাকা ২০. বাতী উনকী উয়াদহীন্দী ২১. আইনায়ে মুহাব্বত ২২. ফয়জানে মুহাব্বত ২৩. মাআরেফুল আবরার ২৪. মাজালিছে আবরার ২৫. বদনজরী কি ছওদা নোকছানাত ২৬. ওলীয়ুল্লাহ বানানে ওয়ালে চার আমাল ২৭.পিয়ারে নবী সা. কি পিয়ারী সুন্নতী ২৮. ক্বওমীয়্যত ওয়া ছুবায়্যীত কে তাআচ্ছুব কি ইসলাহ ২৯. ছফরনামায়ে লাহুর ৩০. হুকুক ওয়া আদাবে শায়খ ৩১. ইছলাহে আখলাক ৩২. মা’মুলাতে সুবহে ওয়া শাম ৩৩. হারামাইন শরীফাইন মে হুজুরী কে আদাব ৩৪. দস্তুরে তযকীয়াযে নফস ৩৫. বদনজরী আওর ইশকে মজাযী কি তবাহকারীয়া ৩৬. হুছনে খাতেমা কে সাত মুদাল্লাল নুছখে ৩৭. এক মিনিট কা মাদরাসা ৩৮. তলকীনে ছবরে জামীল ৩৯. নেকাহ কে বাদ মজাদার জিন্দেগী ৪০. হুসুন পুরুস্তী আওর ইশকে মজাযী কী তবাহকারীয়া আওর উনকা ইলাজ।

হযরত হাকীত আখতার রহ. কে তাঁর শায়খ শাহ আবরারুল হক রহ. ভারতের দক্ষিন হায়দারাবাদে আরেফ বিল্লাহ উপাধি দিয়েছিলেন।

স্বপ্নে সুসংবাদ:

ব্রিটেনের মুফতী যুবাইর এবং মাওলানা মুহাম্মদের মাতা ঠিক ঐ সময় একটি স্বপ্ন দেখলেন, যখন হাকীম আখতার রহ. এর মৃত্যু হল। তিনি স্বপ্ন দেখলেন যে, হুজুর সা. নিজর পবিত্র হাত দ্বারা হাকীম আখতার রহ. এর হাত ধরে তাকে জান্নাতুল বকীর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

খানেকাহে এমদাদীয়া আশরাফিয়া গুলশনে ইকবাল, করাচীর ভিত্তি;

তিনি প্রথমে করাচী টাউনের নাজেমাবাদে অবস্থান করতেন। অতপর শাহ হারদুঈ রহ. এর নির্দেশমতে গুলশনে ইকবাল করাচীতে খানেকাহে এমদাদীয়া আশরাফীয়ার ভিত্তি রাখেন এবং নাজেমাবাদ থেকে গুলশনে ইকবাল চলে আসেন। এরপর ঐ খানেকার মধ্যেই আশরাফুল মাদরীস নামে একটি মাদরাসা এবং মসজিদে আশরাফ প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখনো পুরোবিশ্বের দ্বীনের কেন্দ্রভ’মি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ঐখানেকার একটি শাখা করাচীর সিন্ধু প্রদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেখানে প্রতি রবিবার ফজরের পর হজরতের বয়ান হত। কখনো-কখনো তিনি সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করতেন। সেখানে সাত-আট বছর পূর্বে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ তৈরী করা হয় এবং জামিয়া আশরাফুল মাদারিস নামে চার হাজার গজের একটি জামিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর রাখা হয়।

হযরতের কিছু ওসীয়ত:

২০ রবীউল আউয়াল ১৪২০ হিজরী, মোতাবেক ৫ জুলাই ১৯৯৯ ইংরেজী।

১. আল্লাহর রহমতে কেউ আমার কাছে কর্জ পাবে না।

২. আমি ওসীয়ত করছি সর্বপ্রথম আমার জন্য, আমার পরিবারবর্গের জন্য,ৃ এবং আমার সকল শুভাকাংখীর জন্য যে, সর্বাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিবে এবং এক নি:শ্বাসের জন্যও আল্লাহর অসন্তুষ্টি কিংবা হারাম কাজে লিপ্ত হবেনা। যদি কোন সময় নফসের প্ররোচনায় হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে যাও, তবে সাথে-সাথে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে।

৩. পুরোজীবন সৎলোকদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করবে এবং কোন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিকে নিজের জীবনের মুর্শিদ হিসেবে গ্রহণ করে নিবে।

৪. ধন-সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহকে অত্যন্ত ভয় করবে এবং যে কোন সমস্যায় অবশ্যই অভিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হবে।

৫. আমার সব গ্রন্থের প্রচার-প্রসারে সবসময় গুরুত্ব প্রদান করবে। যাতে ছদকাওয় জারিয়া হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে এবং আমার সন্তানরা যাতে সারাজীবন দ্বীনের সেবায় রত থাকে।

৬. যেখানেই আমার  মৃত্যু হবে সেখানেই দাফন করে দিবে।

৭. সবসময় আমার জন্য তিনবার সূরা ইখলাছ পড়ে ইছালে ছাওয়াব করবে এবং আমার গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে।

৮. আমার জানাযার নামাজ মাওলানা হাকীম মুজহের মিয়া (হযরতের ছাহেবযাদা ) সাহেব পড়াবেন।

৯. আমাকে খুব তাড়াতাড়ী দাফন করে দিবে। সুন্নাত অনুযায়ী কবরে আমাকে কিবলামুখী করে শোয়াবে। সব ধরনের বেদআন-কুসংস্কার থেকে বিরত থাকবে।

অসুস্থতা থেকে পরপারের পথে (জীবন সায়া‎ে)

১৪২১ হিজরীর ২৭ ছফর, মোতাবেক ২০০০ সানের ৩১ মে ঈশার নামাজের পূর্বে হাকীম আখতার সাহেব প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন । তখন থেকে নিয়ে ১৪৩৪ হিজরীর ২৩ রজব মোতাবেক ২০১৩ সনের ২ জুন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অসুস্থতায় ভোগা সত্ত্বেও কখনো শেকায়ত করেননি।

নোট: প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্টে দ্বীনি সফর অব্যাহত রেখেছিলেন। যেমন, সউদী আরব, সাউথ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন এবং দেশের অভ্যন্তরে অনেক শহরে সফর করেছেন। অসুস্থতার তেরো বছরে চার বার এত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে, ভক্তরা তাঁর জীবনের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলো।

১৪৩৪ হিজরীর ২৩ রজব, মোতাবেক ২০১৩ সনের ২ জুন, রোজ রোববার, ৯০ বয়সে মাগরিবের পর বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই মহান ব্যক্তিত্ব পৃথিবী ছেড়ে পরপারের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

২০১৩ সনের ২ জুন রোজ রবিবার সকাল থেকেই হযরতের স্বাস্থ্য অবনতির দিকে যাচ্ছিলো। পুরো কামরায় ক্রন্দনের রোল পড়ে গিয়েছিলো। হযরতের বিশেষ ডাক্তার যিনি পুরো তেরো বছর হুজুরের চিকিৎসায় অতিবাহিত করেছেন ডাক্তার আমানুল্লাহ এবং ডাক্তার আইয়ুব তারাও প্রায়ই আশা ছেড়ে দিয়ে ফেললেন এবং ক্রন্দন করতে লাগলেন। হযরত মুজহের মিয়া কম্পমান হস্ত এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে অক্্িরজেনের মাস্কে জোরে চাপ দিচ্ছিলেন, যাতে হযরত অক্্িরজেন নিতে পারেন। মাস্ক কখনো ইছমাইল সাহেব আবার কখনো ইসহাক সাহেব নিতেন। মাগরিবের নামাজের পরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের সময় শায়খুল আরব ওয়াল আজম আরেফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব রাহ. পুরো বিশ্ববাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান । পরামর্শ অনুযায়ী হযরত মুফতী গোলাম মুহাম্মদ, মাওলানা জলীল আহমদ, মুফতী ইরশাদ, হযরতের পৌত্র মাওলানা ইসহাক, হাফেজ জিয়াউর রহমান এবং মোতাহের মাহমুদ হযরতের গোসল সম্পন্ন করেন। যতই সময় অতিবাহিত হচ্ছিলো ততই হযরতের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হচ্ছিলো। সোমবার সকাল থেকেই মানুষের ভীড় বাড়তে লাগলো। মাওলানা শাহ মুজহের মিয়া মানুষদেরকে জিকির করালেন এবং অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠে মোনাজাত করতে লাগলেন। তখন মানুষের কান্না আর আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছিলো। ফজরের পর বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিলো যে, আপনারা সিন্ধুর ব্লুজ সোসাইটিতে চলে যান। জানাযার নামায ওখানেই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু কেউ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলো না।

সোমবার: সকাল ৮টা:

খানেকাহে এমদাদীয়া আশরাফীয়া, সিন্ধুর ব্লুজ সোসাইটিতে হুজুরের লাশ মোবারক তাঁর কামরায় রাখা হয়। বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিলো, আপনারা কোনধরণের ফটোগ্রাফি একেবারেই করবেন না। অন্যথায় মোবাইল অথবা ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে নেওয়া হবে। যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। তখন পুরো এলাকা পরিণত হয়েছিলো জনসমুদ্রে। পুরো মাদরাসায় তিল ধারণের ঠাঁই ঠিলোনা।

সকাল ৮.৫৭ মিনিট.

মাওলানা শাহ মুজহের সাহেব কান্নারত অবস্থায় জানাযার নামায পড়ালেন।

নোট: জানাযা পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়। কারো জন্য অপেক্ষা করা হয়নি।

পুরো শহরেই জনতার ঢল নেমেছিলো। মসজিদে এমদাদের পাশেই ছিলো হযরতের ব্যক্তিগত কবরস্থান। পূর্বপরামর্শ অনুযায়ী হযরতের পৌত্র মাওলানা হাফেজ ইবরাহীম এবং আরেক পৌত্র মাওলানা ইসহাক কবরে নামলেন এবং নিজেদের প্রিয় দাদাকে কবরে শোয়ালেন্ । লাখো মানুষের চোখের পানিতে নিজস্ব কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়। এভাবেই ঝরে গেল আশরাফি কাননের আরেকটি পুষ্প। যে ফুলের সৌরভে মুখরিত হয়েছিলো দেশ-বিদেশ, যার সুগন্ধি মুগ্ধ করেছিলো পুরো মুসলিম উম্মাহকে।

পরিশেষে, হে আল্লাহ! হে মহামহিম! আপনার এই প্রিয় বান্দাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চাসনে সমাসীন করুন। আপনারই এক প্রিয় বান্দা ড. ইকবালের ভাষায় বলবো,

আকাশ যেন তাঁদের সমাধিতে শিশির করে বর্ষণ/ সেই ঘরের যেন যতন করে চিরকাল সবুজের আবরণ!

আমরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাঁদের পদাংক অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
হাফেজ মাও. মুহা. রিদওয়ানুল কাদের উখিয়াভী

মোবাইল: ০১৮১২-৭৬৬৮৯৩