টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

কাজের সন্ধানে রোহিঙ্গারা …

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কঙবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। প্রায় ৫০ হাজার অসচ্ছল রোহিঙ্গা নাগরিক তাদের জীবন জীবিকার অন্বেষনে প্রতিদিন ভোরে কাজের সন্ধানে বস্তি ছেড়ে শহর বন্দর গ্রাম থেকে গ্রামান্তর হাট বাজারে ছুটে চললেও এদের নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। মাঝে মধ্যে পুলিশ যাত্রীবাহী গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক করে পুশব্যাক করলেও বৃহত্তর অংশ থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে স্থানীয় নাগরিক জীবন যাপনে বিরাজ করছে নানামুখি সমস্যা, দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা। বিশেষ করে শ্রমের বাজার রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে স্থানীয় খেটে খাওয়া অসহায় পরিবারগুলোকে পোহাতে হচ্ছে মানবেতর দিনযাপন।

জানা গেছে, ২০১০ সালে সীমান্তের নাফ নদী অতিক্রম করে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা স্ব-পরিবারে অনুপ্রবেশ করে উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড শরণার্থী শিবিরের পার্শ্বস্থ বনভূমির সৃজিত বাগান ধ্বংস করে ঝুপড়ি বেধে আশ্রয় নেয়। এসময় উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম  মোস্তফা বনকর্মীদের নিয়ে রোহিঙ্গাদের দখলীয় বন বাগান উদ্ধার করতে গেলে রোহিঙ্গারা বনকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।

ঘটনাস্থলে বিট কর্মকর্তাসহ ৫ জন বনকর্মী আহত হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নিদের্শক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ করিম পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এসময় বিদেশী সাহায্য সংস্থার চাপের মুখে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিলেও তাদের খাদ্যসহ যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা না করার জন্য রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত এনজিওগুলোর প্রতি নিদের্শ প্রদান করে জেলা প্রশাসন। সরকারের অনুমতিক্রমে এম এস  এফ হল্যান্ড ও এসিএফ ওই সব অবৈধ রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা, সুপেয়পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা দিয়ে আসছে।

এদিকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ায় বর্তমানে ওই রোহিঙ্গা বস্তিতে নীরব দুভিক্ষ চলছে বলে বস্তিতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অভিমত।

গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখা যায় অপরিচ্ছন্ন নোংরা পরিবেশে রোহিঙ্গারা দৈনন্দিন জীবন যাপন করছে। ঝুপড়িতে বসবাসরত মরজান বিবি (৫৫) নামের এক মহিলা জানালেন, বড় ছেলে নবী হোছন (২৮) মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হয়ে গেছে বছর দেড়েক আগে। বর্তমানে তার বউ তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করতে হচ্ছে। পাশের ঝুপড়ির বৃদ্ধ হাকিম আলী জানালেন, দিনের বেলায় ভিক্ষা করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকম বেঁেচ আছি। বস্তির রোহিঙ্গা মহিলা কুলসুমা বেগম (৩৫) জানান, এখানে কোন এনজিও বা বেসরকারি সংস্থার লোকজন সাহায্য করতে আসলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ভয়ে কেউ সাহায্য সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনা। রোহিঙ্গা এনায়েত উল্লাহ (৪৫) জানালেন, অভাব অনটনে বিনা চিকিৎসায় কত রোহিঙ্গা শিশু-বৃদ্ধ মারা গেছে তার কোন হদিছ নেই। বস্তির রোহিঙ্গা যুবক আলম (২২), সোনা মিয়া (১৮) ও রফিক (১৪) জানালেন, লোকালয়ে কাজ করতে গেলে পুলিশ আটক করে মায়ানমারে ফেরত পাঠায়। এই ভয়ে অনেকেই বস্তির বাইরে যেতে চায়না। তবুও জীবন জীবিকার তাগিদে রোহিঙ্গারা ভোরে ক্যাম্প পুলিশকে ম্যানেজ করে বিভিন্নস্থানে কাজের সন্ধানে চলে যায়। সারাদিন কাজকর্ম করে তারা আবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পে ফিরে এসে।

কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে বসবাসরত প্রায় অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বাসা-বাড়ি, সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজসহ চাষাবাদের কাজে কম মজুরীতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় শ্রমের বাজার রোহিঙ্গাদের দখলে চলে গেছে বলে জানালেন উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব অবৈধ রোহিঙ্গার কারণে শুধু শ্রম বাজার নয় এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ও সামাজিক পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল উদ্দিন জানান, এসব রোহিঙ্গাদের সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া যাচ্ছে না বিধায় তারা বেঁচে থাকার তাগিদে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে নানা ধরনের কাজ-কর্ম করবে। এসময় পুলিশ যদি কোন রোহিঙ্গা নাগরিককে হাতে নাতে পায় তাহলে তাদের আটক করে মায়ানমারে ফেরত পাঠাবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT