টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

চট্টগ্রামে ৩ খুনের কথা স্বীকার করেছে গৃহশিক্ষক তারেক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১২
  • ১৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

দামি মোবাইল ফোন সেটের প্রতি লোভ এবং পড়ানো নিয়ে বিরোধের জের ধরে আরব আমিরাত প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন গৃহশিক্ষক তারেক।

শুক্রবার সকালে তারেক চৌধুরী (২২) চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) সম্মেলন কক্ষে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করলেও পুলিশ বলছে অন্যকথা।

তারা বলছেন, শুধু মোবাইলের কারণে এ ধরনের নিষ্ঠুর কাজ সম্ভব নয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর চট্টগ্রামের খতিবের হাট এলাকায় ‘মা মনি ভিলা’ নামে একটি ভবনের পঞ্চম তলার খুন হয় প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ডলি আক্তার (৩০), তার ছেলে আলভী (১০) ও মেয়ে আদিবা পায়েল (৬)।

ঘটনায় দুই দিন পর গ্রেপ্তার করা হয় গৃহশিক্ষক তারেক চৌধুরীকে। তারেক কুলগাঁও সিটি করপোরেশন কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। হামজারবাগ এলাকায় চাচার বাসায় থেকে তিনি পড়াশোনা করতেন। গত এপ্রিল থেকে তারেক গৃহবধূ ডলির দুই সন্তানকে পড়ানো শুরু করেন।

পুলিশের উপস্থিতিতে খুনের বর্ণনা দিয়ে তারেক সাংবাদিকদের বলেন, “ডলি আক্তার নিচে গেলে আলভীকে গলায় ধরে রান্না ঘরে নিয়ে যাই। প্রথমে রান্নাঘরে রাখা ছুরি দিয়ে চেষ্টা করেও কিছু না হলে পাশে থাকা দা দিয়ে মাথায় আঘাত করি। এ সময় বাথরুমে থাকা আদিবা বের হয়ে এলে তাকে গলা টিপে ধরি এবং দায়ের আঘাতে হত্যা করি।”

দুই শিশুকে হত্যার পর ডলি আক্তার ঘরে ফিরলে তাকেও মাথায় ও মুখে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তারেক।

গৃহশিক্ষক দাবি করেন, “মোবাইল ফোন নেয়া ছাড়াও পড়ালেখা নিয়ে বেশি কথা বলায় ডলি আক্তারের প্রতি বেশি ক্ষোভ ছিল। তাছাড়া উনি বেতন দিতে দেরি করতেন। কতক্ষণ পড়াবো সেটা নিয়েও আপত্তি করতেন।”

অবশ্য সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলছেন, দুই শিশুসহ তিন জনকে খুন করার জন্য মোবাইল ফোনের প্রতি লোভ কোনো যুক্তি হতে পারে না। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

এদিকে তারেককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিহত ডলি আক্তারের স্বামী বিদেশে থাকতেন। প্রবাসীর স্ত্রী হওয়ায় তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বাসনা পূরণে ব্যর্থ হয়েই তারেক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ডলির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের নমুনা দেখে এমনটি ধারণা হচ্ছে।”

তবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়টি তারেক স্বীকার করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমশিনার জানান, ডলিকে খুনের পর তার শরীরের নিম্নাঙ্গে দা দিয়ে কোপ দেয় তারেক। তার শরীরের ওপরের অংশেও নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে।

“এ কারণে প্রাথমিকভাবে আমরা ধর্ষণের ঘটনা বলে ধারণা করেছিলাম।”

অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সামনের মাস থেকে ডলি আক্তার ছেলে-মেয়েদের পড়াতে না আসার কথা ওই শিক্ষককে বলেছিলেন। তবে কী কারণে বলেছিলেন তা পরিষ্কার নয়।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় পরিবার

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ডলি আক্তারের স্বামী আনোয়ার হোসেন ও বাবা মোহাম্মদ ইসহাক।

আনোয়ার হোসেন বারবার বলতে থাকেন, যেভাবে ওই পাষ- নৃশংস হত্যাকা- ঘটিয়েছে ঠিক সেভাবে যেন তার মৃত্যু কার্যকর করা হয়। শুধু মোবাইলের জন্য এ হত্যাকা– এমন দাবিও মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “শুধু মোবাইলের জন্য এ হত্যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয় তারেককে

পুলিশের তিনটি পৃথক তদন্ত দল দুই দিনের চেষ্টায় বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে তারেককে। আগে থেকেই তাদের সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে ছিল এই গৃহশিক্ষক। তবে কোনোভাবেই তাকে শনাক্ত করতে পারছিলেন না তারা।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সদীপ কুমার দাশ জানান, গৃহশিক্ষক হিসাবে তারেক যোগ দেয়ার আগে স্থানীয় লাইম লাইট স্কুলের শিক্ষিকা গৃহবধূ ডলির সন্তানদের সকালে পড়াতেন। তার মাধ্যমে রেদোয়ান নামের এক যুবকের পরিচিত তারেককে গত এপ্রিল থেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

রেদোয়ানের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থলে এনে তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সময় তার হাতের তিনটি আঙ্গুলে ক্ষত ছিল।

সদীপ কুমার জানান, হামজারবাগ এলাকায় এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে তারেক তার চাচার বাসায় চলে যায়। পরদিন ফটিকছড়ির নারায়ণ হাটে নিজ বাড়িতে চলে যায় সে। তারেকরে বাড়ি থেকে রক্তমাখা শার্ট, দা-ছুরি ও চুরি করা মুঠোফোন সেট দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “চট্টগ্রামে ৩ খুনের কথা স্বীকার করেছে গৃহশিক্ষক তারেক”

  1. a rokom gothonar jodi valo bhabe shasti na de ta hole a banglar mati te a rokom hazaro / lakho , case hobe amader desher chele meye lekha pora kemne korbe ki bhabe amra grohon juggu manush hobo ,, daily ek na ek khooner mamla bepar ta hsodhu ,, sho bichar na pawa, khoner bodla khoon, tokon kichu ta manush bhabbe na hole a drama cholte thakbe
    masoom bacchara ki dosh korse tader ki oporadh ??? ALLAH ANWAR SHAHEB abong tar poribar ke SOBOR KORAR TAWFIK DAAN KAROUK,,,
    ALLAH HAFEZ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT