টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

গ্রেপ্তারের পর লোপা- মোবাইল ফোনে মিল্কির অবস্থান জানাই তারেককে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

65518_f4নূরুজ্জামান:  যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পরকীয়া কানেকশন খুঁজে পেয়েছে র‌্যাব।  টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি মিল্কির গাড়িচালক মারুফ রেজা সাগরের স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম লোপা (২৫)’র সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত তারেকের পরকীয়ার তথ্য এ খুনের তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। গতকাল তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন। র‌্যাব জানায়, মারুফের স্ত্রী লোপা’র মাধ্যমে মিল্কির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তারেক। ঘটনার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মারুফ তার স্ত্রীকে ফোনে জানায়, ‘বস্‌ ঈদের কেনাকাটা করার লাগি গুলশান যাইবো। আমারেও মনে হয় কিছু কিইন্যা দিবো। আগে আমরা ভাসাবিতে যামু। ওইহানে পছন্দ না হইলে সবশেষ শপার্শ ওয়ার্ল্ডে যাইবার পারি।’ ওই তথ্য পেয়েই লোপা ফোন করে তারেককে। র‌্যাবের হেফাজতে থাকা তারেকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই গত শুক্রবার গভীর রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর  রোডের ৩/এ নম্বর বাসা থেকে লোপাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ১-এর একটি দল। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব কর্মকর্তাদের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দেয় লোপা। বলে, মোবাইল ফোনে মিল্কির অবস্থান জানিয়েছে তারেককে। জিজ্ঞাসাবাদে লোপা আরও জানায়, গত এক মাসে মিল্কিকে দুই বার হত্যার চেষ্টা করে তারেক। কিলিং মিশন সফল করার জন্য মতিঝিলের টিঅ্যান্ডটি কলোনি, ইস্কাটন ও গুলশান এলাকায় কয়েক দফায় বৈঠক হয় শীর্ষ যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে। গত ১৫ই জুলাই গোলাম আযমের রায়ের আগে এবং পরে টানা চারদিন মিল্কির অবস্থান সম্পর্কে জানাতে তারেক তাকে অনবরত চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে তার স্বামী সাগরকে বিষয়টি কখনও জানাননি। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ভিডিও ফুটেজ দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে, তারেকই রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে হত্যা করেছে। র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কিসমত হায়াৎ বলেন, প্রথমে সাগরকে সন্দেহ করা হলেও তারেকের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মিল্কি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে লোপাও একজন। বারবার সে দাবি করেছে মিল্কির কারণে সে তার স্বামীর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত ছিল। মিল্কি খুন হলে সে তার স্বামীকে কাছে পাবে বলে ধারণা ছিল লোপার। তবে লোপার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা তাদের। তিনি আরও বলেন, খুনি চক্র প্রথমে ভাসাবি শোরুমের সামনে মিল্কিকে খুন করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। তবে সুবিধা না করতে পারায় তারা শপার্স শপিং মলের সামনে চলে আসে। তারেক সূক্ষ্ম কৌশলে প্রেমিকা লোপাকে কাজে লাগায়। মিল্কি ভাসাবি থেকে সাগরকে একটি ৫০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি কিনে দিতে চেয়েছিল। তবে দাম বেশি হওয়ায় সাগর তা নিতে চায়নি। র‌্যাব সূত্র জানায়, মিল্কির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল সাগর। দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই মিল্কির সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে থাকার কারণে স্ত্রী ও সংসারে সময় দিতে পারতো না। এ নিয়ে মিল্কির ওপর ক্ষিপ্ত ছিল লোপা। এই ক্ষোভ থেকে এক পর্যায়ে তারেকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে লোপা। গত এক বছরের পরকীয়ার সম্পর্কে লোপা দু’বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
আত্মগোপনে অনেকেই: মিল্কি হত্যার পর থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অনেক যুবলীগের নেতার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম আরিফ ও চিকিৎসক পাপ্পুকে ঘিরেও চলছে নানা কথা। পলাতক হিসেবে চিহ্নিত এরা এখন কোথায়- সে ব্যাপারে  গতকাল পর্যন্ত কোন তথ্য জানাতে পারছে না তার ঘনিষ্ঠরা। সূত্রমতে, এদের সবাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালেই আছে। তবে মহারথীদের নাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের গ্রেপ্তার করছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। তবে র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তারেক মারা যাওয়ার আগে হাসপাতালে র‌্যাবের কাছে তার গুরু হিসেবে চঞ্চলের নাম বলে গেছে। চঞ্চলের গ্রিন সিগন্যালেই মিল্কিকে গুলশান এলাকায় খুন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় তারেক।
৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ: মিল্কি হত্যাকাণ্ডের রাতেই উত্তরার ফরচুন হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর এলাকার যুবলীগ কর্মী এইচ এম জাহিদ সিদ্দিকী তারেক, তুহিনুর রহমান, সৈয়দ মোস্তফা আলী রুমি, মোহাম্মদ রাসেদ মাহমুদ, সাইদুল ইসলাম নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ সুজন হাওলাদার ও চঞ্চলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরকে। এদের মধ্যে র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত হয় তারেক। বাকি সাত জনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছাড়া ছয় জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা র‌্যাবের হাতে হস্তান্তর করার সময় রিমান্ডের আসামিদেরকেও র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করে পুলিশ। গত ২৯শে জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায়  ঢাকা মহানগর যুবলীগ (দক্ষিণ)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কি মোহাম্মদপুর থানাধীন স্যার সৈয়দ রোডের ৬/৬ নম্বর বাড়ি ‘‘সম্প্রীতি’’ থেকে বের হয়। পরিবারের সদস্যদের ঈদের কেনাকাটা করার জন্য গুলশানের দিকে রওনা হয়। রাত আনুমানিক ১টা ৭ মিনিটে গুলশান-১, রোড নং-১২৩, হোল্ডিং নম্বর-৪৩/বি শপার্স ওয়ার্ল্ডে প্রবেশের সময় মূল ফটকে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। সন্ত্রাসীরা মিল্কির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেল ও গাড়িযোগে পালিয়ে যায়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT