টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা!

কাল কোরবানির ঈদ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩
  • ২৭০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

imagesকাল হজরত ইব্রাহিম আ:-এর ত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত ঈদের দিন। পবিত্র ঈদুল আজহা, কুরবানির  ঈদ। এদিন ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানেরা। মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তুকে কুরবানি দেয়ার শিক্ষাই এই ঈদের শিক্ষা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে এই শিক্ষাই গ্রহণ করবেন মুসলমানেরা। ঈদুল আজহা মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিম আ: ও তার ছেলে হজরত ইসমাঈল আ:-এর সাথে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম আ: স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ছেলে ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি করতে গিয়েছিলেন। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি ছেলেকে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে সাথে সাথে ছেলে ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কুরবানি করার নির্দেশ আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিম আ:-এর সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কুরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি করার পর আনন্দ থেকেই উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। ইসলামে কুরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের সূরা কাউসারে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে ‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়–ন এবং কুরবানি করুন।’ সূরা হজে বলা হয়েছে ‘কুরবানি করা পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’ কুরবানির মূল উদ্দেশ্যই তাকওয়া বা খোদাভীতি। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে ‘এগুলোর গোশত আমার কাছে পৌঁছায় না। কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ রাসূল সা: বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কুরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।’ অন্যত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানি দিলো না সে যেন আমার ঈদগাহে না যায়।’ বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে মানব জাতির সূচনা থেকেই কুরবানির প্রচলন। হজরত আদম আ:-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কুরবানি দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে ‘আপনি তাদের আদমের দুই ছেলের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়ে কিছু কুরবানি করেছিল। তখন তাদের একজনের কুরবানি গৃহীত হয়েছিল এবং অন্যজনেরটি গৃহীত হয়নি’ (রূরা মায়েদা-২৭)। তবে ইসলামে যে কুরবানির বিধান তা হজরত ইব্রাহিম আ:-এর সাথে সম্পর্কিত। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের ঘটনা। ৮৫ বছর বয়সে আল্লাহ তাকে সন্তান দান করলেন। আবার আল্লাহর পক্ষ থেকে সে সন্তানকেই কুরবানি করার নির্দেশ এলো স্বপ্নযোগে। পরীক্ষায় বাপ-বেটা দুইজনেই উত্তীর্ণ হলেন। একজন নিজ ছেলেকে কুরবানি করার জন্য, আরেকজন নিজে কুরবানির জন্য মাথা নুয়ে দেন আল্লাহর নির্দেশ পালনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের জন্য। আল্লাহর সন্তুষ্টিই কুরবানির মূল উদ্দেশ্য। তার পথে প্রয়োজনে জীবন ও সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গের জন্য তৈরি থাকার শিক্ষাই এর মধ্যে নিহিত। এ জন্যই পশু জবাইয়ের সময় বলা হয়- ‘ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ্ইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ অর্থাৎ নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক।’

গরু, মহিষ, উট, ভেড়া, ছাগল, দুম্বা ইত্যাদি প্রাণী দিয়ে কুরবানি দেয়া যায়। ৯ জিলহজ হাজীদের আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবির উচ্চারণ করা জরুরি-‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর আল্লাহ আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ কুরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করে একভাগ আত্মীয়স্বজনকে, আরেক ভাগ গরিবদের মধ্যে বণ্টন এবং বাকি একভাগ নিজেরা খাওয়া সুন্নত। ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। কুরবানি ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের যেকোনো দিন করা যায়। তবে প্রথম দিন করা উত্তম। এই ঈদের প্রস্তুতির মধ্যে প্রধান বিষয় হলো পশু ক্রয়। অবশ্য যারা ঈদের উৎসবে রাজধানী ঢাকা বা অন্য কোনো শহরে কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন, তাদের প্রস্তুতি শুরু হয় যানবাহনের টিকিট সংগ্রহ করা থেকে বাক্সপেটরা গোছানো দিয়ে। ঈদের যাত্রায় ভোগান্তি কম নয়, এবারও তার হেরফের হয়নি।

তবু প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের আনন্দ, আপন ঠিকানায় ফেরার অনুভূতির তুলনায় যাত্রার দুর্ভোগ তুচ্ছ জ্ঞান করেই সপরিবারে গ্রামে ফিরে গেছেন অসংখ্য মানুষ। কুরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বুধবার সকালেই মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে আসবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। নামাজের খুতবায় তুলে ধরা হবে কুরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় করবেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে। নামাজ শেষে অনেকেই যাবেন কবরস্থানে স্বজনের কবর জিয়ারত করতে। আনন্দের দিনে অশ্রুসিক্ত হয়ে চিরকালের জন্য চলে যাওয়া স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে করজোড়ে মোনাজাত করবেন তারা। নামাজ শেষে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে পশু কুরবানি এই ঈদের প্রধান কর্তব্য।

Related Posts

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT