হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদস্বাস্থ্য

ঘরে ঘরে জন্ডিস রোগী

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ::
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ও আগ্রাবাদের পর আশপাশের এলাকায়ও জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ছে। হালিশহর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে স্টিলমিল বাজার, উত্তরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের কদমতলী থেকেও জন্ডিস রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেকেই ঘরে চিকিৎস্যা নিচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সিটি করপোরেশনের হিসাবে হালিশহর, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, বন্দরটিলা, স্টিলমিল এলাকার প্রায় ২০ লাখ লোক জন্ডিসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার নতুন করে বেপারিপাড়া, আবিদরপাড়ায় আরও ৯৯ জন জন্ডিস রোগীর (হেপাটাইটিস-ই) সন্ধান মিলেছে। এ নিয়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৪৮ জনে।
সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, জন্ডিসের মূল চিকিৎসা হচ্ছে বিশ্রাম। যারা মুখে খেতে পারছে না তাদের শিরায় স্যালাইন দিতে হবে। জন্ডিস দুই থেকে তিন সপ্তাহের বিশ্রামে ভালো হয়।

গতকাল দুপুরে আগ্রাবাদের মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ এবং অন্তর্বিভাগে জন্ডিস রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে। অন্তর্বিভাগে ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। বহির্বিভাগে গতকাল প্রায় ২০ জনের মতো চিকিৎসা নিয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজিদুল ইসলাম বলেন, আগ্রাবাদ ও হালিশহরের পাশাপাশি কদমতলী, স্টিলমিল, দেওয়ানহাটের রোগীও পাওয়া যাচ্ছে। জন্ডিসের পাশাপাশি টাইফয়েডের রোগীও আসছে। টাইফয়েডও পানি ও খাবার থেকে হয়।

মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে দেওয়ানহাটের হাসনা আক্তার, স্টিলমিল বাজারের খাদিজা আক্তার রয়েছে। এ ছাড়া কদমতলীর জান্নাতুল ফেরদৌস এবং বন্দর এলাকার সালেহাও জন্ডিসের চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘরে ঘরে জন্ডিস রোগী
গতকাল দুপুরে দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কার্যালয়ের প্রাথমিক চিকিৎস্যাকেন্দ্রে দেখা যায়, জন্ডিস আক্রান্ত কয়েকজন সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, হালিশহর, আগ্রাবাদের পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছে। হালিশহরের নয়াবাজার এলাকায় গতকাল একটি অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম সোহেলের ভাষ্য, পানির কারণে এই জন্ডিস হচ্ছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (আজ) ওয়াসার সামনে মানববন্ধন করা হবে বলে জানান তিনি।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সিভিল সার্জন গতকাল দুপুরে উত্তর আগ্রাবাদ এলাকায় ঘরে ঘরে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেন।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে হালিশহরে প্রথম জন্ডিস ধরা পড়ে। এ সময় সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রচারপত্র বিতরণ করে তাদের দায়িত্ব শেষ করে। এর প্রায় দেড় মাসের মাথায় জুনের মাঝামাঝি হালিশহর ও আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় এক নারীসহ তিনজন জন্ডিসে মারা যান। তবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বরাবরই বলে আসছেন, তাঁদের পানিতে কোনো সমস্যা নেই। তারপরও পানির নমুনা নিয়ে উন্নত পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ শিল্প গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.