হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

ঘুষের টাকাসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আটক

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: যশোরে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল কবীরকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা থেকে আসা কমিশনের ৯ সদস্যের একটি দল গতকাল বুধবার বিকেলে ফাঁদ পেতে তাঁকে আটক করে।

যশোরের দেশীয় মদ ব্যবসায়ী শেখ মহব্বত আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।

আটক নাজমুল কবীর ফেনী সদর উপজেলার বারাইপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার ব্যবসায়ী শেখ মহব্বত আলীর নাভারণে একটি দেশি মদের দোকান

রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নাভারণে তিনি ‘বাংলা মদের’ ব্যবসা করেন; কিন্তু তাঁর লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোরের উপপরিচালক নাজমুল কবীর ওই ব্যবসায়ীর লাইসেন্স প্রায় তিন মাস আগে নিজের হেফাজতে নেন।

ব্যবসায়ী শেখ মহব্বত আলীর অভিযোগ ছিল, তাঁর দেশীয় মদের ব্যবসার লাইসেন্সের জন্য তিনি গত জুলাই মাসে যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে আবেদন করেছিলেন। তাঁর কাছে লাইসেন্স বাবদ তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়; কিন্তু তিনি ঘুষ দিতে রাজি হননি। ঘুষ না দেওয়ায় ছয় মাস ধরে টালবাহানা করছিলেন উপপরিচালক নাজমুল কবীর। একপর্যায়ে ১০ দিন আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের টোল ফ্রি ১০৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে ৯ সদস্যের দল গঠন করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্তকর্তারা জানান, অভিযোগ করার পর তাঁদের পরামর্শে ব্যবসায়ী মহব্বত আলী লাইসেন্স নবায়নের জন্য দুই লাখ টাকায় রফা করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুলের সঙ্গে। গতকাল দুপুরে ঘুষের দুই লাখ টাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ে এসে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেন ওই ব্যবসায়ী। নাজমুল কবীর ওই টাকা রাখেন নিজ ড্রয়ারে। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে কমিশনের দলটি হানা দেয় সেখানে। তখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই ঘুষের ওই দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় উপপরিচালক নাজমুলকে।

নাসিম আনোয়ার বলেন, ‘অফিসে ঢুকে প্রথমেই উপপরিচালকের ড্রয়ারের চাবি নেওয়া হয়। ড্রয়ার খুলে দুই বান্ডেলে দুই লাখসহ আরো কয়েক বান্ডেল টাকা পাওয়া যায়।’

যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, উপপরিচালক নাজমুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.