টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২০ কেজি স্বর্ণসহ যাত্রী আটক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৩
  • ১৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Gold-ctg-bg2শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২০ কেজি ওজনের স্বর্ণের বারসহ মীর মো.শাহনেওয়াজ মুর্শেদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তার লাগেজ তল্লাশি করে আরও প্রায় ৪০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি বিমানযোগে মধ্যপ্রাচ্যের মাস্কাট থেকে চট্টগ্রামে আসার পর তাকে স্বর্ণের বারসহ আটক করা হয়। সকাল ১০টার দিকে এ ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল।

ইমিগ্রেশন পুলিশ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ট্রাফিক বিভাগ, কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী কমিশনার মো.মইনউদ্দিন বাংলানিউজকে স্বর্ণের বার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, মো. শাহনেওয়াজ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বহনকারীদের একজন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশে অবৈধ উপায়ে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজটি করে থাকেন।

আটক হওয়া মীর মো. শাহনেওয়াজ মুর্শেদের কাছ থেকে মোট ১৭ কেজি ২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ স্বর্ণের মোট দাম ৫ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

জানা যায়, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মাসকাট-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের ৪৮০৫৮৪ নম্বরের ফ্লাইটে মদ্যপানরত অবস্থায় নিজের আসনে ছিলেন মো. শাহনেওয়াজ। এসময় তার কাছে কালো পলিথিনের একটি ব্যাগ ছিল।

সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের ক্রুরা ব্যাগে কী রয়েছে জানতে চাইলে মো. শাহনেওয়াজ তাকে বলেন, ব্যাগে অস্ত্র রয়েছে। শাহনেওয়াজের উত্তরে পাইলটের সন্দেহ জাগে। তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। কালো পলিথিনের ভেতর কালো কাপড়ের বেল্টে কাগজ দিয়ে মোড়ানো চারটি রোল ছিল। এ চারটি রোলে থাকা ১৪৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি স্বর্ণের বারের ওজন ১০ তোলা। এ হিসেবে ১৪৬টি বারের ওজন ১৪৬০ তোলা। দুবাইয়ের এসব স্বর্ণের মধ্যে ভালকানবি ও আল ইত্তিহাদ এ দু’ধরণের স্বর্ণ  রয়েছে।

প্রথমবারেই ধরা!

আটকের পর মো. বাংলানিউজের সঙ্গে শাহনেওয়াজের সঙ্গে আলাপ হয়। এসময় তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মত স্বর্ণের বার নিয়ে এসেছেন। আর প্রথমবারেই পুলিশে হাতে ধরা পড়েছেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘মাসকাটের শফি ও বরকত নামের দু’জন আমাকে স্বর্ণের বারগুলো তুলে দেন। আর আমার মুঠোফোন নম্বর ঢাকায় তাদের লোককে দেওয়া আছে আমাকে জানান।’

মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর শফি-বরকতের লোক এসে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে আমি ওই লোককে চিনি না।’

মধ্যপ্রাচ্য নিয়মিত যাতায়াত ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে আতাঁত:

চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ থেকে ২০০০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বোয়ালখালীর খরনদ্বীপের বাসিন্দা মীর মো. মুছার ছেলে মো. শাহনেওয়াজ। এরপর মধ্যপ্রাচ্য চলে যান।

মো. শাহনেওয়াজ সম্প্রতি নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্য নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৮-১০ বার দুবাই-মাসকাট যাওয়া আসা করেন তিনি। দুবাইয়ে তিনি আবু নাছের নামে এক লোকের গাড়ি চালক ছিলেন।

ওখানেই তিনি চোরচালান চক্রের সঙ্গে জড়িযে পড়েন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন ধরণের অবৈধ পণ্য তিনি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ধরা পড়ার আগে তিনি থান কাপড় নিয়ে এসেছিলেন। এসব কাপড় ঢাকার একটি বাজারে বিক্রি করেন। এসময় তাকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কিংবা বিমান কর্তৃপক্ষ কেউ আটক করেনি বলে জানান।

আরও স্বর্ণালংকার আটক:

এদিকে আটকের পর তার লাগেজ তল্লাশি করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসময় তার লাগেজ থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ।

এসব স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল ৪৭টি আংটি, ১৪টি লকেট, ২৯টি কানের দুল, আটটি হাতের চুড়ি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মাহবুব উজ জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘শাহনেওয়াজের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। তার ব্যাগ তল্লাশি করে স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। অবৈধ ভাবে এসব স্বর্ণের বার বহন করায় তাকে আটক করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী কমিশনার মো.মইনউদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, যাত্রী মীর মো.শাহনেওয়াজ মুর্শেদ মাস্কাট থেকে এসেই ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমানে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। ওই যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় বিমানের ক্রুরা তল্লাশি করে তার কাছে স্বর্ণের বার থ‍াকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT