টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কোটি টাকার পাহাড় ভাড়ায় নিশ্চিন্ত বনবিভাগ এখনো ৫ লাখ মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ জুলাই, ২০১২
  • ১৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার
নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ে বসবাসকারী প্রায় ২ লাখ পরিবারের ১০ লাখ মানুষ নামছেননা। বছরে পর বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও তাদের কোনভাবেই বোঝানো সম্ভব হয়নি, এখানে থাকলে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। বর্ষা এলেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। সেই সময় স্থানীয় প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ঝুঁকির্পূণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে দায়িত্বশীলরা কোনদিনই মন থেকে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে চেষ্টা করেননা।

অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে, জেলার ৮ উপজেলায় বর্তমানে মোট কত একর বনভূমি অবৈধ দখলদারদের হাতে রয়েছে সে ব্যাপারে স্থানীয় বনবিভাগ মোটেও মাথা ঘামান না। কারণ মাস শেষ হলেই অবৈধ বসবাসকারী প্রায় সব বাড়িঘরের মালিকদের কাছ থেকে কক্সবাজারে কর্মরত বনবিভাগ কর্মীরা ভাড়া তোলেন। বনবিভাগের কতিপয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্কারায় এলাকাভিত্তিক গার্ড, ভিলেজার ও বিট কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে এসব ভাড়ার টাকা আদায় করেন বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের প্রায় বেশিরভাগ বনভূমি রয়েগেছে সরকারের হাতছাড়া। বর্তমানে সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা, স্থানীয় চোর, ডাকাত এবং বিভিন্ন শ্রেণির অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

সুত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৫ জুন জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ৬ সেনা সদস্যসহ ৫৭ জনের প্রাণহানির পর ২০১২ সালের ২৭ জুন একই ঘটনায় মারা গেছেন আরো ৪৯ জন। পাহাড় কর্তন, বৃক্ষ নিধনসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টের ফলে পাহার ধসে যেন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এরপরও প্রাণের মায়া নেই কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, মহেশখালীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষদের। সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পাহাড় ধস হয়েছে। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীরা। শুধুমাত্র কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধস হওয়ায় শহর ও আশ পাশের এলাকার হাজারো পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছে। আতঙ্কে ভুগছে অনেকেই। অব্যাহত পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে সতর্ক করার পরও সেখান থেকে সরছেন না কেউই। পাহাড়ের পাদদেশের বসবাসকারীদের অভিযোগ, তাদের পুর্ণবাসন না করায় তারা যাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ঝুঁকিতে থাকার পরও এখনো বন্ধ হয়নি পাহাড় কাটা। বৃষ্টি আসলেই পাহাড় কাটার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। ফলে পরিবেশ হয়ে উঠে সংকটাপন্ন। প্রতিদিন পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে নিত্য নতুন বসতি। ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে মারাত্মকভাবে। সবচেয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে ২০১১ সালের ১৫ জুন। ওই সময় বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে রামু উপজেলার হিমছড়িস্থ সেনাবাহিনীর একটি ক্যা¤েপর ছয় সদস্যসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মারা যায় ৫৭ জন। আর এর পর চলতি বছরের ২৭ জুন কক্সবাজার জেলা ও বান্দরবান জেলার লামা এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে মারা যায় অর্ধ শতাধিক। এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বর্ষা মৌসুম আসলেই জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতা চলে নিত্য নতুন কায়দায়। আর এ পাহাড় কাটার পেছনে জড়িত রয়েছে একশ্রেণীর ভূমিদস্যু। এসব ভূমিদস্যুরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পাহাড় কাটার মত হীন কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

সুত্র জানায়, বর্তমানে পাহাড় কাটার ঘটনা বেশির ভাগ ঘটছে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং এলাকা, পাহাড়তলী, ইউসুফের ঘোনা, বাদশাঘোনা, ঘোনারপাড়া, বৈদ্যঘোনাসহ শহরের একাধিক এলাকায়। প্রতিদিন শত শত ঠেলাগাড়ি করে এক শ্রেণীর লোক মাটি কেটে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দিচ্ছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম নিরবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত সমৃদ্ধ পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার শহর মনোরম পাহাড় বেষ্টিত। কিন্তু বর্তমানে কক্সবাজারের রক্ষাকবচ এ পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করছে ভূমিদস্যুরা। ফলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের মাধ্যমে বড় ধরণের প্রাণহানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, এক শ্রেণীর ভুমিদস্যুরা বর্ষা কিংবা শুস্ক মৌসুম কিছুই বুঝেনা পাহাড় কাটতেই থাকে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় অত্যাসন্ন কক্সবাজারের জন্য। এ বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনকে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়েছে এবং প্রশাসনের লোকজনও তাদের প্রাণহানি থেকে বাঁচাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সুত্রমতে, কক্সবাজার জেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের কাছ থেকে বনবিভাগ কমপক্ষে মাসে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি টাকা উপার্জন করে। পরিবারপ্রতি ৩শ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার এবং ক্ষেত্র বিশেষ দেড় হাজার টাকা করে প্রায় ২ লাখ পরিবার থেকে উপার্জিত হচ্ছে এই টাকা। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহারকারী এলাকা ভিত্তিক কিছু টাউট বাটপার ও দূর্নীতিবাজরা মিলেই বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে এই প্রথা জিঁইয়ে রেখেছে। মূলত তাদের কারণেই জেলার কোটি কোটি টাকার সরকারি বনজ সম্পদ উদ্ধার করা যাচ্ছেনা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT