টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

খালেদার গুলশান অফিস থেকে তথ্য ফাঁসের অডিও এবং ভিডিও সম্বলিত ১৭টি কলম উদ্ধার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ নভেম্বর, ২০১২
  • ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক…   কোনও তথ্যই গোপন রাখতে পারেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিজের কক্ষে বসে তিনি বিএনপির রাজনীতি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ছক, সরকারবিরোধী আন্দোলনের কৌশলসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গোপন যেসব পরিকল্পনা করেন, এর সবই মুহূর্তেই ফাঁস হয়ে যায় বাইরে। তার পরিকল্পনা ও ছকগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে জেনে যান সরকারপক্ষ থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। নিউজ পয়েন্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম

গুলশান কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপি নেতা থেকে শুরু করে কূটনীতিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী নেতাসহ দলের মাঠনেতাদের যত আলাপচারিতা হয়েছে, এর প্রায় সবটাই এখন জানা আছে সরকারপক্ষের, এমন দাবিও রয়েছে। গুলশান কার্যালয় থেকে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি এতদিন গুঞ্জন এবং কিছু নেতার ব্যক্তিগত আলাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গুঞ্জনের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারপারসনকেও অবহিত করেছেন বিশ্বস্ত দুএকজন নেতা। তারপর থেকে বিষয়টি সন্দেহের তালিকায় রেখে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সামনে পরিকল্পনাকেন্দ্রিক আলোচনায় সতর্কতার কৌশল নিয়ে চলছিলেন বেগম জিয়া। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর রাতে গুলশান কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ (নিজের কক্ষসহ) থেকে ১৭টি কলমসম্বলিত অডিও এবং ভিডিও তথ্যপাচার যন্ত্র উদ্ধারের পর কপালে ভাঁজ পড়ে তার। তিনি নিশ্চিত হয়ে যান, তথ্যপাচার যন্ত্রের মাধ্যমেই এতদিন বিএনপির রাজনীতিসহ নানা বিষয়ের পরিকল্পনাগুলো ফাঁস হয়েছে।

তথ্যপাচার যন্ত্রগুলো কারা গুলশান কার্যালয়ের কক্ষে রেখেছেন, এখন সে বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ করছেন বেগম খালেদা জিয়া। গুলশান কার্যালয়ের একাধিক স্টাফকে এ জন্য সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন তিনি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার সিদ্ধান্তর রয়েছে তার। এ ঘটনার তথ্য উদঘাটন এবং নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা বের করতে বিশ্বস্ত লোকদের দিয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন তিনি। ভারত সফরশেষে দেশে ফিরেই তিনি কঠোরতার প্রমাণ দিতে পারেন।

সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গুলশান কার্যালয়ে যান দেশের একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী একান্ত আলাপশেষে খালেদা জিয়ার কক্ষ থেকে বের হন তিনি। একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা তার পথরোধ করেন। ব্যবসায়ীকে অনেকটা ‘শাঁসিয়ে’ তিনি বলেন, ‘আপনি ম্যাডামকে বেশ কিছু বিষয়ে কেন অভিযোগ করেছেন? এটা ঠিক হয়নি।’ প্রশ্ন শুনেই হতভম্ব হয়ে যান ওই ব্যবসায়ী। এ সময় তিনি কার্যালয় থেকে বের হয়ে সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে কী কথা বলেছি, তা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বাইরে থেকে কীভাবে জানল?’ সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটির পরামর্শে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ওই ব্যবসায়ী তার চশমা ভুল করে রেখে আসার অজুহাতে পুনরায় খালেদা জিয়ার কক্ষে যান। বিএনপি চেয়ারপারসনকে তথ্য পাচারের বিষয়টি তিনি খুলে বলেন (তবে যে তার পথরোধ করেছিলেন, তার নাম বলেননি)। তিনি খালেদা জিয়াকে আরও বলেন, ‘ম্যাডাম আপনার সঙ্গে যা কিছু কথা হয় সঙ্গে-সঙ্গে তা বাইরে পাচার হয়ে যায়। আমার মনে হয় আপনার কার্যালয়ের ভেতরে ও আপনার রুমে এমন কোনও যন্ত্র আছে, যার মাধ্যমে মুহূর্তেই তথ্য পাচার হয়ে যায়।’ ওই ব্যবসায়ীর কথা শোনার পর তাৎক্ষণিক কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজের কক্ষে তলব করেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রায় সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার কক্ষে তাৎক্ষণিক হাজির হয়। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি এম এ কাইয়ুম এসময় উপস্থিত ছিলেন না। তারা খালেদা জিয়ার স্টাফ তলবের কিছুক্ষণ আগেই কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।

সূত্র আরও দাবি করেছে, খালেদা জিয়ার নির্দেশে ১০ অক্টোবর রাতেই গুলশান কার্যালয়ের সব কক্ষ, কক্ষে থাকা পর্দার সিলিং, ফুলের টব, কার্পেটসহ নান আসবাবপত্র তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের রুম, কনফারেন্স রুম, ফুলের টব, পর্দার সিলিং ও অন্যান্য রুম থেকে অডিও এবং ভিডিও সম্বলিত ১৭টি কলম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কলমগুলো পরে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়, সেগুলো গোপন তথ্যপাচার যন্ত্র। কার্যালয়ের অভ্যন্তরে আরও কোনও তথ্যপাচার যন্ত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে গত ১১ ও ১২ অক্টোবরও তল্লাশি চালানো হয় গুলশান কার্যালয়ের সব স্থানে। তবে ওই দুদিন আর কোনও তথ্যপাচার যন্ত্র পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে গুলশান কার্যালয়ের অনেক স্টাফদের মধ্যেই চাকরি এবং দায়িত্ব হারানোর শঙ্কা বিরাজ করছে। স্টাফদের ধারণা, ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেই খালেদা জিয়া কার্যালয়ের স্টাফদের বিষয়ে কঠোর হবেন।

তবে এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গুলশান অফিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুমের কাছে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT