টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ কবে?

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১২
  • ২২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যতগুলো উচ্চাভিলাষী ও বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, তার অন্যতম হচ্ছে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুনধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ। এক হাজার ৮৫২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ঝিলংঝায় প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। আগামী ২০১৪ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ০.০১ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এমন ধীরগতির চিত্রে এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান সবাই।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ সংকটই এই ধীরগতির মূল কারণ। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় বলা হয়েছিল, চীন ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এতে অর্থায়ন করবে। কিন্তু গত দুই বছরে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বর্তমানে হন্যে হয়ে বিকল্প উন্নয়ন সহযোগী খুঁজছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পে অর্থায়ন করতে ইতিমধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংককে (আইডিবি) অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন আইডিবি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ আয়োজনে এক কর্মশালায় যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আইডিবির আঞ্চলিক পরিচালককে রেলের এ প্রকল্পে অর্থায়নের অনুরোধ জানান। যোগাযোগমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইডিবির আঞ্চলিক পরিচালক প্রস্তাব গ্রহণ করে অর্থ বিনিয়োগের আশ্বাস দেন। এ আলোচনার পথ ধরে আইডিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে গত সপ্তাহে ইআরডিকে চিঠি দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তবে আইডিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিতে কিছুটা দেরি হবে। কারণ, বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কমিটি আছে। এ প্রকল্পে আইডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হবে- না অন্য কোনো উন্নয়ন সহযোগীর কাছে চাওয়া হবে, তা ওই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে। তবে এ মুহূর্তে আইডিবি এত টাকা দেবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, দুই সপ্তাহ আগে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে আইডিবির বোর্ড সভায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই প্রকল্পে ১৬ কোটি ডলার ঋণ পেতে গত ২৫ এপ্রিল পুনরায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) চিঠি দিয়েছিল ইআরডি। কিন্তু এডিবি এখনো লিখিত কোনো জবাব দেয়নি।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ‘দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের নিকটে ঘুনধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৭০ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্য বাবদ এক হাজার ১৮২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে এ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আর যা খরচ হয়েছে, সব সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থ। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ১০ কোটি টাকার মধ্যে আট কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণে। চলতি বছর এ প্রকল্পের জন্য মাত্র এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার মোট ১২৮ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, রামু, ঈদগাহ, কক্সবাজার, উখিয়া মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ৪৭টি ব্রিজ, ১৪৯টি কনক্রিট বঙ্ কালভার্ট, ৫২টি কনক্রিট পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন এলাকা কক্সবাজারের সঙ্গে রেলসংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি প্রস্তাবিত ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডরে প্রবেশের সুবিধা হতো।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT